সৃষ্টি, চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা Mirror Version

 গ্রীক দার্শনিক প্লেটোর দর্শন অনুসারে আত্মার সমাহার তিন ধরণের যেমনঃ

1. Appetitive — প্রবৃত্তি

2. Spirited — আবেগ

3. Rational — বুদ্ধি

বুদ্ধি আত্মার সবচেয়ে উচ্চতর অংশ, যা বিচার-বিবেচনা, যুক্তি, চিন্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার আধার প্লেটোর মতে, ‘বুদ্ধি’ আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করবে, আবেগ সমর্থন জোগাবে, প্রবৃত্তি যুক্তি নীতির অধীন থাকবে  তাহলেই আত্মার ভারসাম্য ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে, এবং মানব চরিত্র পূর্ণতা লাভ করবে

পরবর্তীতে Neo-Platonism- ধারণা করা হয়ঃ

1. The One

এই স্তরটি সমস্ত সৃষ্টির  মূল উৎস এটি সমস্ত সত্তার ঊর্ধ্বে  একক ও নিরাকার

বৈশিষ্ট্যঃ The One সকল অস্তিত্বের মূল, যা চিন্তা, ভাষা বা উপলব্ধির বাইরে সব কিছুর অস্তিত্ব The One থেকে নিঃসৃত (emanate) হয়

2. Intellect

The One থেকে প্রথম নিঃসৃত বাস্তবতা হচ্ছে Intellect . এটি পরিপূর্ণ জ্ঞান, চেতনা ধারণার আধারবৈশিষ্ট্যঃ এখানে সমস্ত আদর্শ (Forms/Ideas) বিদ্যমান।

3. Soul

Intellect থেকে নিঃসৃত  বাস্তবতা হচ্ছে Soul (Psyche). এটি সমস্ত জীবিত সত্তা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রাণশক্তির আধার সব কিছু The One থেকে শুরু হয়ে, Intellect Soul-এর মধ্য দিয়ে,  বস্তুজগতে প্রকাশিত হয়। আত্মিক মুক্তি উন্নতির লক্ষ্যে তখন  জীবসত্তা আবারো The One-এর দিকে  ধাবিত হবার চেষ্টা করে সৃষ্টি, চেতনা আত্মার চিরন্তন যাত্রার-

১ম এবং ২য় স্তর = প্রবৃত্তি/আবেগ

৩য় স্তর = বুদ্ধি

৪র্থ  স্তর = Intellect

৫ম৭ম স্তর = The One (সৃষ্টির উৎস)

মহাবিশ্বের মৌলিক বাস্তবতা চেতনা,  একক অভিন্ন  শক্তির প্রকাশ মানুষের চেতনা মহাবিশ্বের ক্ষেত্র, পরস্পর সংযুক্ত আন্তঃসম্পর্কিত

চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রায় ডাইমেনশানের ধাপগুলোর হলোঃ

3D (Third Dimension): বস্তুজগৎ, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বাস্তবতা

4D (Fourth Dimension): বিশ্বাস, অনুভূতি, শক্তি সময়ের স্তর

5D (Fifth Dimension): অন্তর্দৃষ্টি, ঐক্য-চেতনা, পরম জ্ঞান

6D(Sixth Dimension): আধ্যাত্মিক সৃজনশক্তি মহাজাগতিক পরিকল্পনা

7D(Seventh Dimension): চেতনার মূল উৎস, পরম ঐক্য অনন্ততা

3D: ভৌতিক জগত (Physical Realm)

 3D বা থ্রি-ডাইমেনশনাল জগত হলো দৈনন্দিন বস্তুজগৎ, যেখানে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতাএই তিনটি মাত্রা রয়েছে

বৈশিষ্ট্যঃ চেতনার স্তরে এটি  ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বাস্তবতা বস্তুবাদ নির্দেশ করে

4D: বিশ্বাস/এনার্জেটিক সংবেদন (Belief/Energetic Perception)

4D স্তরকে অনেক সময় “Time dimension” বা “Energy dimension” বলা হয়

বৈশিষ্ট্যঃ মানসিক শক্তি, কল্পনা, বিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি  4D জগতের লক্ষণ

5D: জ্ঞান-প্রজ্ঞা (Wisdom/Intuitive Knowing)

 5D স্তরকে বলা হয় “Unity consciousness” বা “Higher wisdom dimension”

বৈশিষ্ট্যঃ এই স্তর গভীর উপলব্ধি, গভীর জ্ঞান প্রেম-সহমর্মিতার স্তরএখানে  ego ফেলে দিয়ে সার্বজনীন ঐক্য-চেতনা অনুভব করা যায় স্তরে শুদ্ধ সত্য, অন্তর্দৃষ্টি পরম জ্ঞানের অভিজ্ঞতা লাভ করা যায়

 6D: আধ্যাত্মিক সৃষ্টিশক্তি (Spiritual Creative Power)

 6D স্তরে চেতনা পূর্ণ আধ্যাত্মিক সৃজনশীলতায় প্রবেশ করে

বৈশিষ্ট্যঃ এখানে চিন্তা কল্পনা বাস্তবতায় রূপ নিতে শুরু করে এই স্তর আত্মার সৃজনশীল শক্তি, উচ্চতর দর্শন, মহাজাগতিক পরিকল্পনা সমন্বয়ের স্তর এই স্তরে আধ্যাত্মিক শক্তি সৃষ্টি-প্রক্রিয়ার সঙ্গে আত্মার  সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়

 7D: উৎস/চেতনার মূল উৎস (Source Consciousness)

7D  চেতনার চূড়ান্ত সর্বোচ্চ স্তরযেখানে সমস্ত সত্তা, জ্ঞান শক্তি এক উৎসে মিলিত

বৈশিষ্ট্যঃ স্তরকে বলে  সর্বব্যাপী চেতনার স্তর, উৎস  বা Source. এখানে কোনো  বিভাজন নেই,  সীমারেখা দ্বারা কিছুই নির্ধারিত নয় সব কিছু একাত্ম অপার স্তর পরম শান্তি, অনন্ত ভালোবাসা সর্বজ্ঞতার স্তর এটি ঈশ্বর-স্বরূপ বা ব্রহ্মা-স্বরূপ ধারণার সঙ্গে তুলনীয়

…………

 


No comments:

Post a Comment

শায়েরী

  ফুল যখন ফুটলো তখন সুবাস নেবার কেউ নেই। ** (জীবনের) ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো থেকে জীবন বঞ্চিত করেছে কিন্তু তারপরও বঞ্চনা ঠাহর করতে পারি না।  **