হ্যালিক্স নেবুলা

 


পৃথিবী থেকে ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে অ্যাকুয়ারিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত নির্জীব প্রাণহীন এই তারাটিকে বিজ্ঞানীরা যেভাবে এতদিন ভেবে আসছিলেন, স্পিটজার টেলিস্কোপের পাঠানো সে চিত্র পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীদের এতদিনের সকল ধারণা নিমেষেই নস্যাৎ হয়ে গেছে। ছবিটি দেখেই মনে হয় বিশালাকার এক রক্তচক্ষু জীব তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। সে যেন নিভে যাওয়ার আগে নিজের খোলস থেকে মুক্ত করে দিচ্ছে উচ্চ মাত্রার বিকিরণ জনিত শক্তি। তাপমাত্রা ১১০,০০০ ডিগ্রি কেলভিন। সাদা বামন সদৃশ এই তারাটির বিচ্ছুরিত বিকিরণ এক্স –রে ছাড়া কিছুই নয়। এর নাম হ্যালিক্স নেবুলা। ব্যাস ২.৫ আলোকবর্ষ। একে ঘিরে থাকা ধূম্রজালের আবরণের ছবি পাঠিয়ে স্পিটজার টেলিস্কোপ সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এর আগে ধূলোর এই আবরন সমেত তথ্য বিজ্ঞানীদের কাছে ছিল না। ইনফ্রা রেড ক্যামেরা দিয়ে ধরা এ আলোকচিত্র মহাকাশের ক্যানভাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৩৫ থেকে ১৫০অ্যাস্ট্রনোমিকাল ইউনিট দূর পর্যন্ত এই ধূম্রজাল বিস্তৃত।

[ সূর্য হতে পৃথিবীর দূরত্ব কে বলে এক অ্যাস্ট্রনোমিকাল ইউনিট=৯৩ মিলিয়ন মাইল=১৫০ মিলিয়ন কি.মি.]

কিন্তু কোথা হতে আগমন এই ধূম্রবলয়ের? 
অনেক ভেবে চিন্তে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে নেবুলার পাশ দিয়ে নিশ্চয়ই কোন ধূমকেতুর সবেগে মন্থন ঘটেছিল যার কারণে এই ধূম্রবলয়ের সৃষ্টি। আমাদের সৌরমন্ডলের সূর্য নামক
নক্ষত্রটিও একদিন নিস্প্রভ হয়ে পড়বে। পর্যায়ক্রমিক রূপান্তরের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি হতে ৫ বিলিয়ন বছর আরো যদিও বাকী, তখন আমাদের সূর্যদেবতাও প্রচণ্ড শক্তি নির্গত করে আলোর তীব্র ছটায় আলোকজ্জ্বল হয়ে মহাকাশের গর্ভে নিস্প্রভ হয়ে সমস্ত শক্তি হারিয়ে সাদা বামন সদৃশ পিন্ডে পরিণত হবে। ইনার প্ল্যানেটসমূহ যেমন বুধ শুক্র পৃথিবী মঙ্গল অর্থাৎ যাদের কক্ষপথগুলো সূর্যের কাছাকাছি তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে সূর্যের এই বিস্ফোরণে। আর সৌরবলয়ের আউটার প্ল্যানেটগুলো যারা কিনা মঙ্গল হতে দূরে অবস্থিত যেমন বৃহস্পতি ইউরেনাস নেপচুন প্লুটো এবং কিছু অবশিষ্ট ধূমকেতুসমূহ বলয় আকারে ঘুরতে থাকবে অনন্তকাল এই নিভে যাওয়া তারাটিকে ঘিরে। 

মানব প্রজাতি হয়তো বা এরমাঝে অন্য কোন গ্রহে আবাস স্থাপন করবে। শুরু থেকে শুরু হবে মানব সভ্যতার নতুন ইতিহাস, নতুন অগ্রযাত্রা। ভেবে ভেবে একদিন হয়তোবা আবিষ্কার করে বসবে মানুষের পূর্ব আবাসস্থল ছিল পৃথিবী নামক এক গ্রহে সূর্য নামক সৌরমণ্ডলের অধীনে মিল্কিওয়ে নামক ছায়াপথে।
সূত্র নাসা

Reincarnation Cycle - Hindu and Buddhist samsara models

🌀 1. The Whole Diagram → Samsara (Cycle of Existence) The circular, repeating structure directly corresponds to Samsara : Continuous cycle ...