অ্যান্টেনা গ্যালাক্সী


 নাসার হাব্‌ল স্পেস টেলিস্কোপ হতে গৃহীত এই ছবিটি অ্যান্টেনা গ্যালাক্সীর ছবি। সংবাদটির প্রকাশ কাল ১৬ই অক্টোবর ২০০৬. নিউ জেনারেল ক্যাটালগ (NGC) অনুযায়ী এই ছায়াপথটির নম্বর  NGC 4038-4039 . 

দুটি সর্পিলাকার ছায়াপথ বা স্পাইরাল গ্যালাক্সীর একত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় আজ হয়ে কয়েকশত মিলিয়ন বছর আগে। ছায়াপথ দুটির সংর্ষের শুরুর দিকে তৈরী হচ্ছিল অগণিত নক্ষত্ররাজি।  তারই ফলশ্রুতিতে হাবল্‌ স্পেস টেলিস্কোপ সবচেয়ে নিকিটবর্তী যে ছবিটি আমাদের উপহার দিয়েছে তাই-ই NGC 4038-4039 বা অ্যান্টেনা গ্যালাক্সী। অ্যান্টেনার মতন দীর্ঘ লম্বাটে আকার বলেই এই ছায়াপথের এইরূপ নামকরণ।

গ্যালাক্সী দুটির মিলে যাওয়ার সময় গুচ্ছ গুচ্ছ নক্ষত্ররাজি তৈরী করেছিল নক্ষত্রগুচ্ছ বা স্টার ক্লাস্টার। এই প্রাপ্ত ছবিটির ডান এবং বাঁ দিকে দুটি কমলা রঙের গোলাকার পিন্ড হল মূল ছায়াপথ দুটির কেন্দ্র বা core. ছবিতে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে মেটে রঙের কসমিক ডাস্ট এবং ফিলামেন্ট দ্বারা মূল ছায়াপথ দুটির অপেক্ষাকৃত বর্ষীয়ান তারকাগুলো ছেয়ে আছে। তাই মেটে আর কমলা রঙ কাছাকাছি হয়ে মিশে আছে। ছবিটিতে হাল্‌কা নীলাভ অংশে রয়েছে সদ্য তৈরী হওয়া নবীন তারকারাজি। হাইড্রোজেন গ্যাসপিন্ড দিয়ে মুড়ানো এই অঞ্চলটি যেন উত্তাপ বিকিরণে গোলাপী রঙের আভায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। এই ছবিটি থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সহজেই নক্ষত্র ও নক্ষত্রগুচ্ছ কে আলাদা করতে পারবেন। Age dating পদ্ধতির মাধ্যমে তারা দেখেছেন সদ্য তৈরি হওয়া নক্ষত্রগুচ্ছের দশ শতাংশ শুধুমাত্র টিকে থাকবে প্রথম দশ মিলিয়ন বছরের কিছু অধিক সময় আর বাকীরা গুচ্ছবদ্ধ না থেকে বিচরণ করবে এই বিশাল ছায়াপথের মঝে।  বিশালাকায় নক্ষত্রগুলো সুসংবদ্ধ হয়ে গঠন করবে গ্লোবিউলার ক্লাস্টার। এটি নক্ষত্ররাজির এমন একটি ক্লাস্টার যা কিনা দশ হাজার থেকে এক মিলিয়ন নক্ষত্রের সমন্বয়ে ১০-২০০ আলোকবর্ষ ব্যাস সমৃদ্ধ স্থান জুড়ে ছায়াপথে অবস্থান করে। 

আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ মিল্কিওয়েতে এরকম গ্লোবিউলার ক্লাস্টারের অস্তিত্ব রয়েছে। অ্যান্টেনা গ্যালাক্সীর এই ছবিতে মূল ছায়াপথ দুটির স্ব স্ব কেন্দ্রস্থল অর্থাত নিউক্লিয়াস থেকে অ্যান্টেনা সদৃশ লম্বা দীর্ঘায়িত অংশটুকু অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। গ্রাউন্ড বেইসড টেলিস্কোপ দিয়েও ছায়াপথের এই অ্যান্টেনা সদৃশ অংশবিশেষ ভাল মতন পর্যবেক্ষণ করা যায়। ২০০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে যখন এ দুটো গ্যালাক্সি পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল তখন সমুদ্রের জোয়ারের মতন মহাকাশেও জোয়ারের সৃষ্টি হয়েছিল যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলে টাইডাল ওয়েভ। সমুদ্রের বিন্দু বিন্দু জলের সমাহার যেমন জোয়ার সৃষ্টি করে অতটা তেমন নয় বরং দুটি গ্যালাক্সির অসংখ্য  বিন্দু বন্দু নক্ষত্র তাদের একত্রীকরনের সময়  সৃষ্টি করেছিল টাইডাল ওয়েভের যা পরবর্তীতে অ্যান্টেনা গ্যালাক্সীর টাইডাল টেইল (tidal tail) তৈরিতে সাহায্য করে। 

আমাদের ছায়াপথ অর্থাত আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি যখন আমাদের প্রতিবেশী গ্যালাক্সি অ্যান্ড্রমিডার সাথে কয়েক বিলিয়ন বর্ষ পর মিশে এক হয়ে যাবে তখন কিভাবে এদুটি ছায়াপথের নক্ষত্রে নক্ষত্রে ইন্টাঅ্যাকশানে টাইডাল টেইল তৈরি হবে তার ধারণা বিজ্ঞানীরা এ ছবি থেকে পাবেন।

তথ্য সূত্র নাসা

8 comments:

  1. ২১শে মে ২০০৮ নেমেসিস বলেছেন: +
    স্বাগতম ।
    বেশ চমৎকার এবং ভিন্নস্বাদের একটি বিষয় নিয়ে ব্লগ জীবন শুরু করলেন । এমনটাই চাই । আরও এ জাতীয় পোস্ট আশা করি পাবো । ধন্যবাদ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ২২ শে মে ২০০৮ ধন্যবাদ নেমেসিস। আবারো লিখব।

      Delete
  2. ২২শে মে ২০০৮ মোহাইমেন বলেছেন: দারুন!!! + দিলাম, প্রিয়তে তুলে রাখলাম । আরো লেখা চাই।

    ReplyDelete
    Replies
    1. অনেক ধন্যবাদ । আপনি কি SLAC এ ছিলেন?

      Delete
  3. ২৪ শে মে ২০০৮ প্রণব আচার্য্য বলেছেন: আমি মনে হয় এখানে একটা কমেন্ট করেছিলাম!
    মুছে গেছে নাকি মুছে ফেলেছেন বুঝতে পারছিনা?
    সরি সরি, আমি তো আপনার পরবর্তি পোষ্টে কমেন্ট করেছিলাম! আমারই ভুল। আমি ভেবেছিলাম এইটাতে বোধ হয় করেছিলাম;

    ReplyDelete
  4. ২৫শে মে ২০০৮ উধাও ভাবুক বলেছেন: +++

    ReplyDelete
  5. ১১ই জানুয়ারি ২০১১ বিহঙ্গ বলেছেন: পড়ে খুবই ভালো লাগলো। +

    ReplyDelete
    Replies
    1. ১৮ই জানুয়ারি ২০১১ অনেক ধন্যবাদ।

      Delete

ব্লগে আমার ১৮ বছর পূর্তি

এমনি একদিন  ২০০৭ । অনলাইন   একটি ই- ম্যাগাজিন সম্পাদনার কাজ করি। অবনী অনার্য  পাকা লেখক। তার থেকে লেখা নিয়ে আমার ই- ম্যাগাজিন সমৃদ্ধ। যার  হ...