২০০১ সালের ১২ ই জুলাই হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এই চিত্রটি আমাদের উপহার দিয়েছে যা কিনা একটি রিং গ্যালাক্সীর ছবি। ছবিটি একটু ধাঁধাঁ লাগায় প্রথমে। মনে হয় যেন দুটি গ্যালাক্সী সমকেন্দ্র বরাবর আগে পিছে করে অবস্থিত। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। ছবিটি আসলে একটি গ্যলাক্সীর-ই যার কেন্দ্রে রয়েছে অধিক বয়সের লালচে নক্ষত্র আর আর তাকে ঘিরে সৃষ্ট বলয়ে অবস্থান করছে অপেক্ষাকৃত নবীন নীলাভ নক্ষত্রসমূহ। এদের মধ্যবর্তী অংশটুকু নিরেট কালো যার নাম Hoag's object এর বিস্তৃতি প্রায় একলক্ষ আলোকবর্ষ জুড়ে যা সার্পেন নক্ষত্রমণ্ডল হতে ৬০০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এ নক্ষত্রমন্ডলীর সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র আলফা-সার্পেন আকৃতিতে আমাদের সূর্যের চেয়ে দশগুণ বড় এবং আমাদের হতে ৬৭ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
ঘড়ির কাঁটাকে দুপুর একটার ঘরে রাখলে চিত্রটিতে প্রতীয়মান হয় আরেকটি ছোট রিং গ্যালাক্সী। কিন্তু কিভাবে উতপত্তি এই বিস্মকর গ্যলাক্সীটির? বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন অতীতে কখনো দুটি গ্যালাক্সী কাছাকাছি এসে পড়ায় সংঘর্ষ সৃষ্টিতে পরস্পরের নক্ষত্র সমূহ অঙ্গীভূত হয়ে নতুনভাবে বিন্যস্ত হয়েছে। এ সজ্জায় অপেক্ষাকৃত ভারী নক্ষত্রগুলো কেন্দ্রে নিজেদের ঠাঁই করে নিয়েছে আর নবীনরা বলয়াকারে কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করে চলছে।
দ্বিতীয় চিত্রটি আরোও বিস্ময়কর। এই ছায়াপথটির নাম NGC4650A বা পোলার রিং গ্যালাক্সী। এখানে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রের তল আর বলয়টির তল পরস্পর সমান্তরালে নয় বরং একে অপরের সাথে লম্বভাবে অবস্থিত। বলয় ও কেন্দ্রের মাঝখানে নিকষ কালো অঞ্চলটি পরিপূর্ণ ররেছে ঘন কৃষ্ণ বস্ত বা ডার্ক ম্যাটারে। বিশালাকায় এই বলয়টি গুরুভারে সমৃদ্ধ ঘন নক্ষত্ররাজি ও ধূলিকণা এবং গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে।
সূত্রঃ নাসা, হাবল স্পেস টেলিস্কোপ

তাজুল ইসলাম মুন্না বলেছেন: সৃষ্টি আসলেই খুব অদ্ভুত...
ReplyDeleteপাঠক মন্তব্যের তারিখ ২২শে মে ২০০৯
Deleteকেমন আছেন?
হোরাস্ বলেছেন: মাঝখানেরটা কি একটা নক্ষত্র নাকি একসাথে অনেক গুলা। একটা হইলে ঐটার সাইজতো সূর্য্যের ১০ গুনের চেয়ে আরও অনেক বেশি গুন বড় হওয়ার কথা। যাইহোক, ভালো পোস্ট। প্লাস দিলাম।
ReplyDeleteএকটি নয়...অগণিত।
Deleteরুবাইয়াত ইসলাম সাদাত বলেছেন: খুব ভালো লাগলো সবসময়ের মতই।
ReplyDeleteধন্যবাদ অনেক।
Deleteআজম বলেছেন: খুব ভালো লাগল.....জ্যোতির্বিজ্ঞানে আমি খুব উৎসাহী।
ReplyDeleteআপনার ব্লগের নিয়মিত পাঠক হলাম।
মন্তব্য প্রকাশের তারিখ ৩০শে মে ২০০৯
Delete৩১শে মে ২০০৯ সুনীল সমুদ্র বলেছেন:
ReplyDeleteকবিতা প্রেমী একজন অন্যরকম মানুষের ব্লগে প্রথমবারের মতে এসে বেশ অবাকই হলাম !
আকাশ, নক্ষত্র আর জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কীত কতো Interesting সব লেখা এখানে ! দেখে মুগ্ধ হলাম।....
বুঝতে পারছি, সবগুলো লেখাই খুব তথ্যসমৃদ্ধ।
.....নিশ্চয়ই পড়বো একে একে !
আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা ।
৬ই জুন, ২০০৯ পথিক!!!!!!! বলেছেন: সুনীল দার সাথে একমত
ReplyDelete: ধন্যবাদ পথিক।
Delete৭ই জুন, ২০০৯ উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
ReplyDeleteঅনেক দিন আগে, কত আগে খেয়াল নাই, কার্ট হুইল গ্যালাক্সির উপর একটা জার্নাল পড়ছিলাম মনে হয় যেখানে খুব বেশী পরিমানে এক্স রে নির্গমনের প্রমান পাওয়া গিয়েছিলো। তখন ওর পাশের সার্কেল দেখে আমার সন্দেহ হয়েছিলো আসলে এটা শক্তিশালী ব্লাক হোলের কারসাজী কি না। হতে পারে এমন ব্লাক হোলের সিঙ্গুলারিটি বা ইভেন্ট সিঙ্ডুলারিটির হরাইজনের পরিধি অনেক বড় এবং চোখ বিধায় এর মুখে অনেকগুলো পতিত বস্তুর কারনে কেন্দ্রে খুব উজ্জলতা ধারন করেছে। আর চারপাশের নীলাভ বস্তুগুলোকে অতীব প্রাচীন বলেই ধরে নেয়া যায়।
আমার ধারণা যদি সত্যি হয়, তাহলে গ্যালাক্সির ভিতরে থাকা ছোট ছোট নক্ষত্রসমূহের আকার অবশ্যই ডিস্টর্টেড হবে। যদিও এ বিষয়ে তেমন কোনো কিছু লেখা পাওয়া যায়নি। তাই ভাবনার সীমা না পাওয়ায় সেগুলো তখনই থেমে যায়। তবে এইসব পয়াথলজিক্যাল গ্যালাক্সি সম্পর্কে জানতে হলে আলোর ব্যাতিচাচর আর তত্বগত ফিজিক্স আর কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সের উপর বিষদ দখল থাকাটা খুবই জরুরী!
তবে এটা অপটিক্যাল ইলিউশনও হতে পারে, হতে পারে আমরা যেসব ধারনা করছি সেগুলো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে ওখানে!
৭ই জুন, ২০০৯ ধন্যবাদ ঊদাসী।
Deleteএ পৃথিবীর Theoretical Physics , Quantum Mechanics এর জ্ঞান কাজে লাগবে বলে মনে হয় না। কারণ ঐ যে বললেন, ওখানে ভিন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে যেখানকার ফিজিক্সও ভিন্ন।
১৩ই জুন, ২০০৯ ম্যাভেরিক বলেছেন: সশ্রদ্ধ অভিবাদন, হে মহাজগতের পরিব্রাজক, সুন্দর, অনন্ত রহস্যের পোস্টের জন্য।
ReplyDelete১৮ই জুন, ২০০৯ অপ্রিয় সত্য বলেছেন:
ReplyDeleteজ্যোতির্বিজ্ঞানে আছে অনেক জ্ঞান
হলাম অবাক-হতবাক-নির্বাক
সবশেষে অজ্ঞান
আমারও শখের একটি হলো এস্ট্রোলজী
আজ থেকে আসবো বেশী বেশী.........
২১শে জুলাই ২০১৭ সবশেষে অজ্ঞান?
Delete২১শে জুন, ২০০৯ মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: এতকিছু বুঝিনাই-তবে রিং গ্যালাক্সি দেখে আমি মুগ্ধ-
ReplyDeleteধন্যবাদ।
২১শে জুন ২০০৯, : স্রষ্টার সৃষ্টি!!
Delete