মহানীলে মহাখেলা


 নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এখন আর তত্ত্বের মধ্যে বিচরণ নয় বরং পর্যবেক্ষণ করে প্রমাণ স্বরূপ উপস্থিত করেছে গ্লোবিউলার ক্লাস্টারের গঠন প্রক্রিয়া এবং বিশালাকার নক্ষত্রগুলো কিভাবে গুচ্ছাকারে আবদ্ধ হয়ে নক্ষত্রগুচ্ছ সৃষ্টি করে তারই উৎপত্তি রহস্য। এ প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য আয়োজন হয় ছায়াপথে বিলিয়ার্ড বলের খেলা। ধরা যাক বিলিয়ার্ড বলগুলো হল নক্ষত্র। ক্লাস্টার তৈরির স্থান হল বিলিয়ার্ড টেবিল। হালকা বলগুলো দ্রুত গতি সম্পন্ন হয়ে ক্লাস্টার হতে সরে পড়ে কিনারার দিকে চলে আসে। ভারী নক্ষত্রগুলো ধীর গতি সম্পন্ন হওয়ায় ক্লাস্টারের কেন্দ্রে নিপতিত হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় mass segregation যা এতদিন তাত্ত্বিক ধারণার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বহুদিনের তোলা ছবিগুলো দিয়ে হাবল টেলিস্কোপ এই ধারণার বাস্তব চিত্র আমাদের সামনে এখন উপস্থাপন করেছে।

গ্লোবিউলার ক্লাস্টার কয়েকশত হাজার নক্ষত্রের সমষ্টিতে তৈরী নক্ষত্রগুচ্ছ, যার কেন্দ্রে নক্ষত্রের ঘনবদ্ধতা আমাদের সূর্যের আশেপাশের নক্ষত্রগুলো হতে দশহাজার গুন বেশী । এখনতো সবচেয়ে নিকটতম তারাটি আমাদের গ্রহ থেকে ৪.৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। যদি আমাদের গ্রহটির অবস্থান গ্লোবিউলার ক্লাস্টারের কেন্দ্রে হতো তাহলে এই ৪.৩ আলোকবর্ষ দূরত্বের মাঝে মাত্র একটি নয় বরং দশ হাজার অতিরিক্ত নক্ষত্র আমাদের প্রতিবেশী তারকা হতো। আমাদের এ নীল আকাশ এখনকার থেকে আরো দশ হাজার গুণ নক্ষত্রের সমাবেশে তখন ঝলসে যেত।

সূত্রঃ নাসা, হাবল স্পেস টেলিস্কোপ

No comments:

Post a Comment

এখনি সময়

    তোমাকে যেতে হবে।  এখনই। চমকে তাকালো ঊর্জা সামনের দিকে। গভীর মনোযোগ দিয়ে কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল। গুরু গম্ভীর এ আদেশ যেন ...