প্রথম কথা


মনে  হচ্ছিল যেন উনি এসেছেন।

বাড়ির পিছনে আমি ইট বাঁধানোর কাজ করছি, নর্থ আমেরিকায় যেমন হয়, বাড়ির টুকটাক সবকাজ নিজেরাই করে ।

দেখি চকচকে জুতো। তাকালাম একটু উপরে, দেখি কেউ একজন দন্ডায়মান। 

তারপর আরেকটু উপরে। তাকিয়ে দেখি সুদর্শন এক সুপুরুষ। সেই হাসি মাখা মুখ, সেই বুদ্ধির ঝিলিক। বললাম, দাঁড়ান পথ করে দিচ্ছি। এদিক দিয়ে না যেয়ে এই পাপোশেটার ওপর দিয়ে যান। এমন ভাবে বললাম যেন খুব কথা বলে আলাপ করে অভ্যস্ত। আসলে মনপ্রাণ দিয়ে চাইছি স্বাভাবিক থাকতে। কখনোই তো কথা বলিনি। শুধু যে দু'চোখ ভরে দেখেছি। 

কিন্তু উনি তো সরছেনই না। আবারো বললাম, জায়গা টা নরম ,মাটি শক্ত হয়নি। আর মনে মনে বললাম, শক্ত নয়, খুব নরম, আপনাকে দেয়া আমার মনটার মতোই। 

যদি বুঝতেন। 

শুনছেন- ই না। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছেন। 

কি যে করি।

একটু পর বললেন, তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই। 

এই শুরু হলো বুকে ব্যথা। আমার গলা গেল ভেঙে। বললাম, কথা বলবেন? তাহলে বাসার সামনের দিকে চলেন।  সম্পূর্ণ ভাঙ্গা গলায়, হাত পা কাঁপছে আমার থর থর করে। আমি ভাবতে পারছি না এ কি সত্যিই ঘটছে। 

সত্যিই।

আমি তো কল্পনায় তাকে ভেবে ভেবে আপন মনে কাজ করে যাচ্ছিলাম। 

কিন্তু এ কিভাবে সম্ভব? উনি যে সত্যিই এসেছেন। বুকটা আমার কান্নায় ভেঙ্গে যাচ্ছে। খুব ব্যথা হচ্ছে। চোখে পানি এসে যাচ্ছে। আমি এসব কোন কিছুই চাই না যে উনি জানুক।

বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে যেতে বললাম,’এদিকে তারকাঁটা আছে সাবধানে যেতে হবে।’ 

‘ব্যথা পাবেন’ বলেও বলিনি। সামনে এসে পূবের রোদ্র ঝলমল কাঠের বারান্দায়  দাঁড়ালাম। ইচ্ছে হলো ভেতরে বসতে। তাই ঠেলে দরজা খুলে ভেতরে আসতে বললাম। আসলে কিছু বলিনি। দরজা খুলে ওনাকে নিয়ে আসলাম। ঘরের মেঝেতে আর চারিদিকে আমার যেমন থাকে -  বইয়ের স্তুপ,অগোছালো। পাশে বাদ্য যন্ত্রের সমাহার- আমার প্রিয় ইয়ামাহা কি-বোর্ড। তার পাশে ডেস্কটপ, তার পাশে কিচেন। কি ভাবছে এসব দেখে কে জানে।

জিজ্ঞেস করলেন,‘বাসায় কে কে থাকে?’

 পাশে দোতলার বেডরুমের সিঁড়িটা দেখেই বোধহয় জানতে চাইলেন। 

বললাম, ‘কেউ না, আমি একাই। উইকেন্ডে ভাইয়ের ছেলেটা আসে, সে উপরে থাকে। আর দুটো বেডরুম সাজিয়ে রেখে দিয়েছি আমার ভাই আর আব্বু আম্মুদের আসার জন্য। কবে আসবে তারা, কে জানে। আমি নীচেই থাকি।’

এ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। কি তীব্র চাহনি। তাও আবার এত কাছ থেকে। কল্পনা না বাস্তব আমি বুঝতে পারছি না, আমার ঘোর শুরু হয়েছে। আমি মাথা নীচু রেখে সামনের জিনিসপত্র গুলো গুছিয়ে ওনাকে বসবার জন্য একটা চেয়ার দেবার চেষ্টা করছি। একটাই চেয়ার। আর কিছু নেই কেন? সাজানো ড্রইংরুম তো  সকলের থাকে। আমার নেই কেন? আজ প্রথম মনে হলো, আমার ঘরটা যদি একটু গোছানো থাকতো। আজই প্রথম অনুভব করলাম এভাবে। এতদিন তো কখনো মনে আসেনি। জীবনের সব আয়োজন কি তাহলে অপরের জন্যই? নিজের জন্য না।

বেশ তো চলে যাচ্ছিল এমন সেট আপ –এ, কিন্তু আজ মনে হচ্ছে আমার ড্রইংরুমটা আরেকটু সাজানো থাকলে ভাল হতো। কি যে ভাবছেন উনি মনে মনে কে জানে?

বইপত্রগুলো শেলফ উপচে সোফা, এমনকি কার্পেটের জায়গাও দখল করে নিয়েছে। এক চিলতে জায়গা নেই। 

ড্রইংরুমে কোথায় বসাবো ওনাকে? 

জিজ্ঞেস করলেন, এখন তাহলে নেই ও বাসায়। আমি বললাম, না । ও হস্টেলে থেকে পড়ে। বাসায় আসে উইক- এন্ডেই।

এটুকু বলতেই গলা ভারী হয়ে এলো আমার। আমি যেন আর কোন কথাই বলার মত অবস্থায় নেই। চেয়ারে মনে হয় বসবেন না, যেহেতু একটা মাত্র চেয়ার।

বললাম, চা দিই?

বললেন, না কোন কিছুই লাগবে না। 

যা ভেবেছিলাম। 

আবারো প্রশ্ন, তোমার হাজবেন্ড কোথায় থাকেন? 

আমার খুব কষ্ট হচ্ছে কথা বলতে। পারছি না স্বর তৈরী করতে। অনেক কষ্ট করে অনেক কান্না আটকে, যেন হাজার বছরের সব জমা হওয়া আবেগকে মাটি চাপা দিয়ে কথাগুলো বলে ফেললাম।

-উনি অস্টিনে থাকে।

- উনি আসেন না? কি করেন?

আমার যে এবার বুক ভাঙ্গা কান্না। এত প্রশ্ন কি কেউ করে?  কি হবে আমার কথা জেনে?

বললাম, আমিই যাই ওখানে। আমার এখানে কাজ জুটেছে তাই এখানে থাকা। লম্বা ছুটি পেলেই চলে যাই ওখানে।ওনার নিজের কম্পানির কাজ । নিজের অফিস, তাই সপ্তাহে প্রতিদিনই কাজ।

তারপরের প্রশ্ন, ‘তোমার ওয়েব প্ল্যাটফর্মে কোন সাইট নাই?’ 

বেশ শক্তি নিয়ে আমি বললাম,‘ আছে তো। ফেসবুক আছে। তাতে আমার ২৯টা গ্রুপ। আমার নিজের শুধুমাত্র। আর কেউ নেই ওখানে। 

বুকে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে এবার আমার। 

বললেন, ‘দেখাও তো।’ 

বাহ্‌। কত আগ্রহ।

পাশের টেবিলে ডেস্কটপের সামনে দাঁড়ালাম। সেই আগের মতই সাদা শার্ট , কালো ট্রাউজার আর চকচকে কালো জুতা। মাথাটা একটু নীচু করে চলা। কিন্তু আজ তার ছিটে ফোটাও নেই। সেই লাজুক ভাবটিও নেই। কোথা থেকে এত কনফিডেন্স চলে এলো ওনার? নাকি এ তার আরেকটা রূপ? 

জানি না আমি। কিন্তু সত্যিই খুব রহস্যময় আজ সবকিছু। প্রথম কথা বলছি। কিভাবে বলছি, আমি জানি না। আমার ভেঙ্গে যাওয়া স্বর উনি কি টের পেয়েছেন?

কোথা দিয়ে সময় চলে গেল জানি না। শুধু মনে আছে উনি বললেন, ‘আমি যাব এবার।’

আমি বললাম, ‘গাড়ি কোথায় পার্ক করেছেন? বাসার সামনে নাকি পেছনের রাস্তার দিকে?’

বললেন,‘আমি তো গাড়িতে আসিনি।’ 

-মানে?

-আমি হেঁটেই এসেছি।

-কিভাবে ?

-আমি তো তোমার খুব কাছে থাকি।

আবার আমার অবাক হবার পালা। আমি বললাম,‘ কোথায় ? কোথায় থাকেন।’

–ওই যে... তোমার বাসার পিছনের দিকের যে রাস্তাটা দেখছ, তারই ঐ পাড়ে। 

তাই কি উনি আমাকে দেখেছেন? তা না হলে কিভাবে জানলেন যে আমি আছি এইখানে, এই একই শহরে?

আমি বললাম, ‘তাহলে আসেন বাসার ভেতর দিয়ে। আপনাকে পিছনের বারান্দায় নিয়ে যাই । ওদিক দিয়েই যেতে হবে।’ কিচ্ছু বললেন না। শুধুই দেখছেন আমাকে। আমার দুচোখের জল  আমি আর সামলাতে পারলাম না। 

উনি দু’হাত দিয়ে আমার মাথার দু’পাশে আলতো করে ছুঁয়ে মৃদু একটু চাপ দিয়ে আরো কাছে এগিয়ে এলেন।  আমাকে তার দিকে টেনে নিতে চাইছেন যেন।। আমি মুখ নীচু করে নীরবে চোখের জল সামলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। পারছিলাম না। তার আলিংগনরত বাহুর মাঝে নিজেকে দেখে মুখটা তুলতেই দেখি সাদা শার্টের ওপর সাদা বোতাম। মুখটা আরেকটু উপরে তুলতে দেখি তার গলা,তারপর তার চিবুক। কিন্তু সাহস হয়নি তার চোখের দিকে তাকাবার। তার আগেই আমার মাথাটা যেন হেলে পড়ল ওনার  বুকের মাঝে।

আমার সেদিনের  সম্মতি তাকে কি ভাবিয়েছে আমি জানি না। 

আজ এতদিন পরও আমি মনে করতে পারিনা তারপর কখন তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন।

…।...।।
ভাবনার শুরু ২৭শে এপ্রিল ২০২১
স্বপ্ন দর্শন মার্চ ২০২৫ 
লেখার সমাপ্তি ৩রা জুন ২০২৬

যাদু বিদ্যা!!!!


''যাদু বিদ্যার মধ্যে ৩ প্রকার যাদু বিদ্যা রয়েছে।

=> মন্ত্র বিদ্যা

=> তন্ত্র বিদ্যা

=> যন্ত্র বিদ্যা

অনেকে কোন কিছু পেলে তাবিজ বা মন্ত্র বলে। কিন্তু কোনটা আসলে কি তা জানে না।

মন্ত্র বিদ্যা: কোন প্রকার যাদু করতে করতে হলে যদি নির্দিষ্ট নিয়মে সেই কাজের ধারা অনুযায়ী বিশেষ বাক্য জপ করা হয় তাহলে সেটাকে মন্ত্র বলে। মন্ত্র বিদ্যা বেশিরভাগ সাধকরা প্রয়োগ করে থাকেন। আর এদের মধ্যে আগৌরী (অঘোরী) সাধকরা বেশি শক্তিশালী।।।।

যন্ত্র বিদ্যা : আমরা অনেক সময় তাবিজের মত কিছু জিনিস পাই যেগুলো তে কোন পশু বা মানুষ বা অন্য কিছুর চিত্র অংকন করা থাকে। আর সেগুলো হল যন্ত্র। নির্দিষ্ট নিয়মে কোন শয়তানের চিত্র অংকন করেই তাকে হাজির করার নাম যন্ত্র বিদ্যা। এতে কোন সাধনা বা মন্ত্র জপ লাগেনা।।। উপরের চিত্র ২ টি হচ্ছে যন্ত্র বিদ্যা।।।

তন্ত্রবিদ্যা :যে কালো যাদুতে কোন মন্ত্র উচ্চারণ লাগেনা, কোন যন্ত্র করতে হয়না, শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট জিনিস ব্যবহার করে যাদু শক্তি লাভ বা প্রয়োগ করা হয় সেগুলোকে তন্ত্র বিদ্যা বলে। এখন অনেক অবাক হবেন যে এরকম যাদু আব্র কিভাবে করা যায়??? উদাহরণ হিসিবে বলছি,,,,

খঞ্জন বা খঞ্জরীট পাখির নাম কি কেউ শুনেছেন?? এই পাখি ধরে এনে খাঁচায় বন্দি করে রাখলে নির্দিষ্ট বয়সে তার মাথায় চুটি গজায়। কিছুদিন পর সেই পাখি অদৃশ্য হয়ে যায় খাঁচার মধ্যে, কয়েকদিন পর আবার যখন দৃশ্যমান হবে তখন তার চুটির পালক পড়ে যাবে, আর সেই পালক ত্রিশুল দ্বারা মুকুট বানিয়ে মাথায় পড়লে অদৃশ্য হওয়ার শক্তি লাভ করা যায়। কিন্তু এসব অনেক দুঃসাধ্য ব্যপার। তবে আশা করি বুঝতে পারছেন এখন, কারণ এই কাজে কোন যন্ত্র আকা লাগে নি, কোন মন্ত্র উচ্চারণ ও লাগেনা, আর এটাই তন্ত্র বিদ্যা।।।

এবার আরেকটি বিষয়ে আসছি।  স্বপ্ন তত্ত্ব নিয়ে একটি প্রশ্ন করেছিলেন সেই বিষয়টা নিয়ে বলছি।।

আমি উনাকে বলেছিলাম যে স্বপ্নের ব্যাখা অবশ্যই থাকে। তবে সেটা ভাল না খারাপ সেটা সময় ও তারিখের উপর কিছু নির্ভর করে। স্বপ্ন- শাস্ত্র মতে মাসের তারিখ গুলোকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়েছে অনেকটা জ্যোতিষবিদ্যার নিয়ম অনুসারে।। সেটা আমি তুলে ধরছি।।।

স্বপ্নফল শুন্য কিংম্বা মিথ্যাঃ
3
,4,14,18,20,23,28 29 তারিখ
স্বপ্নফল সত্য হইবেঃ
6,7,8,10,15,16,19,20,27
30 তারিখ
ভালো-মন্দ উভয় ফল হতে পারেঃ
13
,21,22 24 তারিখ
ফল অনেক দেরিতে প্রকাশ পাবেঃ
1,2,5,12
17 তারিখে

সাধারনত দিবা ভাগের স্বপ্ন সে দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়, ভোরের স্বপ্ন 1 থেকে 3 দিনের মধ্যে সফল হয় আবার অর্ধ রাতের স্বপ্ন 3 দিন থেকে 1 বছর কোন কোন ক্ষেত্রে 7 বছরও লেগে যেতে পারে সফল হতে।আর এইজন্যেই আমি বলেছিলাম যে স্বপ্নের ব্যাখা কিছুটা সময় আর তারিখের উপর নির্ভর হয়ে থাকে।''

২৫/১২/২০১৯ 

সংগৃহীত

অতিবাস্তবতা ও পরাবাস্তবতা

 এককথায় ~

পরাবাস্তবতা হলো কল্পনা, স্বপ্ন, অবচেতন মন ও অদ্ভুত অদ্ভুত অদ্ভুত ব্যাখ্যা করা যায় না এরকম সকল শিল্পমন্ডিত  দৃশ্য   । অর্থাত  এতে শিল্পের ছোঁয়া থাকবে। ।
অতিবাস্তবতা হলো বাস্তবের চেয়ে অধিক নিখুঁত, সূক্ষ্ম ও পরিষ্কারভাবে দৃশ্য উপস্থাপন করার শিল্প। যেমন হালের AI মহাশয়।
সারমর্ম ~~
পরাবাস্তবতা (Surrealism) এবং অতিবাস্তবতা (Hyper realism) উভয়ই শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ধারনা, চিন্তা ও ভাব বহন করে। তাই   এগুলোর অর্থ ও প্রয়োগে পার্থক্য রয়েছে যা বোদ্ধারা ভাল ধরতে পারেন। এগুলো মূলত শিল্প ও সাহিত্যে দুইটি আলাদা ধারা।  ২০ শতকের শুরুর দিকে ইউরোপে শিল্প ও সাহিত্য আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়। এই ধারার মূল লক্ষ্য ছিল অবচেতন মন, স্বপ্ন, কল্পনা এবং বাস্তবতার বাইরে থাকা অভিজ্ঞতাকে শিল্প বা সাহিত্যে প্রকাশ করা। পরাবাস্তববাদীরা বিশ্বাস করতেন, মানুষের সত্যিকার অনুভূতি ও চিন্তা অবচেতন মনেই লুকিয়ে থাকে। ফলে তারা স্বপ্ন, বিভ্রম, অসম্ভব অথবা অদ্ভুত দৃশ্যপট, অবাস্তব সংযোগ এবং যুক্তিহীন উপস্থাপনা ব্যবহার করে তাদের কাজকে প্রকাশ করতেন।
বৈশিষ্ট্যঃ
যুক্তিহীন, অদ্ভুত অথবা স্বপ্ন-সদৃশ চিত্রায়ন।
অবচেতন মন ও স্বপ্নের প্রভাব, যেখানে আত্মা ডাইমেশান থেকে ডাইমেশানে ঘুরে বেড়ায়। সেসব অন্যজগতের বিষয়া্বলীকে অসম্ভব বা অবাস্তব বিষয়বস্তু বলে মনে হয়। 
অলীক, অপ্রত্যাশিত সংযোগ দেখা দেয় যা আসলে -সাব কন্সাস মাইন্ড দিয়ে ঘটানো সম্ভব।
অতিবাস্তবতা (Hyper realism)

অতিবাস্তবতা  শিল্পের এমন একটি ধারা, যেখানে বাস্তবতার চেয়েও বেশি নিখুঁত, বিশদ এবং স্বচ্ছভাবে বিষয়বস্তুকে উপস্থাপন করা হয়। এটি মূলত চিত্রকলায় বেশি ব্যবহৃত হয়। অতিবাস্তব চিত্রশিল্পীরা ক্যামেরায় তোলা আলোকচিত্রের মতোই নিখুঁত ও সূক্ষ্মভাবে চিত্র আঁকেন, যেটাকে কখনো কখনো ছবির থেকেও বেশি বাস্তব এবং জীবন্ত মনে হয়।
AI  দ্ববারা এসব কাজ এখন অতিদ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে। সাথে অ্যানিমেশান  যুক্ত করে নিখুঁত ভাবে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি -ও তৈরি করা হচ্ছে। কম্পিঊটার গেইমসের মাধ্যমে সেই জগতে প্রবেশ করে গাড়ির রেইস করা, প্রাচীন কালের আবহে ডাইনোসোরদের সাথে যুদ্ধ করা,  এ সব কিছুর পারিপার্শ্বিকতা ও সময়ের (space and time) স্বাদ গ্রহণ করা যাচ্ছে।
বৈশিষ্ট্যঃ
অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত অঙ্কন বা উপস্থাপনা
বাস্তব জগতের দৃশ্যের অতিরঞ্জিত বা অতিমাত্রায় বিশদ বিবরণ - যেখানে সাধারণত কোনো অতিপ্রাকৃত বা অসম্ভব বিষয়বস্তু থাকে না, বরং বাস্তবতাকেই অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরা হয়। তাই কম্পিঊটার গেইমসকে অনেকে  ছোট শিশুদের জন্য বিষাক্ত  মনে করেন। তারা ভাবেন  শিশুরা এতে করে বস্তবতা ছেড়ে অতি -বাস্তবতায় বেশী সময় ধরে অবস্থান করতে করতে সে অতি -বাস্তবতাকে গুলিয়ে ফেলবে তার চারপাশের বাস্তবতার থেকে। কিন্তু  3D  থেকে 5D তে উত্তরণের  এই মাঝপথে  অতি-বাস্তবতার প্রযুক্তি সক্রিয় হতে বাধ্য। এবং তাই-ই হচ্ছে।

হিন্দু ধর্মমতে বিয়ে


হিন্দু ধর্মে ১ থেকে ১৬ বছর বয়সের অজাতপুষ্পবালাকে ‘কুমারী’নামে অভিহিত করা হয়েছে। বয়স অনুযায়ি কুমারীদেরকে ভিন্ন ভিন্ন নামও দেওয়া হয়েছে। 

১ বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধা, ২ বছর বয়সী কন্যাকে স্বরসতী, ৩ বছর বয়সী কন্যাকে কালিকা, ৫ বছর বয়সী কন্যাকে সুভগা, ৬ বছর বয়সী কন্যাকে উমা, ৭ বছর বয়সী কন্যাকে মালিনী, ৮ বছর বয়সী কন্যাকে কুব্জিকা, ৯ বছর বয়সী কন্যাকে অপরাজিতা, ১০ বছর বয়সী কন্যাকে কালসন্ধর্ভা, ১১ বছর বয়সী কন্যাকে রম্নদ্রাণী, ১২ বছর বয়সী কন্যাকে ভৈরবী, ১৩ বছর বয়সী কন্যাকে মহালড়্গী, ১৪ বছর বয়সী কন্যাকে পীঠনায়িকা, ১৫ বছর বয়সী কন্যাকে ড়্গেত্রজ্ঞা এবং ১৬ বছর বয়সী কন্যাকে অম্বিকা বলা হয়। হিন্দুশাস্ত্রে বলা হয়ে থাকে যে, এসব নাম জগম্মাতার স্বরূপের এক একটি গুণ প্রকাশ করে।        

হিন্দুশাস্ত্র বাৎস্যায়ন অনুসারে বিয়েকে ৮ প্রকারে ভাগ করা হয়। এগুলো হল 

১. ব্রাহ্ম, ২. প্রজাপত্য, ৩. আর্য্য, ৪. দৈব, ৫. অসুর বা আসুরিক, ৬. গন্ধর্ব, ৭. পিশাচ বা পৈশাচিক এবং ৮. রাক্ষস বিয়ে। 

কারো কারো মতে বিয়ের এ ভাগগুলির পিছনে একইসাথে শাস্ত্র ও লোকাচার এ দুটোই ভূমিকা রেখেছে। কয়েকটি বিয়ে আছে যা সম্পুর্ণ লোকাচার ভিত্তিক। লোকাচার ভিত্তিক এ বিয়েগুলিতে কোন প্রকার মন্ত্রোচ্চারণ বা যাগযজ্ঞের প্রয়োজন হতো না। শাস্ত্র অনুমোদিত বিয়ের মূল অনুষ্ঠানগুলিতে মন্ত্রপাঠ, যজ্ঞ এবং বিধি অনুযায়ি কন্যা সম্প্রদান করা হতো। 

৮ প্রকার বিয়ের মধ্যে প্রথম চার প্রকারের বিয়ে অর্থাৎ ব্রাহ্ম, প্রজাপত্য, আর্য্য ও দৈব বিয়েগুলি মূলত একই রকম, শুধুমাত্র পদ্ধতি এবং মন্ত্রের বিভিন্নতার জন্য নামগুলি ভিন্ন ভিন্ন। এ বিয়েগুলিতে পাত্র-পাত্রীর ভূমিকা কম, পিতা-মাতা বা গার্জিয়ানরাই এ বিয়ের আয়োজন করে থাকেন। 

শেষোক্ত চার প্রকার বিয়ে অর্থাৎ অসুর বা আসুরিক বিয়ে, গন্ধর্ব বিয়ে, পিশাচ বা পৈশাচিক বিয়ে এবং রক্ষস বিয়েতে পাত্র-পাত্রীর ভূমিকাই মূখ্য। 

গান্ধর্ব বিয়েতে অন্য নারীকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচিত নারীকে আকর্ষণ করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যে নারীকে কাজে লাগানো হয়, তাকে বলা হয় ‘ঘটকী’। শব্দটি ঘটকের স্ত্রী লিঙ্গ। যেখানে পাত্রী কোন কারণে পাত্রকে পছন্দ করে না সেক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। ঘটকীর প্রধান কাজ হয় পাত্রের অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে পাত্রীকে নানানভাবে প্রলুব্ধ করে তার মন পাত্রের অনুকুলে নিয়ে আসা। পাত্রীর পিতা-মাতা বা গার্জিয়ান যদি অন্য কোন পাত্রকে পছন্দ করে তবে সেই পাত্র সম্পর্কে নানারকম কুৎসা রটিয়ে পাত্রীর মনকে বিষিয়ে তুলে পাত্রের দিকে নিয়ে আসা। পাত্রীকে কনভিন্স করে পুরোপুরি পাত্রের দিকে অনার পরে তাদের দু’জনের অভিসারের ব্যবস্থা করা এবং প্রণয় ঘনিষ্ঠকরণের মাধ্যমে বিবাহ করানো। একজন ব্রাহ্মণকে ডেকে অগ্নিস্বাক্ষী রেখে হোম করে গোপনে বিয়ে করিয়ে মিলন ঘটানো এবং পরবর্তীতে তা সমাজে প্রকাশ করাই এ বিয়ের বৈশিষ্ট। কাজটিকে সহজতর করার জন্য ঘটকীর বয়স এবং পাত্রীর বয়স কাছাকাছি রাখার কথা বলা হয়েছে। ঘটকী যদি পাত্রীর কাছাকাছি কেউ হয় তাহলে তাকেই এ দায়িত্ব দেওয়া উত্তম। 

পৈশাচিক বিয়ে বাৎস্যায়নের যুগে প্রচলিত ছিল, এখন নেই। তরুণী যেখানে পাত্রকে পছন্দ করেনা এবং তাকে রাজি করানোর জন্য ঘটকী নিয়োগ করে গন্ধর্ব বিয়েও সম্ভব নয় সেখানে পৈশাচিক বিয়ে করা হতো। পাত্র, পাত্রীকে ফুসলিয়ে যুতসই কোন স্থানে নিয়ে তাকে মাদকদ্রব্য খাইয়ে অধজ্ঞানহীন ও উত্তেজিত করে তার সাথে যৌনমিলন করে, পরবর্তীতে পুরোহিত ডেকে সেই নারীকে বিয়ে করা। এটা হলো নারীর সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে তাকে অনোন্যপায় করে বিয়ে করতে বাধ্য করা। এজন্যই এটাকে বলা হয় পৈশাচিক বিয়ে। ধর্ষণকে সঙ্গায়িত করার পরে রাষ্ট্রীয় আইন ধর্ষিতার স্বার্থ সংরক্ষণ করায় এটি বন্ধ হয়ে গেছে।  

রাক্ষস বিয়ে হলো জোর করে বিয়ে। কোন সুন্দরী বিয়েতে রাজি না হলে লোকজন নিয়ে জোর করে তাকে তুলে এনে পুরোহিত ডেকে হোম করে বিয়ে করা। পুরাকালে ক্ষত্রিয় রাজারা এভাবে জোর করে পাত্রী ধরে এনে বিয়ে করতেন। এখন আর এ বিয়ের প্রচলন নেই। রাষ্ট্রীয় আইন জোর করে তুলে আনাকে স্বীকৃতি না দেয়ায় এটি বন্ধ হয়ে গেছে।  

আসুরিক বিয়েতে পাত্রীর কোন আত্মীয়কে অর্থকড়ির বিনিময়ে হাত করে তার সাহায্যে পাত্রীকে ভুলিয়ে বিয়ে করা। বর্তমান সমাজেও এ ধরণের বিয়ে প্রচলিত আছে। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা প্রথম চার প্রকার বিয়ের মতো হয় বলে এটিকে আর আলাদাভাবে চোখে পড়ে না। 

.................................................................

চার প্রকার বিয়ে প্রচলিত ছিল মহাভারতীয় যুগে - ব্রাহ্ম, গান্ধর্ব, অসুর, রাক্ষস। এর মধ্যে একমাত্র ব্রাহ্ম বিয়েতেই মন্ত্রোচ্চারণ এবং যজ্ঞের আয়োজন হতো। বৈদিক যুগের পর এর সঙ্গে যোগ হয় আরো ৪ প্রকার বিয়ে। এগুলো হল ক) দৈব খ) আর্য গ) প্রজাপাত্য ঘ) পৈশাচ। পৈশাচ ছাড়া অন্য বিয়েগুলো ছিল যজ্ঞ ও মন্ত্র নির্ভর।

এ ৮ রকম বিয়ের মধ্যে বেশিরভাগ পন্ডিতরা ব্রাহ্ম,দৈব, আর্য ও প্রজাপাত্য বিয়েকে উন্নত ও আধ্যত্মিক বিয়ে নামে অভিহিত করেছেন।

শাস্ত্রজ্ঞান সম্পন্ন পাত্রের কাছে যজ্ঞ ও মন্ত্রোচ্চারণসহ কন্যাদানের নাম ব্রাহ্মবিবাহ। 

যজ্ঞাদিসহ অলঙ্কারাদি দিয়ে সাজিয়ে কন্যাদান দৈববিবাহ। 

বরের কাছ থেকে এক বা একাধিক গোমিথুন নিয়ে কন্যাদান আর্যবিবাহ।

উভয়ে মিলিত হয়ে ধর্মাচারণ কর- এ উপদেশ দিয়ে অর্চনা সহকারে কন্যাদান প্রজাপাত্য বিবাহ। 

অর্থের বিনিময়ে মেয়ে কিনে তাকে বিয়ে করার নাম ছিল অসুর বিবাহ। 

গান্ধর্ব বিবাহ মূলত প্রেমের বিয়ে। পিতামাতার অজ্ঞাতে দুজন প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতিক্রমে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হত। মহাভারতে অর্জুন চিত্রাঙ্গদার এ বিয়ে হয়। 

সমাজ মনোবিজ্ঞানী ওয়েস্টমার্ক রাক্ষস বিয়েকে ম্যারেজ বাই ক্যাপচার এবং অসুর বিবাহকে ম্যারেজ বাই পারচেজ নামে অভিহিত করেছেন। এদুটি বিবাহ ধর্ম মতে নিকৃষ্ট ও শাস্তি যোগ্য। 

একুশ শতকের প্রারম্ভকাল পর্যন্ত হিন্দু সমাজ বিশেষত বাঙালি সমাজে প্রজাপাত্য বিয়েই প্রচলিত।

.........................

হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের বিয়েতে প্রধানত দু’টি আচারগত বিষয় পরিলক্ষিত হয় যথা, বৈদিক ও লৌকিক। লৌকিক প্রথাগুলি লোকাচার সম্পর্কীয় এবং অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। বৈদিক প্রথাগুলি বিধিবদ্ধ শাস্ত্রীয় প্রথা এবং বিয়ের মূল অঙ্গ। তবে এই রীতিগুলিও অঞ্চল, বর্ণ বা উপবর্ণভেদে ভিন্ন হতে পারে। 

হিন্দু বিয়ে বেশ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। 

প্রথম ধাপের নাম ‘পটিপত্র’। এটি  ‘লগ্নপত্র’ বা ‘মঙ্গলাচরণ’নামেও পরিচিত। বিয়ের দিন-তারিখ, দেনা-পাওনার হিসাব চুড়ান্ত করার জন্য যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, তাকেই বলে পটিপত্র। 

দ্বিতীয় ধাপের নাম ‘পানখিল’। এটি দুই ধাপে সম্পন্ন হয়, একটি বরের বাড়িতে অন্যটি কনের বাড়িতে। মঙ্গলাচরণ অনুষ্ঠানে বাড়ির মেয়েরা ও প্রতিবেশীরা মিলে বিয়ের গান গাওয়া হয়। 

তৃতীয় ধাপের নাম ‘দধিমঙ্গল’। এদিন বর ও কনে উপবাস থাকে। সম্পুর্ণ উপবাস নয়, এ সময়ে পানি ও মিষ্টি খাবার বিধান আছে। 

চতুর্থ ধাপের নাম ‘গায়ে হলুদ’। এটি সাধারণত বিয়ের দিনই সম্পন্ন হয়। প্রথমে বরের গায়ে হলুদ মাখানো হয়, পরে সেই হলুদ কনের গায়ে দেবার জন্য কনের বাড়িতে পাঠানো হয়। 

পঞ্চম ধাপের নাম ‘শঙ্খ কঙ্কণ’। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কনেকে শাঁখা পরানো হয়। এই পাঁচটি ধাপ আচার সম্পর্কীত, বিয়ের মূল অনুষ্ঠান নয়। বিকেলের দিকে ষষ্ঠ ধাপ থেকে শুরম্ন হয় মূল অনুষ্ঠান। 

ষষ্ঠ ধাপের নাম ‘বর বরণ’।  কনের মা বা নিকট আত্মীয়া একটি থালায় প্রদীপ, ধান, দূর্বা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে বরকে বরণ করেন। 

সপ্তম ধাপের নাম ‘সাতপাক’। বিয়ের মন্ডপে প্রথমে বরকে আনা হয় এবং পরে পিড়িতে বসিয়ে কনেকে এনে তাঁকে বরের চারপাশে সাতপাক ঘোরানো হয়। এ সময়ে কনে পানপাতা দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখে। 

অষ্টম ধাপের নাম ‘শুভ দৃষ্টি’। বিয়ের মন্ডপে বর ও কনে একে অপরের দিকে দৃষ্টি বিনিময় করে। 

নবম ধাপের নাম ‘মালা বদল’। এ সময়ে বর ও কনে মালা বদল করে। 

দশম ধাপের নাম ‘সম্প্রদান’। কনের বাবা বা গার্জিয়ান, বরের কাছে বেদমন্ত্রে কন্যা সম্প্রদান করেন। 

একাদশতম ধাপের নাম ‘অঞ্জলী’। কনে ও বর একসঙ্গে আগুনে খই ছুড়ে দেয়। প্রচলিত বাংলায় একে বলে ‘খই পোড়া’। 

দ্বাদশ ধাপের নাম ‘সিঁদুর দান’। এখানে বর বধুর মাথায় সিঁদুর দিয়ে দেয়। 

ত্রয়োদশ ধাপের নাম ‘অগ্নিসাক্ষী। এসময়ে বরের ধুতির পিছনে বধুর শাড়ির আচল বেঁধে দেওয়া হয় এবং বরের পিছনে পিছনে বধু অগ্নিকে কেন্দ্র করে সাতবার ঘোরে। এটি হিন্দু বিয়ের শেষ রীতি। 

বাংলাদেশে এখনও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ে পারিবারিক নিয়মে হয়, কোন রেজিষ্ট্রেশন হয়না। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিয়ে কোন চুক্তি বিশেষ নয়, এটি একটি পবিত্র বন্ধন ও ধর্মীয় নির্দেশ। দশটি অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যের মধ্যে বিয়ে একটি। এখানে বিবাহ বিচ্ছেদ ও পুনর্বিবাহ স্বীকৃত নয়। ভারতে ১৯৫৫ সালে হিন্দু বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন আইন চালু হয়েছে এবং বিয়ে রেজিষ্ট্রেশনকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখনও এমন কোন নিয়ম চালু হয়নি। ফলে এ দেশে হিন্দু মেয়েদের বৈবাহিক অধিকার এখনও আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়।

...............................................

হিন্দু মতে বিয়েতে আমরা দেখতে পাই, আগুনের কুন্ডলীর চারপাশে বর-বউকে ঘুরতে। একে সাত পাকে বাঁধা পড়া বলা হয়। বলা হয়, এর মাধ্যমে অগ্নিদেবতাকে বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়। শুধু আগুনের চারপাশে ঘোরাই নয়, এই সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিতে হয় একে অপরকে।

প্রথম প্রতিশ্রুতি- প্রথমে বর তাঁর বউ এবং তাঁর ভাবী সন্তানদের যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্বামী এবং তাঁর পরিবারের যত্ন নেবেন।

দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীকে সবরকম পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করবেন। বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি স্বামীর সবরকম যন্ত্রণায় পাশে থাকবেন।

তৃতীয় প্রতিশ্রতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য রোজগার করবেন এবং তাঁদের দেখভাল করবেন। একই প্রতিশ্রুতি এবার কনেও করেন।

চতুর্থ প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর কাছে তাঁর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া এবং একইসঙ্গে স্ত্রীর সমস্ত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বর। স্ত্রী তাঁর সমস্ত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করার প্রতিশ্রুতু দেন।

পঞ্চম প্রতিশ্রুতি- যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন বর। স্বামীকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেন স্ত্রী।

ষষ্ঠ প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন স্বামী। স্ত্রীও স্বামীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

সপ্তম প্রতিশ্রুতি- শুধু স্বামী হিসেবেই নয়, বন্ধু হিসেবেও সারাজীবন স্ত্রীর সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন বর। বিনিময়ে স্ত্রীও স্বামীর সঙ্গে জাবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।


সংগৃহীত

হোলি উৎসবের শুরু


রাধা কৃষ্ণ লীলা সম্পর্কে ব্রক্ষ্ম বৈবর্ত পুরানে বর্নিত আছে ব্রক্ষ্মা বলছে হে বৎস! আমার আজ্ঞানুসারে আমার নিয়োজিত কার্য করিতে উদযুক্ত হও।জগদ্বিধাতা ঈশ্বরের বাক্য শ্রবন করিয়া রাধা কৃষ্ণকে প্রণাম করত: নিজ মন্দিরে গমন করিল। ব্রক্ষ্মা প্রস্থান করিলে দেবী রাধিকা সহাস্যবদনে সকটাক্ষ নেত্রে কৃষ্ণের রদনমন্ডল বারংবার দর্শন করত: লজ্জায় মুখ আচ্ছাদন করিল। অত্যান্ত কামবানে পীড়িত হওয়াতে রাধিকার সর্বাঙ্গ পুলকিত হইল। তখন সে ভক্তিপূর্বক কৃষ্ণকে প্রণাম করত: তাহার শয়নাগারে গমন করিয়া কস্তুরী কুম্কুম মিশ্রিত চন্দন ও অগুরুর পন্ক কৃষ্ণের বক্ষে বিলেপন করিল এবং স্বয়ং কপালে তিলক ধারন করিল।
তৎপর কৃষ্ণ রাধিকার কর ধারন করিয়া স্বীয় বক্ষে স্থাপন করত: চতুর্বিধ চুম্বনপূর্বক তাহার বস্ত্র শিথিল করিলেন। হে সুমে । রতি যুদ্ধে ক্ষুদ্র ঘন্টিকা সমস্ত বিচ্ছিন্ন হইল, চুম্বনে ওষ্ঠরাগ, আলিঙ্গনে চিত্রিত পত্রাবলী, শৃঙ্গারে করবী ও সিন্দুর তিলক এবং বিপরীত বিহারে অলন্কাঙ্গুর প্রভৃতি দূরীভুত হইল। রাধিকার সরসঙ্গম বশে পুলকিত হইল। সে মুর্ছিতা প্রায় হইল। তার দিবা-রাত্রি জ্ঞান থাকিল না। কামশাস্ত্র পারদর্শী কৃষ্ণ অঙ্গ-প্রতঙ্গ দ্বারা রাধিকার অঙ্গ-প্রতঙ্গ আলিঙ্গন করত: অষ্টবিধ শৃঙ্গার করিল, পুর্নবার সেই বক্রলোচনা রাধিকাকে করিয়া হস্ত ও নখ দ্বারা সর্বাঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত করিল।
শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক নিষ্টুরভাবে শরীর ক্ষত-বিক্ষত হওয়ায় এবং সারা রাতভর যৌন নিপীড়নের কারণে প্রভাতকালে দেখা গেল রাধিকার পরিহিত বস্ত্র এত বেশী রক্ত রঞ্জিত হয়ে পড়েছে যে, লোক লজ্জায় রাধিকা ঘরের বাইরে আসতে পারছে না। তখন শ্রীকৃষ্ণ দোল পুজার ঘোষনা দিয়ে হোলি খেলার আদেশ দেয়। সবাই সবাইকে রঙ দ্বারা রঞ্জিত করতে শুরু করে। তাতে রাধিকার বস্ত্রে রক্তের দাগ রঙের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। সেই থেকে হোলি খেলার প্রচলন শুরু হয়।"

সংগৃহীত


প্রথম কথা

মনে  হচ্ছিল যেন উনি এসেছেন। বাড়ির পিছনে আমি ইট বাঁধানোর কাজ করছি, নর্থ আমেরিকায় যেমন হয়, বাড়ির টুকটাক সবকাজ নিজেরাই করে । দেখি চকচকে জুতো। ত...