ডোগনদের মতে ৮.৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত সিরিয়াস নক্ষত্রমন্ডলী একটি বাইনারি স্টার সিস্টেম যেখানে দুটি নক্ষত্র একে অপরকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার পথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। নিজ অক্ষে ঘূর্ণায়মান Sirius –A নক্ষত্রটি আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র । এর ভর আমাদের সূর্যের দ্বিগুন। একে ঘিরে তার সহচর নক্ষত্র Sirius –B এর আহ্নিক গতির গাণিতিক হিসাবেও ডোগনরা সঠিক ভাবে জ্ঞাত। আধুনিক বিশ্বের সাথে সংস্পর্শহীন এই ডোগন আদিবাসীরা খ্রীস্টপূর্ব তিনহাজার দুইশত বছর পূর্ব থেকেই কিভাবে এসব তথ্য জানলো তা ভেবে অবাক হয়েছেন পর্যটকরা এবং কালক্রমে জোর্তিবিজ্ঞানীর দলও। কারণ আধুনিক সভ্যতায় নভোমন্ডলে Sirius –A এর অবস্থান সনাক্ত হয়েছে খ্রীস্ট জন্মেরও এক হাজার আটশত (১৮০০) বছর পর এবং ১৯৭০ খ্রীস্টাব্দে এর চিত্র সম্বলিত তথ্য সংগৃহীত হয়েছে।
ডোগনরা শনি গ্রহের বলয় সম্পর্কিত তথ্যাদি দ্বারা পুরো রকমে জ্ঞাত আছে। তারা জানে সিরিয়াস –বি একটি বামন নক্ষত্র এবং এই বাইনারি স্টার সিস্টেমটি তাদের পূর্ণ ঘূর্ণন সমাপ্ত করতে ৫০ বছর কাল ক্ষেপন করে। তাই ডোগনদের পুরানো ইতিহাস জানতে তৎপর হয়ে উঠলেন গবেষকেরা। ডোগন সমাজের বয়োজেষ্ঠ্য জ্ঞানী গুরুজনদের নিকট হতে এলো চমকপ্রদ তথ্য। তাদের মতে সিরিয়াস নক্ষত্র মন্ডলী থেকে আগত মাছের মতন উভচর মানব সদৃশ ET বা এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়ালদের আগমনের সূত্র ধরেই তাদের কাছে এসকল তথ্যভান্ডারের উন্মোচন ঘটেছে আজ থেকে খ্রীস্টপূর্ব তিনহাজার বছর আগে। বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে এই সব ET- রা উভচর বলেই জলে চলাচলে সক্ষম। তাই ডোগনদের কাছে এরা জল–দেবতা বা Master of water নামে অভিহিত। তদের আগমনের পরে এই সকল এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়ালরা ছিল ডোগন উপজাতির শিক্ষক এবং পথ প্রদর্শক। ডোগনরা তাদের ভাষায় এই ETদেরকে নম্মোস (Nommos) বলে সম্বোধন করে। ডোগনরা মনে করে অদূর ভবিষ্যতে এসকল এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়ালরা আবার আসবে মানব জাতির মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে।
আমাদের সূর্যকেন্দ্রিক সৌর জগতের ধারণা ও গঠন সম্পর্কে তথ্য, বৃহস্পতি গ্রহের চারটি উপগ্রহের বৈশিষ্ট্য ও নভোমন্ডলে এদের অবস্থান এবং উপবৃত্তাকার পথে গ্রহসমূহের গতিপথের ধরণ সম্বলিত চিত্রশিল্প আবিষ্কার হয়েছে ডোগনদের গুহার দেয়ালে অংকিত চিত্রলিপিতে। সুতরাং এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে মানব সভ্যতা বাদে অতি অগ্রসরমান কোন সভ্যতা উপস্থিত আছে কি নাই, তা প্রমাণ সাপেক্ষ হলেও, ডোগন সমাজের মাঝে এদের উপস্থিতি এবং যোগাযোগ আমাদের কাছে অবাক করার মতন বিষয়। নয় কি?

https://mysterybabylon-watch.blogspot.com/2011/10/something-fishy-about-popes-hat.html
ReplyDeletehttps://www.bibliotecapleyades.net/vatican/esp_vatican138.htm
ReplyDelete২১শে জানুয়ারি ২০২৬ আপনার প্রবন্ধ কৌতূহলোদ্দীপক, কিন্তু তথ্যসূত্র দেয়া প্রযোজন।
ReplyDelete২১শে জানুয়ারি ২০২৬ ঃ ধন্যবাদ ।
Deleteআপনি একদম সঠিক বলেছেন - এই ধরনের বিষয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্র অপরিহার্য।
আমি আন্তর্জাল থেকে তথ্য নিয়েছি। তাই-ই উল্লেখ করে দিলাম ।
২১শে জানুয়ারি ২০২৬ 'নাইজারের দক্ষিণে মালি নামক এক মালভূমিতে বাস করে
ReplyDeleteডোগন (Dogon) নামক এক জাতিগোষ্ঠী।'
.................................................................................
এই প্রথম এদের বিষয়ে জানলাম, আরও জানার আগ্রহ থাকল ।
শুভ ব্লগিং
২১শে জানুয়ারি ২০২৬ ভ্যাটিকান -রা Fish people সম্বন্ধে জ্ঞাত। ।
Deleteপোপের মাথার মুকুটের আকৃতি মাছের মুখ সদৃশ।
২১শে জানুয়ারি ২০২৬ ধন্যবাদ আপনাকে
ReplyDelete২১শে জানুয়ারি আপনাকেও ধন্যবাদ।
Delete.২১শে জানুয়ারি ২০২৬ বেশ মুল্যবান তথ্য সমৃদ্ধ একটি পোস্ট । কত কিছু যে আজানা রয়ে গেছে এখনো । আপনি এখানে ডোগন জাতিগোষ্ঠি নিয়ে পোস্ট না দিলে এদের কথা আদৌ জানা হত কিনা জানি না । আজকে দীর্ঘ সময় নিয়ে ইন্টার নেট ঘেটে ও সেখান হতে প্রাপ্ত লিংক ফলো করে এদের বিষয়ে আরো অনেক গুরুত্বপুর্ণ তথ্য জানতে পারলাম ।
ReplyDeleteআপনার মূল্যবান তথ্য সমুহকে আরো একটু substantiate করে গেলাম ।
ডোগন জাতিগোষ্ঠির ইতিহাস কমপক্ষে খ্রিস্টীয় ১০ম–১৩শ শতাব্দী পর্যন্ত অনুসরণ করা যায়। ইসলামি সম্প্রসারণ থেকে নিজেদের সংস্কৃতি রক্ষার জন্য তারা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিল। জটিল মিথোলজি ও কসমোলজি, প্রতীকসমৃদ্ধ মুখোশ নৃত্য মৌখিক জ্ঞান সংরক্ষণের শক্তিশালী ঐতিহ্য এবং জ্যোতির্বিদ্যার প্রতি গভীর আগ্রহ প্রভৃতি ডোগন সমাজের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য ।
ছবি ডোগন মুখুশ নৃত্য ।
ঠিকই বলেছেন ডোগনদের সৃষ্টি-তত্ত্ব অত্যন্ত জটিল এবং প্রতীকী। তাদের মতে সর্বসৃষ্টির মূল সত্তা আম্মা (Amma)। আম্মা প্রথমে একটি “বিশ্ব-ডিম” (Cosmic Egg) সৃষ্টি করেন।সেখান থেকে জন্ম নেয় নোম্মো (Nommo) জলজ,উভলিঙ্গ,আলোকময় সত্তা ।নোম্মোরা পৃথিবীতে নেমে এসে মানবজাতিকে জ্ঞান প্রদান করে ।এই কসমোলজিতে নক্ষত্র,গ্রহ,সংখ্যা ও জ্যামিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা আপনি লেখাটিতে তুলে ধরেছেন ।
আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্য মতে সিরিয়াস একটি ডাবল স্টার সিস্টেম Sirius A প্রধান উজ্জ্বল নক্ষত্র, Sirius B : একটি অতি ঘন White Dwarf, Sirius B খালি চোখে দেখা যায় না, এর ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি (এক চা-চামচ পদার্থের ওজন কয়েক টন)।
ডোগনরা জানত সিরিয়াসের একটি অদৃশ্য সঙ্গী নক্ষত্র আছে যা দীর্ঘ কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান (প্রায় ৫০ বছর)এটি বিস্ময়কর, কারণ Sirius B আধুনিক টেলিস্কোপে আবিষ্কৃত হয় ১৮৬২ সালে।
ডোগনদের মতে, নোম্মোরা সিরিয়াস অঞ্চল থেকে আগত । আগুন ও শব্দের মাধ্যমে পৃথিবীতে অবতরণ করে মানবজাতিকে জ্যোতির্বিদ্যা, কৃষি ও সামাজিক বিধান শেখায় ।এই ধারণা থেকেই কিছু গবেষক Ancient Astronaut Theory বা প্রাচীন ভিনগ্রহী যোগাযোগের তত্ত্ব উত্থাপন করেছেন।
ডোগানদের বিষয়ে অবশ্য কিছু সমালোচনাও রয়েছে । ফরাসি নৃতত্ত্ববিদদের (বিশেষত Marcel Griaule)প্রভাবেই এই জ্ঞান ডোগনদের মধ্যে প্রবেশ করেছে । ইউরোপীয় জ্যোতির্বিদ্যার তথ্য ডোগন পুরোহিতদের কাছে পৌঁছাতে পারে ।
আধুনিক গবেষক Walter van Beek দাবি করেন, অনেক ডোগন এই জটিল জ্যোতির্বিদ্যার কথা আদৌ জানতেন না।
তবে ডোগন কসমোলজি সম্ভবত আক্ষরিক বৈজ্ঞানিক তথ্য নয় বরং প্রতীকী জ্ঞান (Symbolic Knowledge) যেখানে নক্ষত্র মানে চেতনার স্তর নোম্মো মানে ঐশী জ্ঞান বা নবুয়তি সদৃশ সত্তা । এটি অনেকাংশে নবী-প্রেরিত জ্ঞান বা ঊর্ধ্বতন উৎস থেকে অবতরণ করা হিকমাহ -এর ধারণার সাথে তুলনীয়।
পাহারের গুহায় থাকা ডোগনদের আর্ট এর কমামালা সুন্দর করে বলেছেন পোস্টে । নীচে উইপিডিয়ায় থাকা এমন একটি চিত্র নীচে তুলে দিলাম । আগ্রহী পাঠকগন দেখে নিতে পারবেন ।
যাহোক,ডোগনদের বিষয়ে সমালোচকদের কথা আমলে না নিয়ে বলা যায় ডোগন জনগোষ্ঠির সিরিয়াস নক্ষত্রমণ্ডলী সম্পর্কিত জ্ঞান আধুনিক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এটি একদিকে হয়তবা প্রাচীন প্রতীকী জ্ঞানভাণ্ডারের নিদর্শন অথবা মানব ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়,যা আমরা এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।যাই হোক,ডোগন কসমোলজি
মানব সভ্যতার জ্ঞান,বিশ্বাস ও মহাবিশ্ব-অন্বেষণের এক অনন্য দলিল।
মন্তব্যের ঘরে দেখা যায় রেফারেন্সের চাহিদা রয়েছে । তাই কয়েকটি রেফারেন্স এখানে যুক্ত করা হল ।
রেফারেন্স (গ্রন্থ ও গবেষণা)
১. Marcel Griaule & Germaine Dieterlen,The Pale Fox (1965)
২. Robert K. G. Temple ,The Sirius Mystery (1976)
৩. Walter E. A. van Beek
“Dogon Restudied: A Field Evaluation of the Work of Marcel Griaule”
Current Anthropology, Vol. 32, No. 2 (1991)
৪. Carl Sagan The Cosmic Connection (1973)
৫. Ian Ridpat Sirius: Brightest Diamond in the Night Sky (2005)
৬. Dogon people : Wikipedia at https://en.wikipedia.org/wiki/Dogon_people.
মুল্যবান পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
২২শে জানুয়ারি আপনার সুচিন্তিত মন্তব্য এবং অতিরিক্ত গবেষণার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
Deleteআপনার মন্তব্য সর্বদা পোস্টকে সুন্দর থেকে সুন্দরতর করে তোলে।
আপনি যে দীর্ঘ সময় নিয়ে ইন্টারনেট ঘেঁটে ডোগন জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। জ্ঞানের এই যাত্রায় আপনার আগ্রহ এবং কৌতূহল দেখে আমি অবাক।
ডোগন জাতিগোষ্ঠীর মতো অনন্য সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা আমাদের বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ করে এবং মানব সভ্যতার বৈচিত্র্য সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি করে।
আপনি যে অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে মূল পোস্টকে আরও substantiate করেছেন, তা অন্য পাঠকদের জন্যও অত্যন্ত মূল্যবান হবে। এভাবে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমেই আমরা সবাই একসাথে শিখতে পারি। আসলে আপনার এই মন্তব্যটি দিয়েই একটি পোস্ট তৈরী করে ফেলা যায় । শুধু ভ্যাটিকানের বিষয়টি সংযুক্ত করে দেবেন। ভ্যাটিকানের নীচের গোপন লাইব্রেরিতে তো Fish people এর সব তথ্যই আছে । শুধু আমাদের জানতে দেয় না। তারা তারাই জেনে পৃথিবী শাসন করে চলেছে এত বছর।
যাই হোক। আবারও ধন্যবাদ আপনার সময় এবং মূল্যবান মন্তব্যের জন্য।
আপনার এই অনুসন্ধিৎসু মনোভাব অব্যাহত থাকুক।
শুভেচ্ছা রইলো।
২২শে জানুয়ারি ২০২৬ কঠিন একটা বিষয় নিয়ে লিখেছেন। এসব বিষয় আমি বুঝি না।
ReplyDelete২২শে জানুয়ারি ২০২৬ ঠিক আছে। আপনার জন্য একটি গল্প লিখে ফেলব । আপনার লেখা 'ভৌতিক নয় গোয়েন্দা কাহিনী বলা যেতে পারে' গল্পটি খুব ভাল লেগেছে। খুব ভয়ের ছিল।
Delete২২শে জানুয়ারি ২০২৬ আমার মন্তব্য @ স্বপ্নের শঙ্খচিলঃ
ReplyDeleteআছি আমি দুরের গ্রামে,
ময়নার হাঁটা হাঁটি দেখি সর্ন্তপনে
কখনবা বেলা উঠে, ডুবে যায় আকাশে
হিসাব রাখেনা কবি গুনে শুনে,
বরফের ঢাকা এই চরণে !!!
খুব ভাল লাগলো এই কয়েকটি লাইন। আমার এখানে পত্র পল্লবহীন বরফে ঢাকা চরাচরে একটু উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে পাখির কুজন জানান দেয় জীবন আছে।
পাঠকের মন্তব্যঃ ২২শে জানুয়ারি ২০২৬ - ২২শে জানুয়ারি ২০২৬
Deleteআপনার ভালোলাগা যথেষ্ট আনন্দ দিয়েছে ।
একসময় কবিতা লিখতাম, আকিজুঁকি হতো, ৩/৪ দিন পর একটা কবিতা প্রকাশের মুখ দেখত ।
কিন্ত এখন দেখি কবিতা পড়ার "সেই হৃদয়ের গোপনে লালিত" বন্ধুরা নেই, তাছাড়া চলমান জীবনের ব্যস্ততা "কবি মন"কে আড়াল করে দেয় নিষ্ঠুর ভাবে ।
২২শে জানুয়ারি ২০২৬ আমার মন্তব্যঃ ২২শে জানুয়ারি ২০২৬ ব্যস্ততা খুব বড় একটা ফ্যাক্টর ।
Deleteতারপরও মনে হলো আপনার লেখার হাত দেখে এখনো আপনার মনের মাঝে ছন্দ আছে।
কমেন্টে যা দু' এক লাইন লিখে ফেলেন, তাই-ই বড় পরিসরে লিখে পোস্ট দিলে আমরা পাঠকরা আপনার প্রতিভা থেকে বঞ্চিত হতাম না।