Saturday, October 24, 2026

হায়ার সেলফ্‌

শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে আবাসিক এলাকার আশপাশ, তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে ঘুমানোর প্রস্তুতি  নেয়।  ঠিক তখনই  টুসি এক দফা পড়া শেষ করে ভাবলো বাইরে থেকে হেঁটে আসলে কেমন হয়!

পড়া বোঝাই মাথা ভার হয়ে আছে। শীতের রাতে বেশ গরম অনুভূতি হচ্ছে। তাই যেই ভাবা সেই কাজ। ঘর থেকে বেরিয়ে সামনে পড়লো পলাশদের বাসা। বাসার মালিক কেউ আর এখন নেই। বাসাটা পুরো অন্ধকার। পলাশ মাঝে সাঝে এসে থাকে যদিও। কিন্তু সে নিজেও রাতে জাগে না। টুসির বাড়ির পিছন দিকে বৃক্ষরাজি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে বিস্তৃত মাঠ জুড়ে। যতদূর চোখ যায়, ওই দিকটায় সরু পথ চলার রাস্তা আছে। রাস্তার ওপারের বাড়ির মালিক বাড়ি বিক্রয়ের নোটিশ দিয়েছে। বাড়ি ছেড়ে কবে যে সে চলে গেছে টুসি জানেও না। আসলে বিদেশ বিভুঁয়ে টুসির সাথে এই শহরতলির অধিবাসীরা কেউ পরিচিত নয়, ওই সামনের বাড়ির পলাশ ছাড়া। বাড়ির তিন দিক ঘুরে পথের ঢাল পেরিয়ে সামনের দিকের নিচু জমির বরাবর বহমান সরু খাল বরাবর অগ্রসর হলো টুসি।  বেশ কিছুক্ষণ হাঁটল।

বেশি ঢাল পেরোলে আবার ফিরতি পথে রাস্তা ধরে উপরের দিকে উঠতে কষ্ট হবে। তাই থেমে ফেরত এলো বাড়ির দিকে। প্রথম ডান দিকটা ছেড়ে দ্বিতীয় ডান দিকের  দুই রাস্তার সংযোগস্থলে তার বাসা। এই সংযোগস্থলের একদিকে পলাশের বাড়ি যে বাড়িতে আজ কেউ নেই, অথচ বারান্দায় চল্লিশ পাওয়ারের হলুদ বাতি জ্বলছে। আর উল্টোদিকে টুসির বাড়ি। পলাশের বাড়ির অপরদিকের সামনের বাড়িটা

প্রাচীনকালের ক্যাসেল  সদৃশ ডিজাইনের অপূর্ব সুন্দর লাল ইটের গাঁথুনিতে গড়া।  বাড়ির চারিদিক ঘিরে অনেক জানালা। সবগুলো জানালা অন্ধকারে ঢাকা। শুধু বাড়িতে ঢোকার পথে বাঁ  দিকের জানালায়  একটা টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে। রাত হলেই, টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলে উঠে। নয়নাভিরাম  আলোয়  ভরে যায় বাড়ির ওই ছোট্ট এক অংশ। সাদা পর্দার ওপারে যেন এক মোহনীয় আবেশ তৈরি হয়। টুসি যতবার দেখে ততবার মুগ্ধ হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। কে আছে ওই বাড়িতে?   সম্পূর্ণ খালি এ বাড়িটাতে কাউন্ট ড্রাকুলা একাই থাকেন কি ?  সন্ধ্যা হলে ওই জানালার পাশের   সোফায় বসেন  বা রিডিং টেবিলের চেয়ারে বসেন। অথবা  জানালার পাশের কোন আরাম কেদারায়। ক্যাসেল ছাড়িয়ে  হেঁটে যেতে যেতে টুসি দেখলে বাড়ির পাশ একদম  জনবসতিহীন। রয়েছে এক  বিশাল খেলার মাঠ।  মানে এইদিকটায় এলে, এই  রাস্তায় এটাই শেষ বাড়ি। অন্ধকার মাঠের কাছে হেঁটে যেয়ে আবার উল্টে ফেরত এলো নিজ বাড়ির রাস্তার দিকে।

 বরাবর সোয়েটারের উপর গরম ওভারকোট পড়েছে। মাথা সম্পূর্ণ ঢাকা নয়। বাইরে ছয় ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা। বেশ ঠান্ডা লাগছে।   হাত মোজা দিয়ে  হাত ঢাকা আছে। এবার হেঁটে হেঁটে পলাশের বাড়ির পাশ দিয়ে আসবার সময় আবারো ক্যাসেলটা একবার দেখলো। পাশে দৃষ্টি ঘুরালে পলাশের বাড়ির বারান্দায় তার আম্মার বসার আরাম কেদারা চোখে পড়ে।  মানুষটা এখন নেই। এক সময় সকালে বসে তিনি রোদ পোহাতেন।  উনাকে দেখেছে গত অগাস্টে। কিন্তু  তখনো ভাবেনি সেটাই হবে শেষ দেখা। ২০২৫ সাল ছিল। আর এখন দেখতে দেখতে চৌদ্দ মাস পেরিয়ে গেল। স্মৃতি যেন বয়ে বেড়ানোর কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে টুসির জন্য।  এসব ভাবতে ভাবতে ধীর পায়ে ফুটপাত দিয়ে এগুতে এগুতে মানবশূন্য বাড়িগুলোর পাশ থেকে কখন যে এক পথচারী আবির্ভূত হলেন কে জানে! একটুও টের পায়নি টুসি। গলার একটা কাশি দেবার শব্দে টুসি চকিতে পেছনে তাকালো। পথচারী যেন জানান দিচ্ছেন, তিনিও আছেন এই নির্জন রাস্তায় টুসির সাথে। সে  এখন একা নয়। পথচারী দ্রুত পায়  হেঁটে আসছেন যদিও, কিন্তু টুসি তার দিকে ফিরে তাকাতেই সম্ভাষণ জানিয়ে বললেন হায় hi! 

টুসি  বলল hello!

জোর কদমে টুসিকে পাশ কাটিয়ে সেই দূরের বৃক্ষরাজি ঘেরা বাগানের পাশের পথ ধরে পথচারী অন্ধকারে হারিয়ে গেলেন । কিন্তু কেন কে জানে, টুসির একটুও দেরি লাগলো না বুঝতে, এই ঘন নির্জন রাতে এই ব্যক্তি কোন সাধারণ পথচারী নন।  

টুসি আর আগালো না এবার । সামনের সেই পথ বরাবর হেঁটে কোথায় যেন চলে গেছেন সেই  পথচারী নিমেষে। কিন্তু টুসি বুঝতে পেরে ফেলেছে যে, তাকে তিনি জানান দিয়ে গেছেন এবার - আর আগানো নয়, এখানেই থাম। বাড়ি ফিরে যেতে হবে তোমাকে। 

 টুসি থেমে গেল। বাড়ির দিকে ফিরে তাকালো। তার বারান্দাতে হলুদ বাতির আভায় বারান্দা ছেয়ে আছে। সিঁড়ির কাছে আসতেই সেন্সরের সাদা ঝলমলে আলোতে চারিদিক আলোকিত হয়ে গেল। পিছনে ফিরে তাকালো আরেকবার। 

শীতের রাত যেন নিজেই ঘুমে মগ্ন। ওর  আর বাইরে থাকার প্রয়োজন  নেই, এই  কথাটি জানান দিয়ে গেছেন  তারই হায়ার সেলফ্‌। সাধারণ পথচারীর রূপ ধরে মানুষ বেশে  এসেছেন তিনি হঠাৎ করে, কোথাও থেকে। গলায় শব্দ করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পেছন থেকে।  দ্রুত বেগে পাশ কেটে হেঁটে চলে গেছেন সম্ভাষণ জানিয়ে।  একটি কথাও  অতিরিক্ত বলেন নি। যেন এসেছেন এই নির্জন রাস্তায় সতর্ক করে দিতে। জানাতে একটি কথা - আর এগোতে হবে না তোঁমার,  এতোটুকুই তোমার সীমা।

…

২৪/১০/২০২৬


Friday, October 23, 2026

প্রেমে পড়ার প্রথম ক্ষণ

  • একা থাকো?

  • না।

  •  কে থাকে সাথে?

  • কেউ না।

  •  তাহলে কিভাবে বলছো একা থাকো না?

  • থাকি না তো।

  • কিভাবে?

  •  তুমি থাকো যে পাশে।

  •  বাহ! ………কতক্ষণ থাকি?

  •  সারাক্ষণ। 

টেবিলে বসে খাচ্ছি, তুমি সামনে। রান্না করছি, তুমি পাশে। এই যে এখন  বাগানে বসে আছি, পাশের বাড়িতে বারবি-কিউ হচ্ছে , তাদের গানের ভেসে আসা সুরের মূর্ছনার সাথে তোমাকে ভাবছি ঠিক আমার সামনে মুখোমুখি বসে আছ। 

কখনো মনে করি না পাঁচিলের ওই পারে বারবি-কিউ তুমি বানাচ্ছ।  তুমি ঐ পাশে থাকো, এমন ভাবনা কখনোই মনে আসে না। পাশের বাড়িতে সেটা রজার্স -ই  বানায়। তুমি আর আমি আমাদের বাগানের টেবিলের দুই পাশে বসে থাকি মুখোমুখি। 


এখন বিকেল ৪ টা বেজে ২৮  মিনিট।  এই সময়টায় পশ্চিমের আলো হেলে পড়ে আমার গাড়ির কাঁচের আয়নাতে । আমি এভাবে সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখি।  একটা মা পাখি তার দুটো ছানা নিয়ে তখন বাড়ি ফিরে। তাদের যে কত কথা সারাদিনের। কিচির মিচিরে তখন যেমন চারিদিক মুখরিত হয় তেমনি সবাই জানান পায় পাখি দুটো নীড়ে ফিরেছে। আর আমার সমস্ত কথা বলা হয়ে যায় তোমার সাথে মনে মনে। ছাদের উপর এক জোড়া কাঠবিড়ালি আর কাঠের ডেকের নিচে একজোড়া বন বিড়াল বাস করে। ছাই -কমলা  রঙের শালিক পাখিও  ছিল এখানে। এখন ঠান্ডা পড়াতে তাদের আর দেখি না। এই সেই ছয় তলা উঁচু ঝাউ গাছ, দাঁড়িয়ে আছে পাঁচিলের ও পাশে। পাখি দুটো অনবরত কিচির মিচির  করে যাচ্ছে ওই ঝাউয়ের  ডালে বসে। কিন্তু ক্যামেরা অন করতেই তাদের গল্প শেষ। 

এখন আবার শুরু হয়েছে রজার্সের  বাজানো গানের মূর্ছনা। ওর সুরের পছন্দ খুব ভালো। আমার পছন্দের সাথে মিলে।  একটা ছোট্ট ফড়িং-  এর মত মেটে রঙের পোকা আমার  ফোনের স্ক্রিনের ওপর এসে বসেছে। বারবার চেষ্টা করছে টাচ স্ক্রিন কেমন  হয় তা বুঝতে। কখন উড়ে এসে বসলো জানি না। 

পৃথিবীতে এরও কোন না কোন প্রয়োজন আছে। শুধু প্রশ্ন খুঁজে বেড়াই আমাদের নিজেদের নিয়ে। প্রশ্ন করবই না কেন?  সময় যখন থেমে থাকে তখন তো এমনটা ভাবাই  স্বাভাবিক।

 

সময়  থেমে থাকার  আরেকটা ব্যাখ্যা আছে। তা হলো খুব দ্রুত গতিতে ভ্রমণ করলে সব সময়টুকু কিভাবে পার হলো তা টের পাওয়া যায় না।   কিন্তু দ্রুত ভ্রমণ করছি  এমন  কোন কিছুই তো অনুভূত হয় না। আমি কল্পনা রাজ্যে ঘুরে বেড়াই অনেক দূর । তোমায় নিয়ে। চারিদিক মনে হয় একদম নিশ্চল, নিশ্চুপ। 

আমি খুব সুখী - তোমাকে পেয়ে। তোমার সাথে দেখা তো হঠাৎই হয়েছিল। আমি বইয়ের পাতায়  মুখ রেখে সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে কোর্স ফাইনাল ভাইবার  জন্য শেষ  রিভিশনটুকু দিচ্ছিলাম। তুমি তখন সিঁড়ি দিয়ে উঠছিলে। পাশ দিয়ে তোমার বন্ধু নেমে যেতে যেতে জিজ্ঞাসা করল,  ‘কেমন আছো?’

 মনোযোগ সরে গেল আমার। বই থেকে মুখ তুলে তাকালাম। দেখি একদম সামনা সামনি একজন সুপুরুষ ঠিক আমার সামনে। আমিও তেমনি তোমার সামনে তাই  তোমার দৃষ্টি সরাসরি ছিল না। পাশ কাটিয়ে দেখেছো কিছু হয়তো বা। কিন্তু সেই ঘন কালো চোখ আর বুদ্ধিদীপ্ত পৌরুষ মাখা অপূর্ব এক সুপুরুষকে বই থেকে মুখ তুলে কি আমি হঠাতই দেখে ফেলেছি?  নাকি প্রকৃতি সেই মুহূর্তটা আমার জন্য এভাবে নির্ধারিত করে রেখেছিল? এমন এক সুপুরুষকে বইয়ের পাতা থেকে জীবনের পাতায় এনে দিল। ভাবলে এখনো শিহরণ লাগে। তুমি হাসছো আর বন্ধুকে উত্তর দিয়ে সিঁড়ি উঠছো  এই বলে।  ‘ভালো’। ছোট্ট করে একটা উত্তর, কিন্তু  কি অমায়িক তোমার কথা বলার ধরণ। কি হাস্যজ্জ্বোল তোমার চাহনী। বইয়ের পাতা থেকে মুখ সরিয়ে তোমাকে  সেদিন যখন দেখেছিলাম, সেই  প্রথম দেখায় আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। সারাটা পথ তোমায় ভেবে ভেবে বাসায়  ফিরে দেখি  ক্যালেন্ডার নতুন পাতা যেটা খোলা হয়েছে সেখানে লেখা আছে First impression remains forever.

কেউ যেন জেনে গেছে আজ আমার মনের মানুষকে আমি দর্শন করেছি।  কেউ যেন আমাকে জানাতে চাইছে ,  এই মানুষটাই সেই মানুষ। তোমার মানুষ।

তখন জীবনে.২১ টি বসন্ত পেরিয়েছে। ১৯৯২ সাল। সেই সকালটা ছিল বসন্তের সকাল।

তারপর আরো কত সকাল, আর কত বিকেল পার হয়ে গেছে আমাদের।   সেদিন তোমার সাথে একটা বিশেষ দিন ছিল আমার।

বাসায় ফিরেই ঘরে ঢুকে দেখি অতিথি। মুখটা দেখিয়ে চলে যাব ভেতরে।  একদেখায় শুধু আমার মুখখানা দেখেই বললেন, ’ জানো, আজ তোমায় অন্যরকম লাগছে।’

 আমি বললাম, ‘ কেমন অন্যরকম?’

 তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে দুষ্টু হাসি হেসে বললেন,’ না, বলবো না।’

 আমি আজও জানিনা তিনি কি বলতে চেয়েছিলেন আমার চোখ মুখ দেখে। হয়তো বা বলতে চেয়েছিলেন,’ অন্যরকম লাগছে , যেমন মানুষকে লাগে, তার  জীবনে  প্রেমের স্পর্শ আসলে ।’ এই কথাটি তিনি বলেননি। কিন্তু আমার মনটা ভীষণ উচ্ছ্বল ছিল। সেদিন আমাদের  মনে মনে অনেক  কথাই হয়েছিল, যা শুধু আমরা দুজনে জানি। 

তুমিই তো আমার সেই প্রেম। আজও  সব সময়, আমার পাশে।  তাইতো আমি কখনোই একা নই। 

২২/১০/২০২৬


Thursday, October 22, 2026

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

 ২০১১ এর দিকে নর্থ -ইয়র্কে থাকাকালীন  রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর  নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট -টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়। তাই সুমনের গাড়িতে আজ রুমা গিয়েছে ওই মার্কেটে। সুমনও আছে তার সাথে। সেও তার নিজের বাজার সদাই করবে। অন্তত এক মাসের বাজার করে তারা দুজন বাড়ি ফিরবে। 

মাসের বাজার,  ট্রলিতে রাখতে  রাখতে সদাই পাতির ভারে ট্রলি উপচে পড়ছে ।অপেক্ষাকৃত কম দামে বাজার করা যায় বলে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা আসে এই চাইনিজ  সুপার মার্কেটে । আর চীনা কমিউনিটি তো কোনোভাবেই বাদ যায় না।  

লিস্ট ধরে জিনিসপত্র কার্টে তুলে কম সময়ে কাজ সেরে ফেললেও টাকা পরিশোধের জন্য কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে  হয়। আর তখন শুরু হয়  ধৈর্য্য পরীক্ষার শুরু। সবাই  অপেক্ষা করে কখন তার পালা আসবে। এছাড়া যে আর কোন অপশন নেই।

 দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে চারিদিকে চোখ মেলে দেখে রুমা।। কত বড় সুপার মার্কেট আর কত মানুষ এখানে কাজ করছে। সবাই চিনা নাগরিক।  এদের কমিউনিটি সব সময় প্রাধান্য পায় তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ পেতে ।এরকম একতা যদি সকল জাতির মাঝে থাকত, ভাবতে ভাবতে রুমা তাকায় ঐ দূরের ৬ নাম্বার কাউন্টারে। একটি ২০/২২  বছরের মেয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জিনিসপত্র ওজন করছে, স্ক্যান করছে তারপর হিসেব করে পাশে রাখছে। তার কাউন্টারে ক্রেতার কার্টে প্রচুর জিনিস। রুমাদের মতনই।  তবে ওই কাউন্টারে শুধু তারাই যাবে, যাদের ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করার সুযোগ নেই , যারা এখনো  কাগজের নোট দিয়ে জিনিসের দাম পরিশোধ করে। তাই ঐ কাউন্টারে  ভীড় কম। কারণ বেশির ভাগ  ক্রেতা সাধারণেরা আজকাল কাগজের নোট বহন করে না। দু’ একজন বাদে।  তাই কয়েকজন মাত্র  ওখানে ভিড় জমিয়েছে। রুমার দৃষ্টি অনুসরণ করে সুমন ও তখন তাকালো ৬ নং কাউন্টারের দিকে।  চোখের পলক পড়া মাত্রই রুমার মনে হল কাউন্টারের সাড়ে পাঁচ ফুট লম্বা চিনা মেয়েটির জায়গায় একটা সাড়ে পাঁচ ফুট আস্ত মাছ লম্বা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বেশ অবাক হয়ে মনে মনে হেসে ফেলল রুমা। নিজেকে প্রশ্ন করলো, মাছ কি কখনো সোজাভাবে দাঁড়াতে পারে? আর তখনই খুঁজে পেল তার মনের ভেতরে থাকা এত দিনের প্রশ্নের উত্তর। 

চিনারা সবকিছু খেতে পারে। সাপ, ব্যাঙ সবকিছু। কিভাবে পারে ?

এই জাতি নিজেরা প্রজাতিগত ভাবে মাছ নয় তো? 

জলের তলে মাছগুলো তো ব্যাঙ, সাপ এমনকি কাদাও খায়। ওদের সাথে সংকর করেই কি এই চিনা জাতি সৃষ্ট?

হঠাৎ করে কাউন্টারে দাঁড়ানো ওই মেয়েটির জায়গায় একটা আস্ত মাছ দেখলো কেন রুমা?  

চোখের এক পলকের এদিক সেদিক হতেই  আবার সব আগের মতন। 

মজার ছলে তাই সুমনকে বলল, ‘ জানো ঐ যে ঐ মেয়েটাকে দেখো। আমি ওর জায়গায় হঠাৎ করে চোখের পলক ফেলতে গিয়ে একটা লম্বা আকৃতির মাছ দেখেছি।’

 সুমন উত্তরে বলল, ‘ আমিও দেখেছি।’

 সুমনের উত্তরে কোন ভনিতা ছিল না। 

তাহলে?

এ কেমন একটা ব্যাপার হলো একটু ক্ষণের মাঝে? একজনের দেখার বিভ্রম ঘটতে পারে। কিন্তু দুজনের একই বিভ্রম হতে পারে কি?

 ঠিক যে সময় মেয়েটির DNA গত শেইপ -শিফটিং  হয়েছে, সেই সময়ে রুমা ও সুমন  দুজনেই ঐ কাউন্টারের  দিকে তাকিয়ে ছিল।  রুমা যতই নিজেকে অন্য সময়ে নিজের চোখের ভুল বলে, মানুষরূপী প্রাণীদের শেইপ - শিফটিংকে  অস্বীকার করুক না কেন, আজ  সুমনের সাথে একসঙ্গে মাছ -কন্যা দেখার অভিজ্ঞতা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।

০৭/০৯/২০২৬

·     শেইপ শিফটার ১ – দাঁড় কাক শেইপ শিফটার ২ – বেজী

Monday, October 19, 2026

ভগ্ন শাখা

 


জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে। একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি দাঁড়িয়ে থাকে—ক্ষতবিক্ষত, নিঃসঙ্গ, কিন্তু শিকড়ের গভীরে বেঁচে থাকার একগুঁয়ে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। বিলুপ্ত ডাল যেমন বৃক্ষের অতীতের সাক্ষ্য বহন করে, তেমনি জীবনের ভাঙনও আমাদের হারানো দিনগুলোর চিহ্ন হয়ে থাকে।


__________________________

জীবনের ভগ্নদশা যেন এক প্রাচীন বৃক্ষের নীরব পরিণতি—যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে কালের নিষ্ঠুর আঘাতে। যে শাখায় একদিন স্বপ্নের কুঁড়ি ফুটত, পাখিরা গাইত প্রত্যাবর্তনের গান, আজ সেখানে কেবল শূন্যতার ধূসর বাতাস।

বিলুপ্ত ডালগুলো পড়ে আছে অতীতের নিঃশব্দ স্মৃতির মতো; তারা আর ছায়া দেয় না, ফুল ফোটায় না, তবু বৃক্ষের শরীরে রেখে গেছে তাদের অস্তিত্বের গভীর ক্ষত। মানুষের জীবনও তেমন—হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক, অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা আর ভেঙে পড়া আশার ভারে কখনো কখনো নিঃসঙ্গ বৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থাকে।

তবু সেই বৃক্ষ সম্পূর্ণ মৃত নয়। তার অদৃশ্য শিকড়ে জমে থাকে পুনর্জন্মের গোপন সম্ভাবনা। কারণ ভগ্ন জীবনও জানে—সব ডাল বিলুপ্ত হলেও, মাটির গভীরে যদি সামান্য প্রাণ রয়ে যায়, তবে কোনো এক অনামা ঋতুতে আবারও নতুন পাতা জন্ম নিতে পারে।

Sunday, October 18, 2026

ছবি ব্লগ - বিনীত , অবনত বৃক্ষ


 

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো  স্রষ্টার কাছে সে যেন  নিবেদিত প্রার্থনায়  অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে ফেলে, প্রার্থনায় নুয়ে আছে। 

সেরকম আমাদেরও উপলব্ধির এক পর্যায়ে  হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে  অহংবোধ বিলুপ্ত হয়ে যায় । থাকে শুধু  স্রষ্টার প্রতি  আত্মসমর্পণ। মাথা নত করে, নিজেকে সঁপে দিই সৃষ্টির অসীমতায়। জীবনের সকল গর্ব, সকল আত্মগরিমা বিসর্জন দিই নীরবে, গভীর তৃপ্তিতে। এই অবনমিত হবার মুহূর্তে আত্মা, শুদ্ধ ও প্রশান্ত হয়ে উঠে। বিনয়ের মাঝে  খুঁজে  পাই   জীবনের চরম সত্য। 

মানুষের মহত্ব তার বিনয়ে। তার স্রষ্টার কাছে অর্থাৎ প্রকৃতির কাছে তার আত্মসমর্পণে। তার ফেলে আসা অহংবোধে নয় ।


Saturday, October 17, 2026

ছবি ব্লগ - শুষ্ক তরু

পথে যেতে চোখে পড়লো নিঃসংগ এক বৃক্ষ। পাতা ভরা ডালে একদিন সে শোভিত ছিল। 
এখন সে  শুষ্ক তরু।  আজ ভীষণ  নিঃসঙ্গ। ঠায় দাঁড়িয়ে আছে একাকী। অক্টোবরের প্রায় শুরুর দিকে পঞ্চম দিন ছিল সেদিন।  সকালের মাত্র শুরু। রোদ ঝলমলে দিন। তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। তাকে দেখে মনে হলো, পাতা ছাড়ার সে কি আপ্রাণ চেষ্টা তার সমস্ত কান্ড জুড়ে। সে যেন  আবার বাঁচতে চায়।  বজ্রপাতে দ্বিখন্ডিত একটা গাছ দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম একবার । তখন ২০০৭; হাতে হাতে ক্যামেরা ছিল না যে ছবি তুলে রাখবো। কিন্তু স্মৃতিতে সেই ভয়ংকর দৃশ্য এখনো   প্রকট । আর এবার ২০২৬; এই গাছটি সামনে এলো।

বৃক্ষটির নিঃসংগ আর ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা  দেখে আরো মনে হলো, মানুষের জীবনের শেষ পরিণতিও অনেকটা এইরকম। শুষ্ক এই তরু একদিন তো  এমন ছিল না। 
তার ডালে বসে  পাখিরা কি গান গায় নি? 
পাখিরা কি ঘর বাঁধে নি? 
তার  ছায়ায় ক্লান্ত পথিক কি  বিশ্রাম নেয় নি? 
সময়ের সাথে সাথে সব যেন বদলে গেছে। আমাদের জীবনেও  উচ্ছ্বাস, কর্মব্যস্ততা, প্রিয়জনের সান্নিধ্য আর সম্পর্কের কোলাহল একসময় ফিকে হয়ে আসে।  চারপাশের পরিচিত মুখগুলো হারিয়ে যায়। তখন স্মৃতিগুলোই হয়ে ওঠে একমাত্র সঙ্গী।  আমরা  যেন এই শুষ্ক তরুটির  মতো অতীত বসন্তের সাক্ষী হয়ে একাকী হয়ে পড়ি। 
পার হয়ে যাওয়া সময় জানান দেয় আমাদের ক্ষয়ে যাওয়া  অবয়বের মাঝেও লুকিয়ে আছে  পূর্ণ জীবনের ইতিহাস। এই বৃক্ষটির মতন অসংখ্য  পার হয়ে আসা বসন্তের নীরব গল্পও আছে । 
মানুষের বার্ধক্য ও নিঃসঙ্গতা এমনি কঠিন এক বাস্তবতা। কিন্তু তারপরও, এ যেন  শূন্যতা নয়,  দীর্ঘ দিনের চলতে থাকা জীবন -পথের  অভিজ্ঞতাপূর্ণ এক নীরব অধ্যায়। 
জীবন একটা গল্প। জীবন নিজেই একটা উপন্যাস।



Wednesday, October 14, 2026

ছবি ব্লগ -ফুলদল

 প্রকৃতি যখন যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়ে, সূর্য ক্লান্ত অভিমানে আড়াল করে তার দীপ্ত মুখ। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। শীতের নিঃশব্দ আগ্রাসনে নিস্তব্ধ  চারপাশ।  জীবনের স্পন্দন নেই। তারপরও  কোথাও কোনো কোণে নিভৃতে  ফুলের কুঁড়ি তার দল মেলে জানান দিচ্ছে সমাপ্তির শেষেও ভালো কিছুর সম্ভবনা আছে। 


এই কুঁড়ির প্রশান্ত হাসি,মেঘলা দিনেও সমস্ত অবসাদ  ডিঙিয়ে ইংগিত করছে  সম্ভাবনা আশা।  সে বলছে আবারও জেগে উঠবে বোধ। সম্মান বোধ। মানুষের আত্মসম্মান বোধ। 

অসভ্যতাকে পিছে ফেলে আবারও ফিরবে মানুষ তার দীপ্ত চেতনায়  । তাই যতই প্রতিকূলতা ঘনিয়ে আসুক, জীবনের  কোনো প্রান্তে ভালো কিছুর সম্ভাবনা নিশ্চয়ই আছে। নিশ্চয়ই সকল বাধা পেরিয়ে ভালো কিছু আসবে।  


[১০ই অক্টোবর ২০২৬ (১০.১০.১০) শনবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালিমা লেপন। এও দেখা বাকী  ছিল ।]


Sunday, October 11, 2026

ছবি ব্লগ -স্কারবোরো

 1. Photograph Description:  

This photograph captures a beautiful autumn moment along the sidewalk beside the property, with high-rise residential buildings forming the urban backdrop. Brilliant red, orange, and golden autumn leaves grow along the fence, while mature evergreen trees rise behind them. The scene captures a small but beautiful pocket of nature within an urban Scarborough neighbourhood.

2. Where the photograph is taken: The photograph was taken outside the residential building at 10 Glen Everest Road in Scarborough, M1N 1J4, Ontario.


3. Why Nature Is Important to Me:

Nature gives me a sense of peace and reminds me to slow down and appreciate life's simple beauty. Trees, flowers, sunlight, and the changing seasons make our built environment feel more alive and human. Even in the heart of a city, a small touch of nature can completely transform how a place looks and feels.

Friday, October 9, 2026

স্বপ্ন -৩ তোমায় দেখা

ঝলমলে সকাল। হেমন্তের বাতাস, শরতের নীল আকাশ। শীত আসছে বলে। রাস্তার ওই পাড়ে গাছপালা ছাড়িয়ে,ফুলের  ঝাড় পেরিয়ে হলুদ প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে। সময় দেখলাম সকাল ১১ টা। মনে পড়ল কার সাথে যেন দেখা হয়েছিল কাল রাতে? আর  সেই কথা মনে করিয়ে দিতে এসেছে হলুদ প্রজপতি? মনে পড়ে গেল কাল রাতের স্বপ্ন।


দৃশ্য -১

চোখের সামনে আমাদের পুরনো বাড়িটা এসে পড়েছে। যে বাড়িটার কথা কখনো ভুলতে পারিনা। তাই বারবার চিন্তার মাঝে আমি ওই বাড়িতে ঘুরে বেড়াই। ঘরগুলো বেশ বড় বড় দেখাচ্ছে । ওই দিকটায় বারান্দায় পাশে আমার ঘর। তারপর একটা হলওয়ে শুরু। সেটা দিয়ে বিস্তৃত বারান্দায় প্রবেশ করা যায়। হলওয়ের আমি যাবার বেলায় দেখলাম  তুমি আমার  পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে দুবার।  পাশ ঘেঁষে।  কিন্তু একটুও  ছোঁয়া লাগেনি। তখন ই উপলব্ধি করলাম তুমি এসেছ আমাদের বাসায়, বা থাকছো অনেকদিন ধরেই।

আমি হয়তো বা চলে গেছি ড্রইং রুমের পাশে, পর্দায় ঘেরা ছোট্ট থাকার জায়গাটায়ে, যাকে বাড়ির  ডাইনিং রুম না বানিয়ে পর্দা দিয়ে থাকার ঘর বানিয়েছি। আরব লিভিং স্পেসকে ডাইনিং রুম বানিয়ে খাবার টেবিল পেতেছি। 

পাশ দিয়ে যখন হেঁটে গেলাম কথা হয়নি একবারও। খাবার টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে দূর থেকে তোমাকে ঘরের মাঝে বসে থাকতে দেখলাম। ঘরে তখনো বাতি জ্বালানো হয়নি ।অন্ধকার। এবার আমি প্রবেশ করে বাতি জ্বালিয়ে দিলাম। তারপর নিজ থেকে বললাম,’ লাইট জ্বালিয়ে দিই। অন্ধকার তো’।

 তোমার মুখ স্পষ্ট দেখিনি কিন্তু ভীষণভাবে বুঝতে পারছি -এ  যে তুমি!  সত্যইই= তুমি, এবং আমাদের বাসায়। থাকছো আমার ঘরে। আমি ঘরে প্রবেশ করলে কথা বললেও তুমি কোন কথা বললে না।


দৃশ্য -২ 

তিনতলায় আমাদের সেই বাসায় বিস্তৃত বারান্দা ছিল। সম্পূর্ণ বারান্দা নেট দিয়ে আবদ্ধ ছিল। অথচ এবার দেখছি খোলা বারান্দায় ব্যালকনির পাশে আমি দাঁড়িয়ে রাতের  তারা ভরা আকাশ দেখছি। সামনে একটা বিশাল বড় গাছ।  বহু পুরনো বিশাল উঁচু, ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। অনেক কালের  প্রাচীন বৃক্ষ সে। যেন বহু বছরের, বহু শতাব্দীর সময় সাক্ষী, ঘটনার সাক্ষী। অন্তত দশতলা বিল্ডিং এর সামন  উঁচু তো হবেই। সামনে দৃষ্টির সীমানায যতদূর যায় কোন বসতি নেই।  খালি ফাঁকা মাঠ। রাতের অন্ধকারে ঢাকা।  কোথাও কোন আলো নেই। শুধুই অন্ধকারের আলো। গাছের পেছনে মনে হচ্ছে ওই দূরের মাঠের পারে  একতলা ব্যারাক আছে। সেখান  থেকে একটা মৃদু আলো ভেসে আসছে। ব্যারাকের ওই ঘরে যেন তুমি আছো। 

আর আমি? 

খুব দূরে, আমার বাড়ির এই খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। তোমায় দেখার জন্য দাঁড়িয়ে আছি আর  তোমার খুঁজছি। আকাশের তারাগুলো দেখছি। সামনের  সুঠাম দেহের বৃক্ষটির কান্ড ঘেঁষে তোমার ঘরটি খুঁজবার  চেষ্টা করছি। এতো অন্ধকার চারিদিকে, মনে হচ্ছে এই পুরো জায়গায় ব্ল্যাক আউট চলছে। হতে পারে জনপদ থেকে কোন বিচ্ছিন্ন এই এলাকা। তাই কোন আলো নেই। আমার বারান্দা ও বাড়ির আশপাশেও কোন আলো নেই। ভীষণ অন্ধকার। কিন্তু আকাশে একটা আভা। সে যেন খবর পাঠিয়ে  বলছে,  এই অন্ধকার রাতে, তুমি জেগে আছ। তুমিও জানো আমি এখানে দাঁড়িয়ে  আছি তোমার জন্য। 

কিন্তু গাছটা যে তোমায় আমায় দেখার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে!

 আমি তাই বলেই ফেললাম, ‘গাছের আড়ালে তোমায় দেখতে পাচ্ছি না।’ 

গাছটি যে তোমাকে আড়াল করে রেখেছে।  তুমি এবার কথা বলে উঠলে। আমার  খুব কাছে এসে দাঁড়িয়েছ এবার। 

বারন্দায় এবার আমি আর তুমি। শুধু আমরা দু’জন। অনেক রাত। শুধু আমরাই জেগে। 

 আমায়  উত্তর দিলে, ‘গাছটা তাহলে কেটে ফেলতে হয়।’

 আমি আঁতকে উঠলাম।  বললাম, ‘না এ গাছ কাটা যাবে না।  কত পুরোনো  গাছ এটা। কিভাবে সম্ভব?’

এবার তুমি  আমার আরো  কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছো। কোমর জড়িয়ে ধরেলে। অনুভব করছি তোমার স্পর্শ। তোমার সমস্ত বাহু আমাকে জড়িয়ে আছে।হ্যাচকা টানে আচমকা কাছে টেনে নিলে। একদম তোমার বুকের ভেতর।  বললে ‘চল বিয়েই করে ফেলি। তাহলে গাছটা আর কাটতে হবে না।’


অক্টোবর ০৯, ২০২৬

ভোর মাত্র

......।।

স্বপ্ন -১ ফ্লরিডার বিকেল
স্বপ্ন -২ এমার কাছে

Sunday, October 4, 2026

আমার ভাবনা


 আমার ভাবনার কথা প্রশ্নোত্তর  আকারে লিপিবদ্ধ করেছিলাম ২০০৭ সালে।

১. আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন

বসবাস বেড়ে ওঠা, জীবনের পথ ধরে চলতে থাকা সবই এখানে, মানে এই ভার্চুয়াল স্পেইসে। রিয়েল স্পেইসে  খুব একটা যাওয়া হয় না। তাই কর্ম জগত বন্দী হয়ে আছে ভার্চুয়াল স্পেইসে আগত ভার্চুয়াল আই.ডি. ধারী মানুষজন দিয়ে। সোজা কথা রিয়্যালিটি থেকে বিচ্ছিন্ন।


২. কেন লিখি?

 একবার  ই -ম্যাগাজিনের ভার্চুয়াল স্পেইসে একটি লেখার খুব প্রয়োজন ছিল, বলে আমার মনে হল। লেখাটি তৈরি করলাম । এভাবে আরও কয়েকটি লেখা তৈরি হয়ে গেল। ই -ম্যাগাজিনের জন্যই লেখালেখি শুরু হল ।অর্থাৎ  indirectly বলা যায় ই- ম্যাগাজিনের পাঠকদের জন্যই আমার লেখা শুরু।


৩. প্রিয় লেখক কে?

লেখক বিশেষ কেউ নেই, আবার কেউ তৎক্ষণাৎ প্রিয় হয়ে যায় যদি কারো লেখার বিষয় ও স্টাইল ভালো লেগে যায় । তখন  তিনি ওই সময়ের জন্য প্রিয় লেখক হয়ে যান ।

৪. ইন্টারনেট কি বাংলা সাহিত্য কে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে?

ইন্টারনেট একটি মাধ্যম যা, বাংলা সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে, যদি না হঠাৎ কোন অলৌকিক কারণে এ প্রযুক্তি থেমে যায়! থেমে গেলে তখন অন্য কথা। সব হারিয়ে যাবে। আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। আমরা তো দমে যাবার প্রজাতি না।  


৫. বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যত কেমন?

বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। বাংলা সাহিত্যের চর্চা ব্যাপক। আর তাই এর প্রসারতা সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাবে ও বিস্তৃতি লাভ করবে।


৬.সাহিত্যের দায়বদ্ধতা

সাহিত্যের দায়বদ্ধতা বলতে বুঝি লেখক হিসেবে যে শিল্পসাহিত্য সৃষ্টি করছি তার মান শিল্প-সম্মত হওয়া। এই মাত্রাবোধ বিভিন্ন হতে পারে। তা থেকে তর্কের সূচনা হতে পারে। তাই এইটুকু বলতে চাই যে, একজন লেখক, কবি, নাট্যকার, গীতিকার অর্থাৎ একজন শিল্পী যা সৃষ্টি করুন না কেন, তা যেন সুন্দর হয়, শৈল্পিক হয়। আর যিনি   সুন্দর রচনায়  ব্যর্থ, তার অন্তত অসুন্দরের চর্চা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।


৭.আপনি কি চান কেউ আপনার লেখা মনে রাখুক?

আমার লেখা কেউ মনে রাখুক, তা কখনোই ভাবি না। অমন রচনা তৈরি করবার যে দক্ষতাটুকু তো প্রয়োজন, তা যে আমার নেই।


৮.আপনার স্বপ্ন

আমার স্বপ্ন অনেক। ভার্চুয়াল স্পেইসের বাসিন্দা আমি।  ভার্চুইয়াল রিয়্যালিটি একদিন রিয়্যাল জগতের মানুষদের সকল দুঃখ বেদনা ঘুচিয়ে দিবে। সকল আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে দেবে এই কামনাই করি। 

.....................

Friday, October 2, 2026

বর্ষণ মুখর সকাল

আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে  এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে  মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন খারাপের সকাল হয়ে আসে। আকাশ জুড়ে ঘন কালো মেঘের ছায়া, কখনো হালকা, কখনো গভীর বৃষ্টির ঝাপ্টা সারা পরিবেশ জুড়ে ছড়িয়ে দেয় এক রহস্যময়তা। বাতাসে ভেসে আসে ভেজা মাটির ঘ্রাণ, গাছের পাতায় জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা ঝরে পড়ার মৃদু শব্দ। কোথাও দূরে বিদ্যুত চমকায়, কোথাও আবার টুপ টুপ শব্দ। 
তাপমাত্রা এখন ১২ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। বেশ ঠান্ডা। এমন সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার ইচ্ছে কমে যায়। মনে হয় চায়ের কাপ হাতে জানালার পাশে বসে প্রকৃতির এই  দৃশ্য উপভোগ করি।জানালার এপাশ থেকে  বৃষ্টির টিপটিপ শব্দ, ঠান্ডা বাতাস, আর মেঘলা আকাশ—সব মিলিয়ে মন জুড়িয়ে যায়। কিন্তু  বাইরে বেরিয়ে দেখি বাতাসের ঝাপটায় ফুলগুলো সব ঝরে পড়েছে। এই ঝরাফুলের দৃশ্য এক বিশেষ অনুভূতি এনে দিয়েছে। জীবনও তো এভাবে ঝরে পড়ে। তারপর  প্রকৃতি তার নতুন রূপে ধরা দেয়। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া মানুষ আর ফিরে আসে না।

০২/১০/২০২৬
 

হায়ার সেলফ্‌

শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে আবাসিক এলাকার আশপাশ, তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার ...