প্রজেক্টের নাম- প্রজেক্ট ব্লু বুক।এই প্রজেক্টের অধীনে ufo নিয়ে বিশদ গবেষণা করা হতো মার্চ ১৯৫২ হতে ডিসেম্বর ১৯৬৯ পর্যন্ত। ৯ই জুন ১৯৬৪ সালে প্রজেক্ট ব্লু বুকের অধীনে প্রকাশিত হয় ভীন গ্রহ থেকে আগত গ্রেইস –এর সাথে কথোপকথন। মাহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য, জাগতিক সময় ও আমাদের জগতে প্রাণের উদ্ভব কিভাবে হয়েছে সে বিষয়ে ভীন গ্রহী গ্রেইসের সাথে কথোপকথন অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
প্রশ্নকর্তার প্রথম প্রশ্ন ছিল,
- কোথা হতে এসেছ? উৎস কি? কোন গ্রহ থেকে ?
-পৃথিবী থেকে।
- কিন্তু তুমি বলেছ, তুমি হাজার হাজার বছর আলোকবর্ষের পথ অতিক্রম করে এসেছ।কিভাবে সম্ভব? [এ কি সত্যি সম্ভব? আর এই পৃথিবী থেকেই যদি আসে তাহলে এত পথ পাড়ি দেবার প্রয়োজন কেন?]
- হ্যা সম্ভব। আমি এই পৃথিবীরই বাসিন্দা,কিন্তু তোমাদের ভবিষ্যত সময়য় কাল থেকে থেকে।সময় ভ্রমন করা মানে স্থানও ভ্রমন করা।
‘to travel in time is the travel in space. Offset spatial divergence’
[অর্থাৎ সময়ের সাথে ভ্রমন করতে গিয়ে পূর্ব অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য স্থানে পৌঁছানো। এক্ষেত্রে অবস্থানের স্থানাংকের (location -এর) পরিবর্তন ঘটে, যাকে গণিতের ভাষায় বিচ্যুতি
(divergence) বলে।গ্রেইস ঠিক এই গাণিতিক শব্দটি ব্যবহার করেছে।কথোপকথনের সকল পর্যায়ে গ্রেইস কোন কথ্য ভাষা ব্যবহার করেনি।যদিও তারা প্রজাতি হিসাবে টেলিপ্যাথিক, কিন্তু আমাদের সাথে কথোপকথের জন্য ভাষা শিখেছে এবং বাকযন্ত্র ব্যবহার করে উচ্চারণ করে কথা বলাও শিখেছে।]
প্রশ্নকর্তা তার স্বল্প জ্ঞানে যা কুলায় তা দিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন যে,
- আমি কি ভবিষ্যত থেকে আগত ভীনগ্রহী এলিয়ানের সাথে কথা বলছি?
উত্তরে সে বলেছে,
- না। আমরা ভীনগ্রহী কোন প্রাণী নই। আমারা তোমাদেরই উত্তরসুরী।
- তাহলে ভবিষ্যত থেকে এখানে এসে কি করছ?[মানে এখন এই ‘সময়ে’ কি করছ?]
- (তোমাদের) পর্যবেক্ষণ করছি।নিউক্লিয়ার যুদ্ধের পর যখন সব প্রমাণ, সাক্ষ্য ধ্বংস হয়ে গেছে তখন থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। সেই যুদ্ধে সামান্য সঙ্গখ্যক মানুষ বাঁচতে পেরেছিল।তারাই ছিল আমাদের পূর্ব পুরুষদের কয়েকজন। তখন থেকেই আমাদের পর্যবেক্ষণ শুরু।
- বুঝলাম। এখন বল আমরা কিভাবে তোমাদের ‘সময়’– কে বুঝব?
- তোমরা বুঝবার ক্ষমতা রাখো না। তোমরা অনুধাবনে সক্ষম নও। এমনকি আমাদের আবিষ্কারগুলো গ্রহণ করতেও যোগ্য নও। (আমাদের সময়ে আমাদের আবিষ্কার) বুঝবার সেই যোগ্যতা এখনো তোমাদের হয়নি।
- একটু বিশদ্ ভাবে বুঝিয়ে দাও।
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে প্রকৃতি থেকে।আফ্র যাকে তোমরা তথাকথিত ‘জীবন’ নামে অভিহিত কর, সেই জীবনের ‘অর্থ’ বোঝার সক্ষমতা তোমাদের নেই। জীবনের প্রকৃতি, স্বভাব, বৈশিষ্ট্য বোঝার (মক্ত মানসিক) সক্ষমতা তোমাদের নেই।
- কি বলতে চাইছ? জীবনের ‘অর্থ’ নাকি জীবনের বৈশিষ্ট্য/ জীবনের প্রকৃতি?
- Meaning (অর্থ)হচ্ছে কোন কিছুর সাথে জূড়ে দেয়া একটা ধারণা। আর প্রকৃতি /বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বস্তুগত বাস্তবতা।
‘Meaning is something ascribed.
Nature is objective Reality.’
[গ্রেইস –এর বিশ্লেষণধর্মী উত্তর শুনে পাঠকরা নিশ্চয়ই দু’বার ভাববেন বিষয়বস্তুর প্রতি তাদের ধারণার গভীরতা সম্পর্কে।] প্রশ্নকর্তার পরবর্তী প্রশ্ন ছিল,
- সুতরাং তোমরা জান, এই মহাবইশ্ব কি ভাবে সৃষ্টি হয়েছে।ইশ্বর কি তা-ও জানো?
- হ্যা জানি। we evolved past the need for superstition. [আমরা কুসংস্কারের উর্ধ্বে উঠে জ্ঞান আহরণের অন্বেষণে এগিয়ে গিয়েছে।জীবনে চলার পথে ইশ্বরের ধারণা, প্রাচীন ধর্মীয় কাহিনী যেখানে প্রয়োজন হয়, সেসব কুসংস্কার ছাড়াই আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি। তোমাদের এই সময়ে তোমরা এসবের মাঝে আবদ্ধ আছ। আমাদের সময়ে আমরা মিথ, কল্পকাহিনী, পুরাণ, রূপকথা থেকে মুক্ত। এসব কেন্দ্র করে আমাদের জীবন বহমান নয়।
- আরেকটু বিশদ বল। তোমার জ্ঞান দিয়ে আমায় আলোকিত কর।আমাদের মৃত্যুর পর কি হয়? [মানে প্রশ্নকর্তা বুঝাতে চাইছে, মৃত্যুর পর আত্মার কি হয়।]
No comments:
Post a Comment