ক্যাসিয়াপিয়া A নক্ষত্রাবশেষ


 আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথে ১১ হাজার আলোকবর্ষ দূরের ক্যাসিয়াপিয়া নক্ষত্রমন্ডলে ঘটে যাওয়া অতিকায় নব নক্ষত্রের বিস্ফোরণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সর্বপ্রথম পর্যবেক্ষণ করেন আজ হতে তিনশত বছর আগে। দশ আলোকবর্ষ বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই নক্ষত্রাবশেষের নাম ক্যাসিয়াপিয়া A বা Cas A. পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘে জমাট হয়ে থাকা এই খন্ডাংশগুলো আকারে আমাদের সৌরজগতের থেকেও বহুগুণ বড় হবে। সূর্যের চেয়ে ১৫ হতে ২৫ গুণ ভরের সেই নক্ষত্রটি দগ্ধ হয়েছে সূর্যের চেয়েও ১০০০ গুণ ক্ষিপ্র বেগে। এপর্যন্ত সুপারনোভা বিস্ফোরণের প্রাপ্ত তথ্যের মাঝে নক্ষত্রাবশেষ Cas A -র সৃষ্টিই নবীনতম। তীব্র রেডিও তরঙ্গ বিকিরণের মাধ্যমে তার অবস্থান সে জানিয়ে যাচ্ছে বারবার। CasA –র ছুটে চলার গতি ঘন্টায় দশ মিলিয়ন মাইল। তাপমাত্রা ৫০ মিলিয়ন ফারেনহাইট।চিত্রটিতে বিচিত্র বর্ণ বিভিন্ন মৌলের উপস্থিতি নির্দেশ করছে । যেমন লালচে আভা যুক্ত স্থানে রয়েছে সালফার, গাঢ় নীলাভ অঞ্চলে রয়েছে অক্সিজেন মৌল। আর সাদা গোলাপী ও কমলা আভা নির্দেশ করে সালফার ও অক্সিজেনের মিশ্রণ। স্পিটজার টেলস্কোপ থেকে প্রাপ্ত প্রতিধ্বনিত তরঙ্গ বহন করছে বিস্ফোরণ সংঘটিত হবার পূর্বের তথ্য যা থেকে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে বৃহৎ ভর বিশিষ্ট রক্তিম সুপারজায়ান্ট নক্ষত্রটি তার আভ্যন্তরীন চাপে কোন একসময়ে ভয়ানক বিস্ফোরণের সম্মুখীন হয়ে উচ্চমাত্রায় তাপ ও আলো বিকিরণ করে নিস্প্রভ হয়ে পড়ে মহাকাশের গর্ভে। এখন তার আলো এতটাই ক্ষীণ ও নিস্প্রভ যা কিনা খালি চোখেও আর দেখা যায় না। 

তথ্যসূত্রঃ নাসা

আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান বৎসর

 

২০০৯ সালকে ঘোষণা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান বৎসর হিসেবে। এ উপলক্ষ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ও তার দূরবীণের ছবি, পাশাপাশি খোদিত করে বের করা হয়েছে ২৫ ইউরোর একটি মুদ্রা। মুদ্রাটির ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে গ্যালিলিওর প্রথম চন্দ্রাপৃষ্ঠের চিত্রাঙ্কন। বর্ডারে রয়েছে বেশ কয়েক প্রকার টেলিস্কোপের খোদিত চিত্র। যেমন, স্যার আইজ্যাক নিউটনের দূরবীণ, আধুনিক টেলিস্কোপ, রেডিও টেলিস্কোপ ও স্পেস টেলিস্কোপের ছবি। গ্যালিলিও তার টেলিস্কোপ দিয়ে নভোমন্ডল দর্শনের বছরটি ছিল আজ হতে চারশত বছর আগে ১৬০৯ সাল। তাই ২০০৯ সালটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো গ্যালিলিও টেলস্কোপ উদ্ভাবনের ৪০০ তম বর্ষ।

গ্যালিলিও জন্মেছিলেন ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই ফেব্রুয়ারি ইতালীর পিসা নগরীতে। তাই ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ইউনিভার্সিটি অব নেবারাস্কার জাতীয় যাদুঘরের মুলার প্ল্যানেটোরিয়ামে গ্যালিলিওর জন্মদিন স্মরণে রেখে উন্মোচন করা হয় ৬ ফুট বাই ৩ ফুট আকৃতির একটি মুরাল যেটি কিনা ছিল মেসিয়ার ১০১ এর বর্ণাঢ্য মুরাল।

মেসিয়ার ১০১ একটি সর্পিলাকার ছায়াপথ যা ২২ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূর দিয়ে ঊর্ধা মেজর (যার অপর নাম গ্রেট বিয়ার বা বিগ ডিপার বা সেভেন স্টার বা সপ্তর্ষি মন্ডল) নক্ষত্রমন্ডলে ভেসে বেড়াচ্ছে মহাকাশের গহবরে। নক্ষত্রের ঘূর্ণিবলয়ে সমৃদ্ধ এই গ্যালাক্সীটি শিখাহীন উজ্জ্বল গ্যাসের চক্রাকার ঘূর্ণনের কারণে পিনহুইল গ্যালাক্সী নামেও সুখ্যাত। এর বিশালতা এক লক্ষ ৯০ হাজার আলোকবর্ষ। ৩৩ বিলিয়ন সংখ্যক নক্ষত্র সে ধারণ করে আছে তার মাঝে।

স্পিটজার টেলিস্কোপের ইনফ্রা-রেড চিত্র থেকে বিজ্ঞানীরা ধারণা পেয়েছেন ছায়াপথটির ধূলিকণা সমৃদ্ধ উচ্চ তাপীয় অবস্থা। তেমনি চন্দ্র এক্স রে মানমন্দির থেকে প্রাপ্ত এক্স রে এবং হাবল টেলিস্কোপের প্রাপ্ত হলুদাভ বর্ণের চিত্র একত্র করে এই পিনহুইল গ্যালাক্সীটি চিত্রে প্রতীয়মান হয়ে উঠেছে সব বর্ণে সব রঙে।

তথ্যঃ ইন্টারনেট

এখনি সময়

    তোমাকে যেতে হবে।  এখনই। চমকে তাকালো ঊর্জা সামনের দিকে। গভীর মনোযোগ দিয়ে কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল। গুরু গম্ভীর এ আদেশ যেন ...