যাবার যখন সময় হয় সবাইকে যেতে হয়। গতকাল রাতে শুনলাম কালপুরুষ দা চলে গেছেন। মানে বাংলাদেশ সময় ৯ই মার্চ ২০২৬ রাতে। সামু ব্লগ থেকে লেখা নিয়েই ২০০৭ থেকে আমি সাহিত্য ম্যাগাজিন 'নব আলোকে বাংলা' সম্পাদনা করতাম।
ইমন জুবায়ের ভাইয়ের অসম্ভব সুন্দর সুন্দর গল্প নিয়ে আমার ম্যাগাজিনের গল্পের পাতা ভরে উঠেছিল। শ্রীলেখার বুনো হাঁস https://www.saveourenvironment.ca/issue14/fourteenth_golpo_Iman_Jubaer.htm যতবার পড়ি, মনে শুধু গেঁথে থাকে। ২০১১ তে চলে গেলেন ইমন ভাই।
তিনি যাবার আগে তার শেষ উপন্যাসটি আমাকে দিয়েছিলেন রিভিউ করে দেবার জন্য। আমি তো ভাবি নি উনি চলে যাবেন। আমি কাজটা একটু সময় নিয়ে করব ভেবে রেখে দিয়েছিলাম। তারপর যখন আমাদের রাত আটটার দিকে শুনলাম সকাল বেলা উনি চলে গেছেন এবং সুনীল সমুদ্র দা coincidentally তার অফিসের সামনে, কারো জানাজা হবে শুনে তা দেখতে গিয়েছিলেন, তখন দেখেন সেখানে আমাদের ইমন জুবায়ের ভাই। সেভাবেই ইমন ভাইয়ের শেষ যাত্রার ছবিগুলো দেখতে পেয়েছিলাম।
অসম্ভব খ্যাতিমান ব্লগার কালপুরুষ। দাদা-র অসম্ভব সুন্দর লেখা 'আমার রক্তের ইতিহাস' সামু ব্লগকে এবং আমার ম্যাগাজিনকে https://www.saveourenvironment.ca/issue18/eighteenth_edition_frontpage.htm সমৃদ্ধি শালী করেছিল।
গত বছর ৩১শে মার্চ ২০২৫ এর ফেসবুক পোস্টে দেখলাম দাদার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। দেরীতে দেখেছি পোস্ট টা। ২০২৫ এর ২৬শে এপ্রিলে, তাঁর অসুস্থতার কথা শুনে আমার গ্রুপে লিখেছিলামঃ'দাদা, আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি । ব্লগের হাত ধরে আমাদের সকলের সেই কতদিনের পথচলা।
আর আজ ১১ই মার্চ, ২০২৬- এ লিখছিঃ কালপুরুষদা, সবসময় আপনাকে মিস করব। আপনি কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলীর মতোই চিরকাল দীপ্তিমান ও উজ্জ্বল থাকবেন।
আর প্রিয় খালেক ভাইয়ের কথা আমি জানতে পারিনি সাথে সাথে। অনেক পরে জেনেছিলাম যে, খালেক ভাই চলে গেছেন আমাদেরকে না জানিয়ে অনেক অনেক আগে। খালেক ভাইয়ের কবিতা,গল্প - কি ছিল না আমার ম্যাগাজিনের পাতায়।
ওনার লেখা 'সোনালী আভা ও একটি চিঠি' https://www.saveourenvironment.ca/issue18/sonali_abha_Abdul_Khaleque.htm ফাইলটি চেয়েছিলেন আমার কাছে। কিন্তু কোন কারণে ফাইলটি ওনাকে পাঠানো হয়নি। উনার লেখা 'বাড়ির পথে' কবিতায় তার সমগ্র জীবনকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। খালেক ভাইয়ের আম্মা যখন মৃত্যু শয্যায়, তখন আমি খালেক ভাইকে বলেছিলাম ,আপনার এই কবিতাটি প্রিন্ট করে, আপনার আম্মাকে শোনান। তিনি তাই করেছিলেন। তারপর আমাকে জানিয়েছিলেন যে, ওনার আম্মা খুব খুশি হয়েছিলেন তার এই কবিতাটি শুনে। আমারও খুব ভালো লেগেছিল। এটি এমন একটা কবিতা যেখানে সমগ্র জীবন স্তরে স্তরে বিস্তারিত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
তাই ভাবি পৃথিবীতে আসার পর যার যা কাজ তা শেষ হলে সবাই চলে যায়।চলার পথে কতজনার সাথে দেখা হয়। কিন্তু সামু প্ল্যাটফর্ম সবাইকে পরিচিত হবার সুযোগ করে দিয়েছে। এ থেকেই আমি আমার ম্যাগাজিন -এর জন্য লেখা সংগ্রহ করতে পেরেছি। সামনাসামনি কারো সাথেই দেখা হয়নি তবুও একটা পরিবারের মতন সবাই সবাইকে পেয়েছি।
এইতো জীবন।
আমি খুবই ভাগ্যবান মনে করি নিজেকে এই কারণে, যে এত প্রতিভাবান মানুষদের মণি মাণিক্যের মত লেখাগুলো আমি এক জায়গায় জড়ো করতে পেরেছি। আমার ম্যাগাজিন যেন তাদের প্রতিভার স্পর্শে একটা স্বর্ণখনিতে পরিণত হয়েছে।
আজ পর্যন্ত যারা চলে গেছেন তাদের প্রতি আমরা সবাই আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।


