সৃষ্টি, চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা - প্রথম স্তর

 ভূমিকাঃ             

                                                                                                                                    

সুইজারল্যান্ডে বসবাসকারী এডয়ার্ড আলবার্ট মায়্যার (Eduard Albert Meier) — সাধারণভাবে  বিলি মায়্যার “Billy Meier” নামে পরিচিত একজন বিশ্ব বিখ্যাত ইউ. এফ.  ও. কন্টাক্টি। প্লেজেরিয়ান  

সুইজারল্যান্ডে বসবাসকারী এডয়ার্ড আলবার্ট মায়্যার (Eduard Albert Meier) — সাধারণভাবে  বিলি মায়্যার “Billy Meier” নামে পরিচিত একজন বিশ্ব বিখ্যাত ইউ. এফ.  ও. কন্টাক্টি। প্লেজেরিয়ান  (Plejaren) নামক নক্ষত্র মন্ডলী থেকে আগত ভীন গ্রহের মানব সদৃশ প্রানীদের সাথে বাল্যকাল থেকেই, মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই  তার সাক্ষাত ঘটে। তখন ১৯৪২ সাল। যোগাযোগের ধারা অনুসারে বিলির সাথে তথ্যের ট্রান্সমিশান শুরু হয় ১৯৭৫ থেকে। তার সংরক্ষিত কন্টাক্ট নোট সমূহ লিপিবদ্ধ আকারে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। সে সময় থেকে তাকে বলা তথ্যসমূহ টেপ রেকর্ডারে ধারণ করা হয়েছে। তারই কন্টাক্ট নোটে 'সৃষ্টি, চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা' -র   সাতটি স্তর বর্ণনা করা হয়েছে। এই বর্ণনাটুকু আমি আরেকটু বিশদ ভাবে লেখার চেষ্টা করলাম মাত্র।

সাতটি স্তরের মাঝে প্রথম স্তরঃ

এ যেন  অন্ধকারের গর্ভে প্রথম আলোর জাগরণ। আত্মা এখানে যেন সদ্যজন্ম নেওয়া একটা ছোট্ট চারাগাছ। চারপাশ ঘন অন্ধকারে ঢেকে আছে। বাস্তবতা তার কাছে  যেন কুয়াশার ভেতরে আটকে থাকা অস্পষ্ট একটি চিত্র। অভিজ্ঞতাহীন। তার কাছে  সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নেই, আলো-অন্ধকারের সীমারেখা নেই, কোনো  দিকনির্দেশনয়া নেই। এ যেন সৃষ্টির প্রথম মুহূর্ত—অব্যক্ত থেকে ব্যক্তের দিকে  যাত্রার সূচনা।

হিন্দুধর্মে এই অবস্থাকে  “তামসিক”  স্তর বলা হয়—অন্ধকার, অজ্ঞতা, বিভ্রান্তির স্তর। জীবাত্মা তখনো মায়ার পর্দায় ঢাকা—নিজের স্বরূপ সম্পর্কে অচেতন। 

বৌদ্ধধর্মে এটি  “অবিদ্যা”—যেখানে মানুষ বাস্তবতার প্রকৃত স্বরূপ দেখতে পায় না। চক্রাকারে জন্ম-মৃত্যুর বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। 

সূফি দর্শনে এটি “নাফসে আম্মারা”—আত্মার অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিপক্ক  অবস্থান। যেখানে প্রবৃত্তি দ্বারা সে নিয়ন্ত্রিত।

খ্রিস্টধর্মে এটি “spiritual infancy” বা আত্মার শৈশব অবস্থা বলে। এখানে মানুষ পাপ বা ভুলের অন্ধকারে আবদ্ধ থাকে—সত্যের আলো এখনো তার কাছে পৌঁছেনি। 

তাওবাদ (Taoism বা Daoism) হলো চীনের এক প্রাচীন দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক মতবাদ, যার মূল ভিত্তি হলো প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করা।  তাওবাদে  প্রথম স্তরটি  এমন একটি অবস্থা  যেখানে এটি “অচেতন দাও” অর্থাৎ  যেখানে মানুষ প্রকৃতির স্রোত বুঝতে পারে না। 

সকল দর্শনে একটি মিল  লক্ষ্যণীয় আর তা হলো প্রথম স্তরে আত্মা অজ্ঞতার গভীরতায়,  দিকহীনতায় অবস্থান করে। 

আত্মার স্পন্দনঃ

এই অবস্থায় আত্মার গভীরতম কেন্দ্রের শক্তি প্রথমবারের মত যেন স্পন্দিত হয়। প্লেটোর দর্শনে এটি “awakening of the soul”—অপরূপ জগতে, স্মৃতির প্রথম প্রবেশ। প্লেটো বলেন, আত্মা সব জানে, শুধু স্মরণ করতে হয়। 

উপনিষদে এটি “প্রথম প্রজ্ঞার অঙ্কুর” অর্থাৎ প্রাণশক্তি জাগ্রত হওয়া। 

বুদ্ধের ভাষায়, এটি “স্মৃতি জাগরণ” অবস্থা।

প্রবৃত্তিনির্ভর জীবন যাপনের দিক দিয়ে প্রাথমিক  স্তরে মানুষ কিভাবে বাঁচে?

সে প্রবৃত্তির উপর নির্ভর করেই  বাঁচে। ভয়, ক্ষুধা, টিকে থাকার সংগ্রাম সবই  সহজাত প্রবৃত্তি। যুক্তিবোধ তখনও  অপরিণত। এই স্তরে জন্ম নেয় “ইচ্ছাশক্তি”। হিন্দু দর্শনে,  সৃষ্টি শুরু হয় ইচ্ছা থেকে। বৌদ্ধধর্মে এটি “চেতনা”— যা কামনা সৃষ্টি করে এবং কর্মফল তৈরি করে। খ্রিস্টান ধর্মে এটিকে “free will” বলে, যা মানুষের প্রথম স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার স্তর। সূফিবাদে এটি “ইরাদা” অর্থাৎ আল্লাহর দিকে ফেরার ইচ্ছা, যদিও সে খুবই নাজুক এবং কেবল শুরুর পথে। 

দিকহীনতায় আর  অজ্ঞতার রাজত্ব যখন চারদিকে তখন এই স্তরে মানুষ হাতড়ে  হাতড়ে এগোয়, হোঁচট খায়, থেমে যায়, আবার শুরু করে। দিশা হারায়। মনে মনে ভাবে তার সামনে কোনো নিশ্চিত পথ নেই। তবুও এই সকল অভিজ্ঞতাই  পরবর্তী স্তরের পথপ্রদর্শক। এই অভিজ্ঞতাই চেতনাবিকাশের পরবর্তী ছয়টি স্তরের ভিত্তি।

এ থেকেই জন্ম নিবে যুক্তি, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, আধ্যাত্মিকতা, সৃষ্টির বিস্তার এবং শেষ পর্যন্ত সৃষ্টির সঙ্গে একাত্মতা।

১১/১১/২০২৫

ক্রমশঃ

No comments:

Post a Comment

এখনি সময়

    তোমাকে যেতে হবে।  এখনই। চমকে তাকালো ঊর্জা সামনের দিকে। গভীর মনোযোগ দিয়ে কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল। গুরু গম্ভীর এ আদেশ যেন ...