উত্তপ্ত জুপিটর


শৈল্পিক নিদর্শন শিল্পীর তুলির আঁচড়ে সৃষ্ট। কিন্তু সে শিল্পী যদি হন স্রষ্টা নিজে তাহলে অনুসন্ধিৎসু মহলে আলোড্রোন পড়ে যায় সে শিল্পকর্মের ব্যাখ্যা পেতে। প্রদত্ত আঁকা ছবিটি কোন একজন শিল্পীর, যিনি হাবল স্পেস টেলিস্কোপ থেকে আনা তথ্যের ভিত্তিতে এঁকেছেন স্রষ্টার মহাজাগতিক সৃষ্টির কিছু অংশ। ছবিটি উত্তপ্ত স্তূপিটর HD2094586 নর, যে কিনা তার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলছে সর্বক্ষণ ৮ মিলিয়ন মাইল দূর দিয়ে। অর্থাৎ আমাদের সৌরজগতের সূর্য হতে বুধ গ্রহের যে দূরত্ব তারও কম দূর দিয়ে HD209458b এর নিজস্ব আবহাওয়া মন্ডল বারবার বাম্পায়িত হয়ে উঠছে তার নিজের সূর্যের উত্তাপে। নভোমন্ডলের আকাশে উদ্‌গীরণ করছে উত্তপ্ত গ্যাস। 

গ্রহটির ছবি সরাসরি তোলার জন্য হাবল স্পেস টেলিস্কোপ উত্তপ্ত এই গ্রহটির কাছে পৌঁছুতে পারেনি। যে নক্ষত্রটিকে সে পরিভ্রমণ করে চলছে তার থেকে বিকিরিত আলোর ছটা গ্রহটির আবহমণ্ডল ভেদ করে হাবল স্পেস টেলিস্কোপে এসে পড়ছে। সেই রশ্মি হতে প্রাপ্ত তথ্য চিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা গ্রহটির বৈশিষ্ট্য জানতে সক্ষম হয়েছেন। গ্রহটির আবহমণ্ডল পরতে পরতে বিশ্লেষণ করতে সচেষ্ট হয়েছেন তারা। আবহমণ্ডলের উত্তপ্ত হাইড্রোজেন গ্যাস নভোমন্ডলে ছড়িয়ে পুচ্ছসদৃশ গ্যাসীয় পুঞ্জের সৃষ্টি করেছে। উপস্থিত করেছে হঠাৎ এক ধূমকেতুর। আবহাওয়া মন্ডলের তাপমাত্রা ১৩৪০ ডিগ্রী ফারেনহাইট হতে শুরু করে পরতে পরতে বৃদ্ধি পেয়ে ২৫৪০ ডিগ্রী ফারেনহাইট হয়ে যায় যা কিনা আমাদের সূর্যের থেকেও উত্তপ্ত। এ উচ্চ তাপমাত্রায় এক সময়ে গ্রহটির পুরো আবহমণ্ডল বিলীন হয়ে যাবে। গ্রহটি থেকে প্রতি সেকেন্ডে দশ হাজার টন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে নভোমন্ডলে। (নায়াগ্রা জলপ্রপাতে প্রতি সেকেন্ডে এর তিন ভাগের এক ভাগ জল প্রবাহিত হয়। গ্রহটি যে তার ফলে শেষ হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়, আরো ৫ বিলিয়ন বছর এর আয়ু আছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন। 

গ্রহটি আকারে আমাদের সৌরজগতে অবস্থিত বৃহস্পতি গ্রহের ১.৩ গুন। ৩.৫ দিনে গ্রহটি তার কক্ষপথ ভ্রমণ সম্পন্ন করে। আমাদের সৌরজগতের বৃহস্পত্তি যদি সূর্যের আরো নিকটে থাকতো তারও একই দশা হতো। তাই HD209458b গ্রহটির নাম দেয়া হয়েছে উত্তপ্ত জুপিটর। এর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও নভোমন্ডলে বিচরণ করতে দেখা যায়। আমাদের সৌরজগতের বাইরে ২০০টি গ্রহের মাঝে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ গ্ৰহ উত্তপ্ত (হট) স্থপিটরের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ১৬ টি হট জুপিটরের খবর সংগ্রহ করেছে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। অত্যাধিক গ্যাসে পরিপূর্ণ লক্ষাধিক বিশালাকার নক্ষত্রই এরকম উত্তপ্ত আবহমণ্ডল সম্পন্ন গ্রহ সৃষ্টিতে দায়ী। এই ছায়াপথেই তাদের বসবাস। তবে হট জুপিটর আমাদের হতে ১৫০ আলোকবর্ষ দূরে পেগাসাস নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত। গ্রহটির আবহমণ্ডলে অক্সিজেন, কার্বন,সোডিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। গ্রহটি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা কারণ আমাদের সৌরজগতের বাইরে অবস্থিত এটিই সবচেয়ে নিকটস্থ গ্রহ যার রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে ব্যাপক বিশ্লেষণ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। নাসার Spitzer স্পেস টেলিস্কোপ গ্রহটির আবহমণ্ডলের ইনফ্রারেড রশ্মি পর্যবেক্ষণ করেছে। 

সূত্রঃ নাসা, হাবল্‌ স্পেস টেলিস্কোপ

মঙ্গলপৃষ্ঠে ফিনিক্সের অবতরণ


 আলোর গতিতে ধাবমান ফিনিক্সের সংকেত ধ্বনি মঙ্গল হতে পৃথিবীতে আসতে সময় নিয়েছে ১৫ মিনিট। সংকেতে সে জানিয়েছে মঙ্গলপৃষ্ঠের উত্তর মেরু অঞ্চলে তার অবতরণ ঠিকঠাকই হয়েছে। পাঠিয়েছে মঙ্গল পৃষ্ঠের ছবি। ফিনিক্স একটি অতি জটিল উচ্চমান সম্পন্ন আধুনিক রোবোট। ৯ মাস ভ্রমণের পর ৪২০ মিলিয়ন মাইল অর্থাত ৬৭৬ মিলিয়ন কি. মি. পাড়ি দিয়ে ফিনিক্স অবতরণ করে শীতল মরুময় মঙ্গল পৃষ্ঠে। খুব আলতোভাবে অবতরণই ছিল ফিনিক্সের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ যা সে সঠিকভাবেই সম্পাদন করতে পেরেছে। তিনমাস পর মঙ্গলগ্রহে শীতকাল ঘনিয়ে আসবে। মেরুঅঞ্চল থেকে সূর্য চলে যাবে দিগন্তের নীচে। বরফ আর কার্বন ডাই অক্সাইডের পুরু আস্তরনে ছেয়ে যাবে মঙ্গলের উত্তর মেরু, সাথে সাথে ফিনিক্সের সমগ্র দেহ। জীবনাবসান ঘটবে ফিনিক্সের। তাই শীত আসবার আগেই সে সম্পাদন করে নেবে তার সকল দায়িত্ব।

১৯৭০সালে নাসা নির্মিত ভাইকিং প্রোব মঙ্গলের মাটি পর্যবেক্ষণ করেছিল। জলের উপস্থিতি তাতে অনুপস্থিত ছিল। এখন ফিনিক্স তার ৮ ফুট দীর্ঘ রোবোটিক হাত দিয়ে কয়েক ফুট মাটি খুড়ে কিছু উপাদান সংগ্রহ করে তার অভ্যন্তরস্থ চুল্লীতে ১৮০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট অর্থাত ১৮০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে উত্তপ্ত করে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাবে, সে দেখবে এতে প্রাণ ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব রাসায়নিক উপাদান ও খনিজ আছে কি না। তারপর ফিনিক্স এই তথ্যটি পাঠিয়ে দেবে পৃথিবীতে। যদিও মঙ্গল গ্রহে অবতরণের ৫ দিন পর হতে ফিনিক্সের অভ্যন্তরস্থ চুল্লীতে শর্ট সার্কিট জনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে । যে যন্ত্রাংশে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে তার নাম TEGA বা Thermal and Evolved Gas Analyzer। কিন্তু বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে তারা এ সকল সমস্যা এবার অন্তত সমাধা করতে পারবেন। 

সূত্রঃ

http://www.nasa.gov/phoenix এবং https://lpl.arizona.edu/missions/phoenix

এখনি সময়

    তোমাকে যেতে হবে।  এখনই। চমকে তাকালো ঊর্জা সামনের দিকে। গভীর মনোযোগ দিয়ে কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল। গুরু গম্ভীর এ আদেশ যেন ...