মঙ্গলপৃষ্ঠে ফিনিক্সের অবতরণ


 আলোর গতিতে ধাবমান ফিনিক্সের সংকেত ধ্বনি মঙ্গল হতে পৃথিবীতে আসতে সময় নিয়েছে ১৫ মিনিট। সংকেতে সে জানিয়েছে মঙ্গলপৃষ্ঠের উত্তর মেরু অঞ্চলে তার অবতরণ ঠিকঠাকই হয়েছে। পাঠিয়েছে মঙ্গল পৃষ্ঠের ছবি। ফিনিক্স একটি অতি জটিল উচ্চমান সম্পন্ন আধুনিক রোবোট। ৯ মাস ভ্রমণের পর ৪২০ মিলিয়ন মাইল অর্থাত ৬৭৬ মিলিয়ন কি. মি. পাড়ি দিয়ে ফিনিক্স অবতরণ করে শীতল মরুময় মঙ্গল পৃষ্ঠে। খুব আলতোভাবে অবতরণই ছিল ফিনিক্সের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ যা সে সঠিকভাবেই সম্পাদন করতে পেরেছে। তিনমাস পর মঙ্গলগ্রহে শীতকাল ঘনিয়ে আসবে। মেরুঅঞ্চল থেকে সূর্য চলে যাবে দিগন্তের নীচে। বরফ আর কার্বন ডাই অক্সাইডের পুরু আস্তরনে ছেয়ে যাবে মঙ্গলের উত্তর মেরু, সাথে সাথে ফিনিক্সের সমগ্র দেহ। জীবনাবসান ঘটবে ফিনিক্সের। তাই শীত আসবার আগেই সে সম্পাদন করে নেবে তার সকল দায়িত্ব।

১৯৭০সালে নাসা নির্মিত ভাইকিং প্রোব মঙ্গলের মাটি পর্যবেক্ষণ করেছিল। জলের উপস্থিতি তাতে অনুপস্থিত ছিল। এখন ফিনিক্স তার ৮ ফুট দীর্ঘ রোবোটিক হাত দিয়ে কয়েক ফুট মাটি খুড়ে কিছু উপাদান সংগ্রহ করে তার অভ্যন্তরস্থ চুল্লীতে ১৮০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট অর্থাত ১৮০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে উত্তপ্ত করে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাবে, সে দেখবে এতে প্রাণ ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব রাসায়নিক উপাদান ও খনিজ আছে কি না। তারপর ফিনিক্স এই তথ্যটি পাঠিয়ে দেবে পৃথিবীতে। যদিও মঙ্গল গ্রহে অবতরণের ৫ দিন পর হতে ফিনিক্সের অভ্যন্তরস্থ চুল্লীতে শর্ট সার্কিট জনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে । যে যন্ত্রাংশে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে তার নাম TEGA বা Thermal and Evolved Gas Analyzer। কিন্তু বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে তারা এ সকল সমস্যা এবার অন্তত সমাধা করতে পারবেন। 

সূত্রঃ

http://www.nasa.gov/phoenix এবং https://lpl.arizona.edu/missions/phoenix

No comments:

Post a Comment

এখনি সময়

    তোমাকে যেতে হবে।  এখনই। চমকে তাকালো ঊর্জা সামনের দিকে। গভীর মনোযোগ দিয়ে কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল। গুরু গম্ভীর এ আদেশ যেন ...