বৃষ্টি নাকি কাব্য?

 ১৩ই মে ২০২০

দুপুরের দিকে ঝুম বৃষ্টি দেখে আজ কেন জানি অবাক। যেমন  বজ্রপাতের গুরু গম্ভীর শব্দ তেমন বাতাসের তোড়। বারান্দায় যেয়ে চোখ যেন ঝলসে গেল বিদ্যুতের চমকে। ভেতরে এসে শুরু হলো বৃষ্টি রেকর্ডিং। সত্যিই তখন পর্যন্ত ছিল এ বৃষ্টি  ছিল একটা  কাব্য। কারণ তখনো যে জানি না,  আমার প্রিয় আপা – আমার শাহানা আপা এ জগৎ ছেড়ে অন্য জগতে পা রাখছেন কিনা। ঐ অজানা জগতে প্রবেশ মুহূর্তে হয়তো বা এক দন্ড থেমে ফিরে তাকিয়েছেন পিছনে। আর তখনই তার ফেলে যাওয়া চির চেনা এই প্রকৃতি তার  প্রস্থান সইতে না পেরে শুরু করেছে কান্না। প্রকৃতির এই কান্না তো তখন আমি বুঝিনি। এই কান্নার সাথে যে মিশে রয়েছে প্রিয়জনকে শেষ বিদায় দেবার গভীর   কষ্ট তা তো আমার অনুভূত হয়নি। তাই আমি জানতেও চাইনি কেন আকাশের আজ এতো বিরহ, কেন আজ তার এতো কষ্ট, কেন মেঘের আজ এত গর্জন, কেন বাতাসের এই শনশন? 

আছড়ে আছড়ে পড়ছিল গাছের ডালগুলো বিল্ডিং -এর দেয়াল ঘেঁষে। নুয় নুয়ে যাচ্ছিল বিশাল বিশাল গাছের সব ডালগুলো। বাতাসের ঝাপটায় স্থির রাখতে পারছিলাম না আমার হাত।  ক্যামেরা ধরে রাখতে কষ্ট হচ্ছিল। প্রকৃতিতে  সবাই যে তখন বিলাপরত। আকাশ, বাতাস, মেঘমালা, পাশের ঘন জঙ্গলে গাছের বড় বড়  ডাল – সব্বাই। তারা যে  সইতে পারছিল না এতো ভাল একজনের প্রস্থান। একজন মানুষের প্রস্থান। একজন সততায় ভরা আত্মার প্রস্থান। 

সেই স্নিগ্ধ হাসিমাখা মুখ, কাটাকাটা চেহারায় কি বুদ্ধিদীপ্ত চাহনি, সুরেলা কন্ঠে সেই অভিবাদন - কে মুগ্ধ হয়নি শাহানা আপার জন্য? 

কে ভালবাসেনি তাকে?  সবাই ভালোবেসেছে। তাই প্রকৃতি মমতাময়ী তাকে চলে যেতে দিতে চায়নি। 

শাহানা আপা যে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছেন  অনন্তের পথে, তার যে তখনই দাফন হচ্ছে – আমি না জানলেও আকাশ তো তখন জেনে গেছে। তাই ডালপালা নুইয়ে বাতাস বইছে। ঝড় নেমেছে চারিদিকে। ভীষণ ঝড়। এখন চারিদিকে শোক।  কান্নার ঝাঁপি খুলে সে কাঁদছে অঝোর ধারায়। 

এখনি (১৮ই মে, ২০২০) আমি যখন এই লেখাটি এডিট করছি অনলাইনে ছাপাবো বলে তখনি একটা সংগীত গ্রুপ থেকে একজনের পোট্রেট এসে সামনে পড়লো। মনে হচ্ছে যেন সাহানা আপা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন। উনি আমার সাথে কমিউনিকেট করছে অবশ্যই। নাহলে ঠিক এখন কেন পেলাম এই পোট্রেটটি। ছবিটি ওনার না কিন্তু মিল পাচ্ছি যে অনেক। ফিল হচ্ছে উনি খুব খুশী। wow! I love you so much Shahana Apu.



6 comments:

  1. ১৪ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১১০

    ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ বৃষ্টি নাকি কাব্য লেখাটি পড়তে পড়তে মনে হলো যেন এক বিষণ্ন বর্ষার দুপুরে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে প্রকৃতির
    প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি দোলা আর প্রতিটি বৃষ্টিধারা এক গভীর শোকের ভাষা হয়ে উঠেছে। আপনার অনুভূতির প্রকাশ এতটাই জীবন্ত ও হৃদয়ছোঁয়া যেকেও খুব সহজেই সেই বেদনার ভেতর ডুবে যেতে বাধ্য হয়।

    বিশেষ করে প্রকৃতি ও মানুষের আবেগকে একসূত্রে গাঁথার যে অসাধারণ ক্ষমতা লেখক দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বৃষ্টির কান্না, বাতাসের শো শো শব্দ, দুলতে থাকা ডালপালা সবকিছু যেন শোকাহত হয়ে প্রিয় মানুষটির বিদায়কে অনুভব করছে। প্রকৃতিও তাকে চলে যেতে দিতে চায়নি এই ভাবনাটি লেখাটিকে আরও বেশি আবেগময় ও কাব্যিক করে তুলেছে।

    লেখার ভাষা কোমল, হৃদয়গ্রাহী এবং অত্যন্ত চিত্রধর্মী। অমার কাছে মনে হয়েছে, এটি শুধু একজন মানুষের বিদায়ের গল্প নয়; বরং ভালোবাসা, স্মৃতি ও হারানোর গভীর বেদনার এক অনবদ্য অনুভূতির প্রতিচ্ছবি।

    শুভেচ্ছা রইল

    ReplyDelete
    Replies
    1. ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:১৯০

      আমার মন্তব্যঃ আলী ভাই, আপনার এতো সুন্দর ও গভীর মন্তব্য পড়ে আমি আপ্লুত। আপনি লেখাটির প্রতিটি স্তর এতটা মনোযোগ দিয়ে অনুভব করেছেন, তা লেখক হিসেবে সত্যিই বড় পাওয়া। প্রকৃতি ও মানুষের আবেগের মেলবন্ধন, বিদায়ের বেদনা কিংবা বৃষ্টির কান্না—আপনার ব্যাখ্যায় সবকিছু আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
      এই অনুভূতি পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছাতে পেরেছে জেনে নিজের অভিজ্ঞতাকেও নতুনভাবে আবিষ্কার করলাম। আপনার এমন আন্তরিক মন্তব্য ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু লেখার প্রেরণা জোগাবে।
      আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইল।

      Delete
  2. ১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:৫২০

    রিয়াজ হান্নান বলেছেন: আমি গভীর কথাবার্তা বুঝিনা,তবে আপনার উপস্থাপনা দারুন,আপনার প্রোফাইলের মত ঝাপসা ছবির মত নয়,হাহাহা

    ReplyDelete
    Replies
    1. ১৬ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:০৪০

      লেখক বলেছেন: ঝাপসা হলেও তো কিছু একটা আছে। আপনাকে পাহাড় বন জংগলের ভেতর তো খুঁজেই পাওয়া যায় না।

      ব্লগপোস্টে আপনার লেখাগুলোর যে গভীরতা দেখলাম তা তে তো সাধারণ মানুষের মাথা ঘুরে যাবার কথা।

      Delete
  3. ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪০

    রিয়াজ হান্নান বলেছেন: আরেহ ব্লগপোস্ট তো লিখিনা বহু বছর,আমি শুধু বন জঙ্গলের মানুষই নই,সম্ভবত আপনি আমাকে খুজে পাননি,হেহেহে,স্বীকার করে ফেলুন।।।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ১৭ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:০১০

      লেখক বলেছেন: আসলেই খুঁজে পাইনি। ঐ বন জঙ্গলের মাঝে একটা লাল পতাকার মতন কি যেন দেখা যায় শুধু।

      তবে আপনার ব্লগপোস্টের একটি লেখা থেকে দুটো চরণ তুলে রেখেছি। বাকী লেখা পড়ে ফেলবো। লিংক দেখতে পারেন সময় পেলে । ব্লগ-সাহিত্য পর্যালোচনা https://hharoon3.blogspot.com/2026/05/blog-post.html

      Delete

ব্লগে আমার ১৮ বছর পূর্তি

এমনি একদিন  ২০০৭ । অনলাইন   একটি ই- ম্যাগাজিন সম্পাদনার কাজ করি। অবনী অনার্য  পাকা লেখক। তার থেকে লেখা নিয়ে আমার ই- ম্যাগাজিন সমৃদ্ধ। যার  হ...