Showing posts with label কথোপকথন - ১ ফাইভ ডি আর্থ. Show all posts
Showing posts with label কথোপকথন - ১ ফাইভ ডি আর্থ. Show all posts

Monday, June 22, 2026

কথোপকথন -১ ফাইভ ডি আর্থ

 

-এই ছেলে এত ফর্শা ক্যান? আমরা না কালা? কালা জাত না আমাদের ?

-কালা আর বাইট্যা।

-তাহলে এইটা এত লম্বা ক্যান। লম্বা আর ফর্শা।

-মনে হয় হাইব্রিড।

-কিসের সাথে হাইব্রিড?

-ক্যাঙ্গারুর সাথে অথবা লম্বা ধরণের  বানরের সাথে।

-ফাল পাড়তে পারে?

-নিশ্চয়ই পারে। পরিস্থিতিতে পড়লে দেখবা লাফও দিতে পারবে। 

পূর্বকথা- 

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল দুই বান্ধবী। হঠাৎ তাদের চোখে পড়লো আলখাল্লা পরা লম্বা, ফর্শা একটা ছ্বেলে। তারপর তাদের এই কথোপকথন।

-তার মানে লাফ দিতে পারে, আবারও ফালও দিতে পারে।দেখতেও সুন্দর। সবদিক দিয়ে এত গুণ।দেশের উন্নতি, দশের উন্নতি।

-না, তা না। 

-তাহলে?

-জাতের উন্নতি।কারণ হাইব্রিড করে পুরো জাতকে উন্নত করে ফেলা যায়। এখন দেখ না বলছে সব রোগা বালাই সেরে যাবে। আলঝাইমার্স আর থাকবে না। কোন এক দেশে বলে ক্যান্সারের  টিকাও আবিষ্কার হয়েছে। মানুষ নিরোগ হবে। একদিন অমরও হবে। 

- অমর হলে কেমন লাগবে?

-হাঁসফাঁশ লাগবে। ছটফট লাগবে। বোরিং লাগবে। কিছু ভাল লাগবে না। শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে যাবে এভাবে- শুধু বেঁচে থাকা। জীবনকে বয়ে নিয়ে চলতে তখন আর ভাল লাগবে না। মানুষ নিজে থেকেই চাইবে জীবনে মৃত্যু ফিরে আসুক।

- কিন্তু মৃত্যুর তো অবসান হয়ে যাবে। আর কিভাবে তা ফিরে আসবে? 

- ফিরে আসবে না। তখন আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে।মৃত্যু নেই বলে আত্মহননই হবে একমাত্র আকাংখিত বিষয়। জীবনে যা চাওয়ার ছিল সব পেয়ে গিয়েছে, কোন কিছুর জন্য আর তৃষ্ণা নেই।এমনকি মনের মানুষও ইচ্ছে করলে সামনে এসে হাজির হয়।অনেকদিনের বিচ্ছেদ বলে কিছু নেই। টেলিপ্যাথিকালি সংযোগ স্থাপিত হয়। তাহলে আর কি বাকী থাকে?অভাব নেই। খাবার দাবারের কমতি নেই। দুর্ভিক্ষ, মহামারী, বন্য, খরা, বৃষ্টিহীনতা নাই। তখন বই পড়ে জানবে অনেক অনেক বছর আগে এই সব প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছিল। তখন পৃথিবী 3D এনার্জি ফিল্ডে অবস্থান করতো। 5D থেকে বিচ্যুত হয়ে একটা গ্রহ সৃষ্ট হয়েছিল, যার নাম হলো পৃথিবী। মহাকাশ থেকে তাকে খুব সুন্দর দেখায় । সবুজ নীলে আঁকা যেন একটা চিত্রকর্ম। কিন্তু পৃথিবীর বাসিন্দারা ছিল খুব দুঃখী।ভয়ংকর সাফারিংস –এর মধ্য দিয়ে তারা যাচ্ছিল। প্রকৃতির বিরূপতা, শারিরীক রোগ ব্যাধি, আর্থ সামাজিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক দৈন্যতা –কি না ছিল? 

আর এখন? সেসব থেকে পৃথিবীর মুক্তি মিলেছে। মানুষের অবাধ স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে।কালো, খর্বাকৃতির মানুষ আর জন্ম নেয় না।সবাই সুদর্শন। আবার একই সাথে বানরের মত লাফ ঝাঁপ করার ক্ষমতাও আয়ত্তে এনেছে। মানে অ্যাথল্যাটিক ভাবসাব। 

-কিভাবে এনেছে?

-DNA কে উন্নত করে।

-কিন্তু বানরের মতন লাফ ঝাঁপ?

-ঐ যে ডারউইন বলেছিলেন, মানুষ বিবর্তিত হয়েছে বানর থেকে। সেই বাণী মনের মাঝে এমন গাঁথাই না গেঁথেছে যে, সেই আধুনিক সময়েও বানর প্রীতি ছাড়তে পারবে না। তখন মানুষ অনেক দূর পর্যন্ত লাফ ঝাঁপ দিতে পারবে। এক ডাল থেকে আরেক ডালেও চড়তে পারবে। কিন্ত প্রয়োজন হবে না। কারণ জঙ্গলগুলো মাপ মতন তৈরী করা থাকবে।পশু পাখিগুলোও গুণে গুণে বসানো হবে। ঠিক যেন চারিদিকটা ছবির মতন হবে। শারীরিক শক্তি অনেক  থাকলেও মানুষকে আর মুট বইতে হবে না। হাড়ভাঙা খাটুনি করে অকালে শয্যাশায়ী হতে হবে না।তখন শুধু সুখই সুখ। 

২২/০৬/২০২৬  

      


হায়ার সেলফ্‌

শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে আবাসিক এলাকার আশপাশ, তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার ...