সংখ্যার সিঙ্ক্রোনিসিটি


সংখ্যার সিঙ্ক্রোনিসিটি বলতে বোঝায় — এমন এক পরিস্থিতি, যখন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা, সংখ্যা-গুচ্ছ, বা সংখ্যার প্যাটার্ন (যেমন ১১:১১, ২২২, ১২৩৪, ১৮১৮ ইত্যাদি) বারবার বিভিন্ন জায়গায়, সময়ে, কিংবা পরিস্থিতিতে চোখে পড়ে। এগুলো দৈব বা কাকতালীয় মনে হলেও, অনেকেই মনে করেন এগুলো কোনো গোপন বার্তা, ইশারা বা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সংকেত।

উদাহরণঃ ঘড়িতে বারবার ১১:১১ দেখা, গাড়ির নম্বরপ্লেট, ফোন নম্বর, ঠিকানা বা কাগজপত্রে বারবার ৭৭৭, ১২৩, ৫৫৫ ইত্যাদি দেখা। যেমন এখন ২৬.০৩.২৬ তারিখের  সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে দেখাচ্ছে মন্তব্য করেছি ১৮১৮ টি। 

হঠাৎ কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বা পরে একই সংখ্যার সাথে বারবার সম্মুখীন হওয়ার  তাৎপর্য কি?

অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই সংখ্যাগুলোর মাধ্যমে অবচেতন মন, মহাবিশ্ব (universe), ঈশ্বর বা আত্মিক শক্তি আমাদের বার্তা পাঠাচ্ছে। জ্যোতিষশাস্ত্র, নিউ এজ স্পিরিচুয়ালিটি ও অ্যাঞ্জেল নাম্বার-এর ধারণায় সংখ্যার সিঙ্ক্রোনিসিটির গুরুত্ব অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ১১:১১-কে “জাগরণের সংখ্যা” বা “spiritual awakening”-এর সংকেত বলা হয়।

বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করে কার্ল গুস্তাভ ইউং বলেন, সংখ্যার সিঙ্ক্রোনিসিটি আমাদের মানসিক অবস্থা, আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত। কখনো কখনো একে “confirmation bias” হিসেবে দেখা হয়—অর্থাৎ, যখন আমরা কোনো কিছু আশা করি বা খুঁজি, তখন সেটি বেশি করে চোখে পড়ে।

সুতরাং সংখ্যার সিঙ্ক্রোনিসিটি হলো —  মানসিকভাবে অবশ্যই অর্থপূর্ণ  যদিও তা অবচেতন মন জানে,কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সংখ্যার প্যাটার্ন বারবার চোখে পড়া, যা ব্যক্তির কাছে একটি বার্তা, ইঙ্গিত বা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

এটি আধুনিক আত্মিক-মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাজগতে এক আকর্ষণীয় ও আলোচিত বিষয়। যারা নিউমারালজি জানেন তারা আরো বেশী উপলব্ধি করেন।

মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়


প্ল্যানেট Earth একটা কন্সাসনেস। পুরো প্ল্যানেট এখন 3D level((স্তর)  হতে 5D স্তরে উন্নীত হতে যাচ্ছে। 
লক্ষাধিক বছর আগে, আমাদের 12 strand DNA কে রেপ্টিলিয়ানরা (ইবলিশ) ম্যানুপুলেট করে নষ্ট করে দিয়েছিল। লাইট- সোর্স থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। বহু লক্ষ বছর আগে থেকে  আমরা অন্ধকার যুগে বসবাস করছিলাম। সোর্স থেকে পুরা বিচ্ছিন্ন। ২৬০০০ বছরের এই Dark age শেষ হয়ে গেছে (মায়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে) ২০১২ তে। spiritually  আমরা (সাধারণ মানুষেরা) অ্যাওয়েকেন হওয়া শুরু করেছি। 
 প্রফেসি অনুসারে গ্যালাকটিক ফেডারেশান আমাদের সাথে mass contact  করবে ২০২৭ এ। ১৯৭০   বা তারও আগে ১৯৪০  থেকে তারা বিভিন্ন দেশের  রাজ্যপতিদের সাথে কন্টাক্ট করে দেখেছে রাজা বাদশারা শুধু  ভীনগ্রহীদের কাছ থেকে  টেকনলজি  নিয়ে  পৃথিবীর মানুষদের মারে । যুদ্ধ লাগায় , প্ল্যানেটের কোন উন্নতি করে না। আরো দেখেছে এসব রাজ্যপতিরা সবই ক্যানিবাল এবং নন-হিউম্যান রেপ্টিলিয়ান। shape shift  করে মানুষের রূপ  ধারণ করে চলে। দু ' একজন মানুষ এ অবস্থানে আসতে পারলেও তাদেরকে তারা মেরে ফেলে। তারপর  তাদের ক্লোন বানিয়ে  সকলের সামনে উপস্থাপন করে। রেপ্টিলিয়ানদের এসব কর্মকান্ড ancient knowledge সমৃদ্ধ মেক্সিকোর শামান -রা,  বা তদের লেভেলের বুজুর্গ যারা আছেন, অন্য সব জায়গায়, তারা খুব ভাল জানেন। চ্যানেলার-রা জানেন। অ্যাবডাক্টিরা জানেন। কিন্তু জনসাধারণের কাছে এসব তুলে ধরা  শুরু হয়েছে ইন্টারনেট আসার পর থেকে। এখন সবাই রেপ্টিলিয়ানদের মত অন্যান্য ইভিল এন্টিটির  ব্যাপারেও সচেতন। 
ইভিল-দের প্রিয় জিনিস হলো মানুষের রক্ত,  মানুষের সাথে যুদ্ধ আর শিশুদের অ্যাসল্ট করা। যেহেতু শিশুদের DNA pure , তাই শিশুরা এদের পছন্দ। এখন এপস্টিন ফাইল সামনে আসাতে তারা মরিয়া হয়ে গেছে এসব ঢাকা দেবার জন্য। কিন্তু মানুষের হাতে ক্ষমতা না থাকলেও আত্মিক দিক দিয়ে  soul level  -এ মানুষরা এতটাই অ্যাওয়েকেন হয়ে গেছে যে, সেই শক্তির কাছে রেপ্টিলিয়ান- রা হেরে গেছে। ফলে এইসব যুদ্ধের সূচনা করেছে। ডার্ক ফোর্সের পরাজয় ঘটে গেছে স্পিরিচুয়াল লেভেলে , ২০১২  তেই। ডায়ানা কুপার  এর লেকচার শুনে দেখেন।  
লাইট -ফোর্স গ্যালাকটিক ফেডারেশানের সাহায্য নিয়ে জয়ী হয়ে যাবে  বলে প্রফেসি আছে।
গ্যালাকটিক ফেডারেশান এই ইউনিভার্সের মাঝে  5D বা তার উপরের 6D/7D এর non human entity. তারা আমাদের লোকাল -গ্যালাক্সি সমূহের দেখভাল করে। 
7D 'আর্কচুরিন' এবং 5D প্লেইডিয়ানরা চ্যানেলিং এর মাধ্যমে এ-ও বলেছে যে, তারা নিউক্লিয়ার -ওয়ার প্রতিহত করবে।

সৃষ্টিতে টাইম লাইন একাধিক।  রিয়্যালিটি একাধিক। কোন টাইম -লাইনের চ্যানেলিং , চ্যানেলার- রা করছে তা  বুঝা কঠিন। কিন্তু যদি এই প্রফেসি সত্য হয়ে থাকে তাহলে আমাদের প্রজাতি বেঁচে যাবে। এই প্ল্যানেট বেঁচে যাবে। আর নিউক্লিয়ার -ওয়ার হলে প্ল্যানেট  উড়ে টুকরা টুকরা হয়ে 'কিউপার বেল্টের' মত গুড়া গুড়া হয়ে যাবে। বা  Mars এর atmosphere উড়ে সমগ্র প্ল্যানেট যেমন  বসতিহীন হয়ে পড়েছিল, তা হবে।
আমরা যেমন তা চাই না। গ্যালাকটিক ফেডারেশানও তা চায় না। কারণ এতে সৃষ্টির ভারসাম্যের বিঘ্ন ঘটে। তাদের ফ্লিট  এখন দেখা দিচ্ছে আকাশে। বা বলা চলে আমাদের কনসাশনেস সেই পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে যে, আমরা তাদের ফ্লিট দেখতে পাচ্ছি। রাজ্যপতিরা আর লুকিয়ে রাখতে পারছে না। ২০২৭ এ ভীনগ্রহীরা  mass-কমিউনিকেশান করবে। তাই  এসব প্রতিরোধ করতে রেপ্টিলিয়ান  shape shifter - রা মরিয়া হয়ে ২০২৭-২০৩০ পর্যন্ত  সবকিছু তছনছ করবে। 
প্রফেসি আছে ইমাম মেহেদী আসবেন। ঈসা নবীর আগমন ঘটবে। মহাপ্রলয় একদিন শান্ত হবে। জাকারিয়া কামালের Scientific Tafsir এর লেকচার দেখেন। Alex Collier , Jordan Maxwell সহজ ভাষায় shape shifting  বর্নণা করেছেন। তাদের লেকচার শুনতে পারেন।




Reincarnation Cycle - Hindu and Buddhist samsara models



🌀 1. The Whole Diagram → Samsara (Cycle of Existence)



Image

Image

  • The circular, repeating structure directly corresponds to Samsara:

    • Continuous cycle of:

      • Birth → Life → Death → Rebirth

  • No clear start or end → aligns with:

    • Anadi (beginningless) nature of existence in Hinduism

    • Cyclic existence in Buddhism

👉 This diagram is essentially a stylized, abstract version of the Bhavachakra (Wheel of Life)


☀️ 2. Central Core → Atman / Buddha-nature / Ultimate Reality

Image

Image

Image

Image

Hindu Mapping:

  • Central light = Ātman (soul) or Brahman (ultimate reality)

  • Radiating structure → all existence emerges from it

Buddhist Mapping:

  • Not a permanent soul, but:

    • Luminous mind / Buddha-nature

    • Or:

    • The potential for enlightenment

👉 Key difference:

  • Hinduism → eternal self

  • Buddhism → no-self (Anatta), but underlying awareness


🔁 3. Concentric Rings → Levels of Samsaric Existence

Correspondence:

Diagram RingsSamsara Concept
Inner ringsSubtle existence (mental / karmic)
Outer ringsGross existence (physical life)

Buddhist Equivalent:

  • Similar to Six Realms of Existence:

    • Deva (god)

    • Asura (demigod)

    • Human

    • Animal

    • Hungry ghost

    • Hell

👉 The diagram abstracts these into continuous transitions rather than discrete realms


🌳 4. Trees → Impermanence (Anicca) & Cycles of Life

Image

Image

Image

Image

  • Trees at different stages represent:

    • Birth → growth → decay → death → renewal

Buddhist Concept:

  • Anicca (Impermanence)

Hindu Concept:

  • Prakriti cycles (nature’s transformation)

👉 Nature mirrors the same cycle as human existence


🧘 5. Human Figures → States of Consciousness / Spiritual Progress

Image

Image

Image

Image

These correspond to spiritual evolution within samsara:

Lower state:

  • Ignorance (Avidya)

  • Attachment (Tanha)

Higher state:

  • Awareness

  • Detachment

  • Enlightenment

Mapping:

  • Meditating figure → Seeker / Yogi / Bodhisattva

  • Radiant figure → Enlightened being

👉 These are not outside samsara—they are positions within it


🔄 6. Arrows → Dependent Origination (Pratītyasamutpāda)

This is one of the most precise mappings.

Buddhist Concept:

  • Everything arises through causal chains

Example:

Ignorance → Actions → Consciousness → Name/Form → Suffering → Rebirth

Diagram Equivalent:

  • Arrows = causal links

  • Flow = continuous dependent arising

👉 Nothing exists independently → everything flows conditionally


🔘 7. Small Nodes → Karma Transfer Points

These can be interpreted as:

  • Points where:

    • Actions → consequences

    • Karma → modifies next state

Mapping:

  • Karma accumulation / transformation nodes

👉 Like checkpoints where:

  • System state is updated based on past actions


🔁 8. Cycle Itself → Karma-Driven Rebirth Loop

Core Concept:

  • Samsara is driven by:

    • Karma (action + consequence)

    • Desire / attachment

Diagram Interpretation:

  • Movement along rings = karmic progression

  • No escape shown explicitly → trapped cycle


🧠 9. Reset Mechanism → Rebirth (Punarjanma)

Hindu:

  • Soul transitions body-to-body

Buddhist:

  • Continuity without a permanent self:

    • Like flame passing between candles

Diagram:

  • Cycle loops back → but not identical:

    • Suggests:

      • Continuity without sameness

👉 Perfect match to:

  • Buddhist rebirth model


⚖️ 10. Outer Text → Dharma (Cosmic Law)

Interpretation:

  • Governing rules of the system

Hindu:

  • Dharma → moral + cosmic order

Buddhist:

  • Dhamma → universal truth / law

👉 These define:

  • How karma operates

  • How transitions occur


🧭 11. Missing Element (Important Insight)

Unlike traditional Bhavachakra, this diagram:

❌ Does NOT explicitly show:

  • Escape (Nirvana / Moksha outside the wheel)

Instead:

  • The center may imply:

    • Liberation inward, not outward

👉 Interpretation:

  • Enlightenment = realizing the center

  • Not escaping the system physically


📊 12. Direct Mapping Summary

Diagram ElementHindu ConceptBuddhist Concept
Central lightBrahman / AtmanBuddha-nature / emptiness
Circular cycleSamsaraSamsara
ArrowsKarma flowDependent origination
TreesPrakriti cyclesImpermanence (Anicca)
Human figuresYogi / Atman realizationBodhisattva / awakening
NodesKarma accumulationKarma conditioning
Outer textDharmaDhamma
Full loopRebirth cycleRebirth cycle

🎯 Final Interpretation (Philosophically Precise)

This diagram encodes:

A karma-driven cyclic system of conditioned existence, where beings transition through states due to causality and ignorance, with the potential for awakening embedded within the system itself

Reincarnation Cycle

 

The image appears to be a stylized, symbolic diagram illustrating a **cycle of life, death, and rebirth (reincarnation)**.

At the center, there is a glowing circular core—almost like a sun or source of energy—suggesting the origin of life or consciousness. Surrounding it are multiple concentric rings with arrows, indicating a continuous, cyclical process rather than a linear progression.
Around these rings, several key visual elements repeat:

* **Trees at different stages**: These likely represent growth, decay, and renewal—symbolizing the life cycle.

* **Meditating human figures**: Positioned at different points, suggesting spiritual awareness, enlightenment, or transitions between states of existence.

* **Symbolic nodes or emblems**: Possibly representing phases, energies, or milestones in the cycle.

The outer circular paths are filled with flowing, script-like text (mostly decorative or stylized rather than readable), reinforcing the idea of an ancient or philosophical system—perhaps inspired by spiritual traditions.

Overall, the composition conveys:
* A **continuous loop of existence**
* The **interconnection between life forms and consciousness**
* A **spiritual journey** involving transformation, death, and rebirth
The parchment-style background and symmetrical layout give it the feel of an old manuscript or sacred diagram, combining artistic and philosophical themes.

চিঠি - তোমাকে

স্মৃতিশক্তি খুব দ্রুত কমে আসছে। যদি উলটা পালটা কথা বলি তাহলে কিছু মনে করো না। যেমন ধরো পাশ দিয়ে হেঁটে গেলাম, চিনলাম না, তখন ভেবো না, আমি না চেনার ভান করছি। আমি হয় অসুস্থ। আর যদি আমার আমি অন্য  প্যারালাল টাইম লাইন থেকে আসি, তাহলেও হয়তবা  তোমাকে চেনা চেনা লাগবে কিন্তু তখনো সেই আমি তোমার সাথে কথা বলবো না। কারণ অন্য টাইম লাইনের সবকিছু ৮০% মিলে যায়  আর একটু কম বেশী হয়। ফলে কনফিউশান সৃষ্টি হয়। চেনা মানুষের সাথে কথা বলা সাধারণত হয়ে উঠে না।

অনেকে বলে ফেলে, 'আপনার মত একজনকে আমি চিনি।' আমাকে এরকম পাঁচজন বলেছে। তার মাঝে ভিকারুন্নেসার দুজন ছাত্রী দুবার বলেছে। তারা অনেকক্ষণ একভাবে তাকিয়ে ছিল। বিশ্বাস করতে পারেনি যে আমি তাদের সেই চেনা ব্যক্তি না। এতোই বলে মিল পেয়েছে তারা।

যে ইউনিভার্সিটিতে কাজ করতাম সেখানে তিনবার ঘটেছে। মন্ট্রিয়লে আমাকে একজন দু'বার দেখেছে। আমি তো তোমাকে ট্রেনে দেখলাম। সেই ফার্স্ট ইয়ারের তুমি।   তখন ছিল সেপ্টেম্বর ২০২৫.

গত তিনি দশক কিন্তু আমার ভাবনা জগৎ একদম shut down ছিল। কিছু ভাবতাম না। দু’চারটা লেখা মাঝে মধ্যে লিখতাম। আমার সম্পাদিত ম্যগাজিনের ৩৭ টি সংখ্যার দু’ তিনটি বাদে কোথাও আমার কোন লেখা ছিল না।
আর এখন?
সুফি দর্শনের আধ্যাত্মিকতা বা মৃত্যুচেতনা আমার সব লেখায় কোন না কোন ভাবে এসে যায়। বিশেষ করে গত বছরের ১৭ই অক্টোবর থেকে আমার মাঝে একটা চিন্তা বেশ জেঁকে বসেছে। আর তা হলো, ‘আমার আর বেশী সময় নেই হাতে। আমার সব কথা লিখে যেতে হবে।’ আর এ থেকেই আবারো, তিন দশর পর, হাতে যেন লেখার ঝর্ণা নেমেছে।[মান যাই-ই হোক]। 
প্রথম ভাবনা 'ম্যনিফ্যস্টেশান' ছিল  প্রথম  অডিও  রূপে বলা আমার কথা।  তোমার মত একজনকে যে দেখেছিলাম ট্রেনে, পাক্কা ১ ঘন্টার জার্নিতে, সে নিয়ে  বলা কথা।  তারপর থেকে আরো কিছু গল্প সংযুক্ত হয়েছে অডিও হিসাবে । ইউটিউবের লিঙ্ক তো দিয়েছিলাম তোমায়। লেখা শুরু করেছি দু' তিনটা অডিও করার পর।    তাই দীর্ঘ বিরতির পর আবার সামু ব্লগে লেখাগুলো জমা রাখার জন্য ব্লগে আসলাম।
ভবিষ্যতে 3-days black out  হবার   prophecy আছে। তখন নেট সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাবে। এসব ফাইল অনলাইনে রেখে কি হবে ? তাও রাখি।

জীবনের এ পর্যায়ে এসে দেখি সব লেখা একত্রে জড়ো করলে একটা উপন্যাস হবে। জীবন আসলে খোদার লেখা একটা উপন্যাস। আমরা তার ভেতরের চরিত্র মাত্র। তাই  এই শেষের দিকে এসে আর কোন কিছুর জন্য আক্ষেপ থাকে না। 
আক্ষেপ নাই।

কালপুরুষ দা, সবসময় আপনাকে মিস্‌ করব


যাবার যখন সময় হয় সবাইকে যেতে হয়। গতকাল রাতে শুনলাম কালপুরুষ দা চলে গেছেন। মানে বাংলাদেশ সময় ৯ই মার্চ ২০২৬ রাতে। একেক জন মানুষ আসেন পৃথিবীতে, তাদের কাজ শেষ হলে চলে যান । বেঁচে থাকা কালীন অনেকের সাথে দেখা হয় আবার অনেকের সাথে দেখা হবার কোন সুযোগই ছিল না, তবুও পরিচয় হয়ে যায়। এভাবে সামহোয়্যারইন ব্লগের লেখকদের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে । সামনা সামনি কারো সাথেই দেখা হয়নি তবুও পরিচিত হয়েছি। একটা পরিবারের মতন সবাই সবাইকে পেয়েছি। এইতো জীবন। সামু ব্লগ থেকে লেখা নিয়েই ২০০৭ থেকে আমি সাহিত্য ম্যাগাজিন 'নব আলোকে বাংলা' সম্পাদনা করতাম। এই ব্লগের কারণেই প্রতিভাবান মানুষদের মণি মাণিক্যের মত লেখাগুলো এক জায়গায় জড়ো করতে পেরেছিলাম। আমার ম্যাগাজিন যেন তাদের প্রতিভার স্পর্শে একটা স্বর্ণখনিতে পরিণত হয়েছিল। তার মাঝে কালপুরুষদা-র অসম্ভব সুন্দর লেখা 'আমার রক্তের ইতিহাস' কালপুরুষ-আমার রক্তের ইতিহাস সামু ব্লগকে এবং আমার ম্যাগাজিনকে সমৃদ্ধিশালী করেছিল।

গত বছর ৩১শে মার্চ ২০২৫ এর ফেসবুক পোস্টে দেখলাম দাদার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। দেরীতে দেখেছি পোস্ট টা। ২০২৫ এর ২৬শে এপ্রিলে, তাঁর অসুস্থতার কথা শুনে আমার গ্রুপে লিখেছিলামঃ 'দাদা,আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি । ব্লগের হাত ধরে আমাদের সকলের সেই কতদিনের পথচলা।' আর আজ ১১ই মার্চ, ২০২৬- এ লিখছিঃ 'কালপুরুষদা, সবসময় আপনাকে মিস করব। আপনি কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলীর মতোই চিরকাল দীপ্তিমান ও উজ্জ্বল থাকবেন।' 

আজ পর্যন্ত যারা চলে গেছেন তাদের প্রতি আমরা সবাই আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।



স্মরণে

যাবার যখন সময় হয় সবাইকে যেতে হয়। গতকাল রাতে শুনলাম কালপুরুষ দা চলে গেছেন। মানে  বাংলাদেশ সময় ৯ই মার্চ ২০২৬ রাতে। সামু  ব্লগ থেকে লেখা নিয়েই ২০০৭ থেকে আমি সাহিত্য ম্যাগাজিন 'নব আলোকে বাংলা' সম্পাদনা করতাম। 
 
ইমন জুবায়ের ভাইয়ের  অসম্ভব সুন্দর সুন্দর গল্প নিয়ে আমার ম্যাগাজিনের গল্পের পাতা ভরে উঠেছিল। শ্রীলেখার বুনো হাঁস https://www.saveourenvironment.ca/issue14/fourteenth_golpo_Iman_Jubaer.htm যতবার পড়ি, মনে শুধু গেঁথে থাকে। ২০১১ তে চলে গেলেন ইমন ভাই।
তিনি যাবার আগে তার শেষ উপন্যাসটি আমাকে দিয়েছিলেন রিভিউ করে দেবার জন্য। আমি তো ভাবি নি উনি চলে যাবেন। আমি কাজটা একটু সময় নিয়ে করব ভেবে রেখে দিয়েছিলাম। তারপর যখন আমাদের রাত আটটার দিকে শুনলাম সকাল বেলা উনি চলে গেছেন এবং সুনীল সমুদ্র দা coincidentally তার অফিসের সামনে, কারো জানাজা হবে শুনে তা দেখতে গিয়েছিলেন, তখন দেখেন সেখানে আমাদের ইমন জুবায়ের ভাই। সেভাবেই ইমন ভাইয়ের শেষ যাত্রার ছবিগুলো দেখতে পেয়েছিলাম। 

অসম্ভব খ্যাতিমান ব্লগার  কালপুরুষ।  দাদা-র   অসম্ভব সুন্দর লেখা 'আমার রক্তের ইতিহাস' সামু ব্লগকে এবং  আমার ম্যাগাজিনকে https://www.saveourenvironment.ca/issue18/eighteenth_edition_frontpage.htm সমৃদ্ধি শালী করেছিল।  
গত বছর ৩১শে মার্চ ২০২৫ এর ফেসবুক পোস্টে দেখলাম দাদার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। দেরীতে দেখেছি পোস্ট টা। ২০২৫ এর ২৬শে  এপ্রিলে,  তাঁর   অসুস্থতার কথা শুনে আমার  গ্রুপে  লিখেছিলামঃ'দাদা, আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি । ব্লগের হাত ধরে আমাদের সকলের সেই কতদিনের পথচলা।  
আর আজ ১১ই মার্চ, ২০২৬- এ লিখছিঃ কালপুরুষদা, সবসময় আপনাকে মিস করব। আপনি কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলীর মতোই চিরকাল দীপ্তিমান ও উজ্জ্বল থাকবেন। 

 আর  প্রিয় খালেক ভাইয়ের কথা আমি জানতে পারিনি সাথে সাথে। অনেক পরে জেনেছিলাম যে, খালেক ভাই চলে গেছেন আমাদেরকে না জানিয়ে অনেক অনেক আগে। খালেক ভাইয়ের কবিতা,গল্প - কি ছিল না আমার ম্যাগাজিনের পাতায়।
ওনার লেখা 'সোনালী আভা ও একটি চিঠি'  https://www.saveourenvironment.ca/issue18/sonali_abha_Abdul_Khaleque.htm ফাইলটি চেয়েছিলেন আমার কাছে। কিন্তু কোন কারণে ফাইলটি ওনাকে পাঠানো হয়নি। উনার লেখা  'বাড়ির পথে' কবিতায় তার সমগ্র জীবনকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। খালেক ভাইয়ের আম্মা যখন মৃত্যু শয্যায়, তখন আমি খালেক ভাইকে বলেছিলাম ,আপনার এই কবিতাটি প্রিন্ট করে, আপনার আম্মাকে শোনান। তিনি তাই করেছিলেন। তারপর  আমাকে জানিয়েছিলেন যে, ওনার আম্মা খুব খুশি হয়েছিলেন তার এই কবিতাটি শুনে। আমারও খুব ভালো লেগেছিল। এটি এমন একটা কবিতা যেখানে সমগ্র জীবন  স্তরে স্তরে বিস্তারিত ভাবে  ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
তাই ভাবি পৃথিবীতে আসার পর যার যা কাজ তা শেষ হলে সবাই চলে যায়।চলার পথে কতজনার সাথে দেখা হয়। কিন্তু সামু প্ল্যাটফর্ম সবাইকে পরিচিত হবার সুযোগ করে দিয়েছে।  এ থেকেই আমি আমার ম্যাগাজিন -এর জন্য লেখা সংগ্রহ করতে পেরেছি।  সামনাসামনি কারো সাথেই দেখা হয়নি তবুও একটা পরিবারের মতন সবাই সবাইকে পেয়েছি।  
এইতো জীবন।
আমি খুবই ভাগ্যবান মনে করি নিজেকে এই কারণে, যে এত প্রতিভাবান মানুষদের মণি মাণিক্যের মত লেখাগুলো আমি এক জায়গায় জড়ো করতে পেরেছি। আমার ম্যাগাজিন যেন তাদের প্রতিভার স্পর্শে একটা স্বর্ণখনিতে পরিণত হয়েছে। 

আজ পর্যন্ত যারা চলে গেছেন তাদের প্রতি আমরা সবাই আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

মধ্যরাতের যাত্রী

 

আজ সুমনার কাজ একটু দেরী করেই শেষ হয়েছে। নার্সিং হোমের এই কাজে আছে প্রায় এক দশক ধরে। কাজ শেষ করতে প্রতিদিনই বেশ রাত হয়ে যায়। বৃদ্ধ রোগীদের দেখাশোনা করে তাদের সারাদিনের আর্জি আব্দার মিটিয়ে বাড়ি ফেরার যখন সময় হয়,তখন শুরু হয় আরেকটি নাটকের অধ্যায়। হোমের সকল বোর্ডারদের ভারাক্রান্ত মুখ। সুমনা চলে যাবে? কেউ তাকে ছাড়তে চায় না।ও এলে নার্সিং হোমে যেন প্রাণ আসে। আর চলে যাওয়ার সময়টা এলেই সবার মুখ কালো। তারপরও সুমনাকে তো বাড়ি ফিরতেই হবে। সেই সকাল থেকে শুরু করে রাত অব্দি কাজ। ওর খুব ভাল লাগে। তাই প্রাণ দিয়ে নিবেদিত সুমনা আরেকটু দেরী সয়ে নিতে পারে প্রয়োজনে।

কিন্তু আজকের বিকেলটা যেন অন্যরকম। কাজ শেষ করতে ওর কেন জানি মন চাইছে না। আর একটু যদি বেশী কাজ আজ থাকতো ভাবতে ভাবতেই হোমের সবচেয়ে বর্ষীয়ান মহিলা হঠাতই যেন অসুস্থ বোধ করা শুরু করলেন। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে গিয়ে সুমনার আজ বেশ দেরী হয়ে গেল। যেমন সে চাইছিলো। কিন্তু মধ্যরাত পেরুলেই বাড়ি ফেরার বাস সিডিউলের একটু পরিবর্তন হয়ে যায়। তখন বাসগুলো আসে বেশ দেরীতে। আর শীতের রাতে মাঝরাতও বেশ গভীর রাত মনে হয়। নিস্তব্ধ চারিদিকের মাঝে বাস স্টপেজে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য প্রতীক্ষা এক অন্যরকম অনুভূতি। গ্রীষ্মকালে এরকমটা একেবারেই না।

গভীর রাতে তাই নার্সিং হোমের উল্টোদিকের রাস্তায় বাসের জন্য অপেক্ষারত সুমনা চেয়ে থাকে প্রিয় কর্মক্ষেত্রের আলোয় ঘেরা চত্বরের দিকে। রাস্তার এদিকে আলো না থাকলেও নার্সিং হোমের আলোটুকুর আলতো স্পর্শ বাস স্টপেজকে আলোকিত করে রাখে কিছুটা হলেও। আধো আলো আধো অন্ধকারের মাঝে এ অপেক্ষাও তার ভাল লাগে। তবে ধৈর্য্য পেরুবার আগেই বাস চলে আসে। দু’এক জন যাত্রী এ স্টপেজে এসে মাঝে মাঝে দাঁড়ায়। কিন্তু এ মধ্যরাতে কেউ নেই আজ। সুমনা একাই অপেক্ষারত বাসের পথ বরাবর চেয়ে। এলাকাটা রেসিডেন্সিয়াল বলে এখানে যাত্রী চলাচল কম। তারপরও সুমনা খেয়াল করলো দূর থেকে কে যেন হেঁটে আসছে স্টপেজের দিকে। ধবধবে সাদা শার্ট পরিহিত ভদ্রলোকটির হাত দুটো পকেটে ভরা। শান্ত, ধীর পদক্ষেপ বেশ স্পষ্ট প্রতীয়মান। বাস ধরার তাড়া যেন খুব একটা নেই তার অথচ গন্তব্য মনে হচ্ছে এই স্টপেজ। আরেকটু কাছে যখন তিনি এলেন তার ব্যক্তিত্ব ও হাঁটার ভংগীমা দেখে সুমনার কেন জানি মনে হলো সে তাকে চিনে! এবং সত্যিই তাই। সুমনা চিনে ফেলেছে। এ তো তিনিই,তার খুব প্রিয় সেই মানুষটি যাকে দেখেই ভাল লাগতো সেই বহু আগের দিনগুলোতে। কিন্তু তিনি তো এ শহরে থাকেন না,আজ এলেনই বা কি জেনে,যে সুমনা এই স্টপেজে থেকে বাসে উঠবে? আর আজকের দিনটিও তো অন্যরকম। তার গতানুগতিক দিনের মত ঠিক রাত ১০ টায় তো কাজ শেষ হয়নি!

উনি এবার স্টপেজে এসে পৌঁছেছেন। মনে হচ্ছে যেন সুমনার কথা জেনেই তিনি এখানে এসেছেন। সুমনার দিকে তাকিয়ে আছেন, তাকে দেখছেন। খুব সলজ্জ এক অস্বস্তিতে পড়ে গেল ও। এত কাছে তিনি দাঁড়িয়েছেন। দেখছেন খুব সরাসরি। এই মধ্যরাতের বাস প্রায়ই খালি আসে আর পাশের শহরে সুমনাকে পৌঁছে দেয়া অব্দি তেমন কোন স্টপেজও নেই যে নতুন যাত্রীর আগমন ঘটে। কিন্তু আজ সুমনা একা নয় উনিও যাবেন এই বাসে। সুমনার সংগী হয়ে। কিন্তু একে কি সঙ্গী বলা চলে? জীবনের পথচলায় যাকে কখনো পাশে পায়নি,আজ একঘন্টার বাস ট্রিপে তিনি পাশে উপবিষ্ট থাকলেই কি সঙ্গী হয়ে যেতে পারেন? কল্পনায় পেয়ে নিয়েছে তাকে বহুবার কিন্তু বাস্তবে আজ তার এই হঠাত উপস্থিতি তাকে বিস্মিত করে চলছে নিরন্তর। তার প্রচন্ড ভাল লাগার ধাক্কা যেন বিস্ময়েও সমাপ্তি টানতে পারছে না। নিস্তব্ধ,একাগ্র,তীক্ষ্ণ, প্রক্ষিপ্ত দৃষ্টি দেখে মনে হচ্ছে উনি আজ তারই জন্য এসেছেন। তার সাথে যাবেন।কিন্তু তার স্টপেজেই কি নামবেন? যদি তাই হয় সুমনা কি তাকে বলতে পারবে তার বাড়িতে আসবার জন্য। তা কি করে হয়? এত চেনা হওয়া সত্ত্বেও কখনো তো কথা হয়নি ওনার সাথে। কি সব এলোমেলো চিন্তা মনে আসছে। আজ সবকিছু সত্যিই ব্যতিক্রম।

বাস আসবার পথের দিকটায় দাঁড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু এবার বুঝি অপেক্ষার পালা শেষ হতে যাচ্ছে। ওনার পেছনে ঝলসানো হেডলাইটের আলো চোখে পড়ছে সুমনার। একটা বাঁক ঘুরে এপথে মোড় নিয়েছে বাসটি। এগিয়ে এসে নিঃশব্দে দাঁড়িয়েছে তাদের সামনে। এখান থেকে শুরু করে সামনের দিকে এগুলে এ শহর শেষ হয়ে শুরু হয় ঘন বনে ঘেরা সরু রাস্তা, বহুদূর পর্যন্ত যেটি বিস্তৃত হয়ে শেষ হয় পাশের শহরে এসে। এই নির্জন পথটুকু চলতে খুব ভাল লাগে সুমনার। গতি তার পছন্দ কিন্তু তার সাথে যদি থাকে নির্জনতা তা তার একাকীত্বের সাথে যেন বেশী করে মানিয়ে নেয়। কিন্তু আজ যে সে একা নয়। ঠিক মুখোমুখি বসেছেন উনি। সুমনার মুখোমুখি। সুমনাকে দেখছেন বিভোর হয়ে। কিন্তু কি-ই বা আছে দেখার? ফেলে আসার পেছনের সেই সময়গুলোর সুমনা আর আজকের সুমনা অনেকটাই যে অন্যরকম। কাজ ছাড়া যার আর কাজ নেই জীবনে,ভাললাগা যার কল্পনা, ভালবাসা যার স্বপ্ন,প্রেমহীন,সংগীবিহীন জীবনে মনের মানুষের উপস্থিতি যেখানে অলীক,সেখানে সুমনার একাকী বসবাস,তার কেটে যাওয়া প্রতিটি নিঃসঙ্গ দিনের নিস্তরঙ্গ মুহূর্তের হিসেব যেন পাই পাই করে নিচ্ছেন তিনি। দেখছেন অপলক। তীক্ষ্ণ,প্রখর সেই চিরচেনা দৃষ্টি। বাসে ওরা আজ দুজন যাত্রী।

ও খুব অস্বস্তিতে পড়েছে। বার বার দেখছে ড্রাইভারের সামনের বিশাল কাঁচের জানালা ভেদ করে ছুটে চলা সরু রাস্তা। বার বার চোখ পড়ে যাচ্ছে ওনার দিকে। চারপাশে জনবসতি নেই বলে রাস্তার আলোও নেই। বাসের হেড লাইটের ক্ষীণ আলোয় রাস্তাটি যতটুকু আলোকিত হয়,তারই সাথে পাশের গাঢ় অন্ধকারের মিশেল পুরো পথকে করে তুলেছে রহস্যময়। বাড়ি ফেরার সময়ের এই ভ্রমণ খুব ভাল লাগে সুমনার। তাই এত দূরে কাজ নিতে আসাও তার একটি কারণ। ফিরতি পথে দু চারজন যাত্রী সবসময় থাকলেও আজই ব্যতিক্রম। আসলে আজ সব কিছুই বেশ আকস্মিক ও অস্বাভাবিক। এসব ভাবতে ভাবতেই ঘড়ির দিকে চোখ পড়লো সুমনার। ড্রাইভার নিশ্চিন্তে চালিয়ে যাচ্ছেন তার বাস, সামনের পথটুকু পিছনে পড়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাস দ্রুত গতিতে। অথচ এতক্ষণ পরেও রাস্তা যেন আজ শেষ হতে চাইছে না। সময় দেখতে গিয়ে বেশ অবাক হলো ও এবার। বাসটি সেই ১২ টায় স্টপেজে এসে দাঁড়িয়েছিল আর এখনো সেই সময়ই দেখাচ্ছে?

সময় কি তাহলে থেমে আছে? সুমনার অবাক হওয়া দেখে এবার উনি মৃদু হেসে ফেললেন,যেন ঠিক ঠিক বুঝতে পারছেন সুমনার ঘড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা।সুমনার খুব রাগ হচ্ছে। কিছুই বুঝতে পারছে না। এভাবে বহুবার সময় দেখতো সে ওনার আসবার অপেক্ষায় থেকে। আজ তিনি তো সত্যিই এসেছেন,আর তাই কি সময় দেখার প্রয়োজন যে ফুরিয়ে এসেছে তা জানিয়ে দিতে চাইছে সময় তার নিজ থেকে? এত দীর্ঘভ্রমণের পরও আজ পথ কেন জানি শেষ হতে চাইছে না। ড্রাইভারও বেশ নিশ্চিন্ত মনে স্টিয়ারিং ধরে আছেন, যেন তিনিও ভেবে নিয়েছেন আজকের এযাত্রা শেষ হবার নয়। রাস্তার উল্টোদিক থেকে আজ একটি গাড়িও এ পথ অতিক্রম করেনি। এ পথে বুঝি আজ তারা দুজনাই শুধু যাত্রী,অসীম,অনন্ত সময় ধরে।

পরদিন সকাল দশটা পেরিয়ে একঘন্টা অতিক্রান্ত। নার্সিং হোমের সদস্যরা আবারো একটি নতুন দিনের আশায় তাদের সকাল শুরু করেছেন। প্রতিদিন চোখ মেলেই যাদের প্রথম ভাবনা হয়,আমি বেঁচে আছি,তাদের জন্য একটি সকাল আসা যেন একটি আশীর্বাদের মতো। অপেক্ষাও করছেন সুমনার আগমনের। এত দেরী সে কখনোই করে না। কাল অনেক রাত অব্দি কাজ করেছিল বলেই হয়তোবা আজ হতে পারে এই দেরী।

লিভিং রুমে এসে বসেছে সকলে প্রতিদিনের মতো। একটু হালকা নাস্তার পর চা খেতে খেতে খবরকাগজ পড়া, টুকটাক গল্প করা। তেমন কোন খবর থাকলে তা নিয়ে আলাপ করা। যদিও আজ তেমন কোন খবর নেই, শুধু শেষের পাতার ডান দিকের কলাম একটি খবর ছাপিয়েছে একটু বিস্ময়কর। নার্সিং হোম থেকে দশ কিলোমিটার দূরে গতকাল রাতে একটি বাস পথচ্যুত হয়ে পাশের গভীর খাদে পড়ে যায় কোন কারণ ছাড়াই। বাসের ড্রাইভারের সাথে কন্ট্রোল রুমের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারালো তা এখনো কারো বোধগম্য নয়। বাসে ড্রাইভার ছাড়া দুজনের বেশী যাত্রী না থাকলেও অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা জানিয়েছে, যাত্রী যে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে তাদের দেহ কোন ভাবেই সনাক্ত করবার উপায় নেই।

...............

ব্লগে আমার ১৮ বছর পূর্তি

এমনি একদিন  ২০০৭ । অনলাইন   একটি ই- ম্যাগাজিন সম্পাদনার কাজ করি। অবনী অনার্য  পাকা লেখক। তার থেকে লেখা নিয়ে আমার ই- ম্যাগাজিন সমৃদ্ধ। যার  হ...