নতুন বছরে সবার জন্য রইলো আন্তরিক শুভেচ্ছা - শুভ নববর্ষ
হঠাৎ দৃশ্যমান ধূমকেতু সোয়ান
রাতের আকাশে হঠাৎ দৃশ্যমান হয়েছে সবুজ ধূমকেত -সোয়ান। খবর ২৪ শে অক্টোবর ২০০৬. ধূমকেতু সোয়ানের মনোহরণকারি এ ছবিটি তুলেছেন পিট লরেন্স ২০০৬ এর ২৪ তারিখে ওয়েস্ট সাসেক্স ইউ.কে. থেকে। ওনার ভাষ্যমতে, ‘ধূমকেতু সোয়ান আরো উজ্জ্বলতর হয়ে ৪.৫ ম্যাগনেটিউড সম্পন্ন হয়েছে। খালি চোখে দেখবার মতন অবস্থায় রয়েছে।'
https://www.spaceweather.com/comets/comet-swan/25oct06/lawrence1.jpg
দ্বিতীয় ছবিটি ধারণ করেছেন Christoph Rollwagen ব্র্যান্ডেনবার্গ জার্মানি থেকে ২৫ শে অক্টোবর ২০০৬ এ। তার ভাষ্যমতে ‘প্রথমবারেই ধূমকেতুটি দেখা যাচ্ছে । হঠাৎ করেই যেন জ্বলে উঠেছে রাতের আকাশে।
https://www.spaceweather.com/comets/comet-swan/25oct06/Rollwagen1.jpg
সৌরমন্ডল গঠিত হবার পর পড়ে থাকা জমাটকৃত গ্যাস পিন্ডগুলো হলো ধূমকেতু। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করলেও ওদের কক্ষপথ বিস্তৃত নেপচুন ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত। সূর্যের কাছাকাছি এলেই এই জমাটবদ্ধ ধূলিকণা গলতে শুরু করে। তখন সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয় এমন রূপে যে লম্বাকার পুচ্ছ আর গোলাকার মাথা বিশিষ্ট দূরন্ত গতিতে ছুটে চলা ধূমকেতু উজ্জ্বল হয়ে দেখা দেয়। সোয়ান আবিষ্কৃত হয় ২০০৫ এ। পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়েছিল ২৪ শে অক্টোবর ২০০৬ এ। কেউ জানে না আমাদের রাতের আকাশে আবার কবে ফিরে আসবে সে।
সূত্রঃ space.com
উত্তপ্ত জুপিটর
শৈল্পিক নিদর্শন শিল্পীর তুলির আঁচড়ে সৃষ্ট। কিন্তু সে শিল্পী যদি হন স্রষ্টা নিজে তাহলে অনুসন্ধিৎসু মহলে আলোড্রোন পড়ে যায় সে শিল্পকর্মের ব্যাখ্যা পেতে। প্রদত্ত আঁকা ছবিটি কোন একজন শিল্পীর, যিনি হাবল স্পেস টেলিস্কোপ থেকে আনা তথ্যের ভিত্তিতে এঁকেছেন স্রষ্টার মহাজাগতিক সৃষ্টির কিছু অংশ। ছবিটি উত্তপ্ত স্তূপিটর HD2094586 নর, যে কিনা তার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলছে সর্বক্ষণ ৮ মিলিয়ন মাইল দূর দিয়ে। অর্থাৎ আমাদের সৌরজগতের সূর্য হতে বুধ গ্রহের যে দূরত্ব তারও কম দূর দিয়ে HD209458b এর নিজস্ব আবহাওয়া মন্ডল বারবার বাম্পায়িত হয়ে উঠছে তার নিজের সূর্যের উত্তাপে। নভোমন্ডলের আকাশে উদ্গীরণ করছে উত্তপ্ত গ্যাস।
গ্রহটির ছবি সরাসরি তোলার জন্য হাবল স্পেস টেলিস্কোপ উত্তপ্ত এই গ্রহটির কাছে পৌঁছুতে পারেনি। যে নক্ষত্রটিকে সে পরিভ্রমণ করে চলছে তার থেকে বিকিরিত আলোর ছটা গ্রহটির আবহমণ্ডল ভেদ করে হাবল স্পেস টেলিস্কোপে এসে পড়ছে। সেই রশ্মি হতে প্রাপ্ত তথ্য চিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা গ্রহটির বৈশিষ্ট্য জানতে সক্ষম হয়েছেন। গ্রহটির আবহমণ্ডল পরতে পরতে বিশ্লেষণ করতে সচেষ্ট হয়েছেন তারা। আবহমণ্ডলের উত্তপ্ত হাইড্রোজেন গ্যাস নভোমন্ডলে ছড়িয়ে পুচ্ছসদৃশ গ্যাসীয় পুঞ্জের সৃষ্টি করেছে। উপস্থিত করেছে হঠাৎ এক ধূমকেতুর। আবহাওয়া মন্ডলের তাপমাত্রা ১৩৪০ ডিগ্রী ফারেনহাইট হতে শুরু করে পরতে পরতে বৃদ্ধি পেয়ে ২৫৪০ ডিগ্রী ফারেনহাইট হয়ে যায় যা কিনা আমাদের সূর্যের থেকেও উত্তপ্ত। এ উচ্চ তাপমাত্রায় এক সময়ে গ্রহটির পুরো আবহমণ্ডল বিলীন হয়ে যাবে। গ্রহটি থেকে প্রতি সেকেন্ডে দশ হাজার টন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে নভোমন্ডলে। (নায়াগ্রা জলপ্রপাতে প্রতি সেকেন্ডে এর তিন ভাগের এক ভাগ জল প্রবাহিত হয়। গ্রহটি যে তার ফলে শেষ হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়, আরো ৫ বিলিয়ন বছর এর আয়ু আছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন।
গ্রহটি আকারে আমাদের সৌরজগতে অবস্থিত বৃহস্পতি গ্রহের ১.৩ গুন। ৩.৫ দিনে গ্রহটি তার কক্ষপথ ভ্রমণ সম্পন্ন করে। আমাদের সৌরজগতের বৃহস্পত্তি যদি সূর্যের আরো নিকটে থাকতো তারও একই দশা হতো। তাই HD209458b গ্রহটির নাম দেয়া হয়েছে উত্তপ্ত জুপিটর। এর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও নভোমন্ডলে বিচরণ করতে দেখা যায়। আমাদের সৌরজগতের বাইরে ২০০টি গ্রহের মাঝে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ গ্ৰহ উত্তপ্ত (হট) স্থপিটরের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ১৬ টি হট জুপিটরের খবর সংগ্রহ করেছে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। অত্যাধিক গ্যাসে পরিপূর্ণ লক্ষাধিক বিশালাকার নক্ষত্রই এরকম উত্তপ্ত আবহমণ্ডল সম্পন্ন গ্রহ সৃষ্টিতে দায়ী। এই ছায়াপথেই তাদের বসবাস। তবে হট জুপিটর আমাদের হতে ১৫০ আলোকবর্ষ দূরে পেগাসাস নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত। গ্রহটির আবহমণ্ডলে অক্সিজেন, কার্বন,সোডিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। গ্রহটি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা কারণ আমাদের সৌরজগতের বাইরে অবস্থিত এটিই সবচেয়ে নিকটস্থ গ্রহ যার রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে ব্যাপক বিশ্লেষণ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। নাসার Spitzer স্পেস টেলিস্কোপ গ্রহটির আবহমণ্ডলের ইনফ্রারেড রশ্মি পর্যবেক্ষণ করেছে।
সূত্রঃ নাসা, হাবল্ স্পেস টেলিস্কোপ
মঙ্গলপৃষ্ঠে ফিনিক্সের অবতরণ
আলোর গতিতে ধাবমান ফিনিক্সের সংকেত ধ্বনি মঙ্গল হতে পৃথিবীতে আসতে সময় নিয়েছে ১৫ মিনিট। সংকেতে সে জানিয়েছে মঙ্গলপৃষ্ঠের উত্তর মেরু অঞ্চলে তার অবতরণ ঠিকঠাকই হয়েছে। পাঠিয়েছে মঙ্গল পৃষ্ঠের ছবি। ফিনিক্স একটি অতি জটিল উচ্চমান সম্পন্ন আধুনিক রোবোট। ৯ মাস ভ্রমণের পর ৪২০ মিলিয়ন মাইল অর্থাত ৬৭৬ মিলিয়ন কি. মি. পাড়ি দিয়ে ফিনিক্স অবতরণ করে শীতল মরুময় মঙ্গল পৃষ্ঠে। খুব আলতোভাবে অবতরণই ছিল ফিনিক্সের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ যা সে সঠিকভাবেই সম্পাদন করতে পেরেছে। তিনমাস পর মঙ্গলগ্রহে শীতকাল ঘনিয়ে আসবে। মেরুঅঞ্চল থেকে সূর্য চলে যাবে দিগন্তের নীচে। বরফ আর কার্বন ডাই অক্সাইডের পুরু আস্তরনে ছেয়ে যাবে মঙ্গলের উত্তর মেরু, সাথে সাথে ফিনিক্সের সমগ্র দেহ। জীবনাবসান ঘটবে ফিনিক্সের। তাই শীত আসবার আগেই সে সম্পাদন করে নেবে তার সকল দায়িত্ব।
১৯৭০সালে নাসা নির্মিত ভাইকিং প্রোব মঙ্গলের মাটি পর্যবেক্ষণ করেছিল। জলের উপস্থিতি তাতে অনুপস্থিত ছিল। এখন ফিনিক্স তার ৮ ফুট দীর্ঘ রোবোটিক হাত দিয়ে কয়েক ফুট মাটি খুড়ে কিছু উপাদান সংগ্রহ করে তার অভ্যন্তরস্থ চুল্লীতে ১৮০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট অর্থাত ১৮০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে উত্তপ্ত করে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাবে, সে দেখবে এতে প্রাণ ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব রাসায়নিক উপাদান ও খনিজ আছে কি না। তারপর ফিনিক্স এই তথ্যটি পাঠিয়ে দেবে পৃথিবীতে। যদিও মঙ্গল গ্রহে অবতরণের ৫ দিন পর হতে ফিনিক্সের অভ্যন্তরস্থ চুল্লীতে শর্ট সার্কিট জনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে । যে যন্ত্রাংশে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে তার নাম TEGA বা Thermal and Evolved Gas Analyzer। কিন্তু বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে তারা এ সকল সমস্যা এবার অন্তত সমাধা করতে পারবেন।
সূত্রঃ
http://www.nasa.gov/phoenix এবং https://lpl.arizona.edu/missions/phoenix
আলোকিত কন্ঠহার
চিত্রটি হাব্ল স্পেস টেলিস্কোপ থেকে সংগৃহীত নভোমন্ডলের উজ্জ্বলতম নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণের চিত্র। যদি কিনা ১০০ মিলিয়ন সূর্য কয়েকমাস ধরে বিস্ফারিত হতে থাকে তাহলে যে প্রচন্ড আলোক আভা উৎপন্ন হবে তারই চিত্র হাব্ল স্পেস টেলিস্কোপ প্রথম ধারণ করেছিল ১৯৮৭ সালে। এর নামকরণ হয়েছিল SN1987A , যা বিশ্লেষণ করলে সহজেই বুঝা যায়, SN = supernova, 1987 A, A = first.
গত চারশত বছরের মাঝে এ ধরণের উজ্জ্বল বিস্ফারণ আর দেখা যায়নি। নক্ষত্রটি ১৬৩,০০০ আলোকবর্ষ দূরে Large Magellanic Cloud নামক ছায়াপথে অবস্থিত। হিসাব করলে দেখা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ১৬১,০০০ বছর পূর্বে এই নক্ষত্রটির বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যার আলোক রশ্মি এতটা পথ বেয়ে হাব্ল স্পেস টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে। কোন অতিকায় নব নক্ষত্র বা সুপারনোভা, বিস্ফোরণের পর মহাকাশে ছড়িয়ে দেয় আয়রন ও কার্বনের উপাদানসমূহ, যা দিয়ে পরবর্তীতে তৈরি হতে পারে নতুন নতুন নক্ষত্র,নতুন কোন ছায়াপথ এমনকি মানব প্রজাতির রক্তকণিকার উপাদান সমূহ। SN1987A নব নক্ষত্রটি বিস্ফোরণের সময় ২০ হাজার পৃথিবীর ভরের সমান ভর সম্পন্ন আয়রন উপাদান মহাকাশে নিক্ষিপ্ত করেছিল। নক্ষত্রের ছিন্ন অংশগুলো তাদের কেন্দ্রস্থ তেজস্ক্রিয় Titanium এর কারণে এখনও আলো ও তাপ বিকিরণ করে যাচ্ছে।
হাবল্ চিত্র পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা সুপারনোভা সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরেছেন। চিত্রে দেখা গেছে সুপারনোভার পাশে প্রায় এক আলোকবর্ষ ব্যাসের রক্তিমাভ বলয়, যা কিনা বিস্ফোরণের বিশ হাজার বছর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। এক্স রে রশ্মির বিকিরণ, বলয়টির অভ্যন্তরস্থ গ্যাসীয় উপাদানসমূহকে আরো শক্তিশালী করেছে। কেন্দ্রের গঠন অনেকটা ডাম্বেল আকারের, দৈর্ঘ্যে এক আলোকবর্ষের এক দশমাংশ। কেন্দ্রের গোলাকার পিন্ডসদৃশ বস্তু একে অপর হতে ছুটে বেড়াচ্ছে ঘন্টায় বিশ মিলিয়ন মাইল বেগে।
রক্তিমাভ বলয় নভোমন্ডলে তৈরী করেছে মুক্তা সদৃশ কন্ঠহার। হার্ভার্ড স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাসট্রোফিজিক্স ইন ক্যামব্রিজ, ম্যাসাচুসেটসে গবেষণারত বিজ্ঞানী Robert Krishner এর মতে আলোক আভায় সজ্জিত বলয় নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণের ইঙ্গিত বহন করে, যার দীপ্তি মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে পাড়ি দিয়েছে অনেক পথ। লক্ষ আলোকবর্ষ দূর হতে ধাবমান এই আলোকময় বিচ্ছুরণ ধরা পড়েছে আমাদের স্পেস টেলিস্কোপের পর্দায়। দৃশ্যমান হয়েছে আলোকিত কন্ঠহার রূপে।
ইউটিউব লিঙ্ক http://www.youtube.com/watch?v=yTTGVzqbypI
সূত্রঃ হাবল্ স্পেস টেলিস্কোপ, নাসা
অ্যান্টেনা গ্যালাক্সী
নাসার হাব্ল স্পেস টেলিস্কোপ হতে গৃহীত এই ছবিটি অ্যান্টেনা গ্যালাক্সীর ছবি। সংবাদটির প্রকাশ কাল ১৬ই অক্টোবর ২০০৬. নিউ জেনারেল ক্যাটালগ (NGC) অনুযায়ী এই ছায়াপথটির নম্বর NGC 4038-4039 .
দুটি সর্পিলাকার ছায়াপথ বা স্পাইরাল গ্যালাক্সীর একত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় আজ হয়ে কয়েকশত মিলিয়ন বছর আগে। ছায়াপথ দুটির সংর্ষের শুরুর দিকে তৈরী হচ্ছিল অগণিত নক্ষত্ররাজি। তারই ফলশ্রুতিতে হাবল্ স্পেস টেলিস্কোপ সবচেয়ে নিকিটবর্তী যে ছবিটি আমাদের উপহার দিয়েছে তাই-ই NGC 4038-4039 বা অ্যান্টেনা গ্যালাক্সী। অ্যান্টেনার মতন দীর্ঘ লম্বাটে আকার বলেই এই ছায়াপথের এইরূপ নামকরণ।
গ্যালাক্সী দুটির মিলে যাওয়ার সময় গুচ্ছ গুচ্ছ নক্ষত্ররাজি তৈরী করেছিল নক্ষত্রগুচ্ছ বা স্টার ক্লাস্টার। এই প্রাপ্ত ছবিটির ডান এবং বাঁ দিকে দুটি কমলা রঙের গোলাকার পিন্ড হল মূল ছায়াপথ দুটির কেন্দ্র বা core. ছবিতে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে মেটে রঙের কসমিক ডাস্ট এবং ফিলামেন্ট দ্বারা মূল ছায়াপথ দুটির অপেক্ষাকৃত বর্ষীয়ান তারকাগুলো ছেয়ে আছে। তাই মেটে আর কমলা রঙ কাছাকাছি হয়ে মিশে আছে। ছবিটিতে হাল্কা নীলাভ অংশে রয়েছে সদ্য তৈরী হওয়া নবীন তারকারাজি। হাইড্রোজেন গ্যাসপিন্ড দিয়ে মুড়ানো এই অঞ্চলটি যেন উত্তাপ বিকিরণে গোলাপী রঙের আভায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। এই ছবিটি থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সহজেই নক্ষত্র ও নক্ষত্রগুচ্ছ কে আলাদা করতে পারবেন। Age dating পদ্ধতির মাধ্যমে তারা দেখেছেন সদ্য তৈরি হওয়া নক্ষত্রগুচ্ছের দশ শতাংশ শুধুমাত্র টিকে থাকবে প্রথম দশ মিলিয়ন বছরের কিছু অধিক সময় আর বাকীরা গুচ্ছবদ্ধ না থেকে বিচরণ করবে এই বিশাল ছায়াপথের মঝে। বিশালাকায় নক্ষত্রগুলো সুসংবদ্ধ হয়ে গঠন করবে গ্লোবিউলার ক্লাস্টার। এটি নক্ষত্ররাজির এমন একটি ক্লাস্টার যা কিনা দশ হাজার থেকে এক মিলিয়ন নক্ষত্রের সমন্বয়ে ১০-২০০ আলোকবর্ষ ব্যাস সমৃদ্ধ স্থান জুড়ে ছায়াপথে অবস্থান করে।
আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ মিল্কিওয়েতে এরকম গ্লোবিউলার ক্লাস্টারের অস্তিত্ব রয়েছে। অ্যান্টেনা গ্যালাক্সীর এই ছবিতে মূল ছায়াপথ দুটির স্ব স্ব কেন্দ্রস্থল অর্থাত নিউক্লিয়াস থেকে অ্যান্টেনা সদৃশ লম্বা দীর্ঘায়িত অংশটুকু অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। গ্রাউন্ড বেইসড টেলিস্কোপ দিয়েও ছায়াপথের এই অ্যান্টেনা সদৃশ অংশবিশেষ ভাল মতন পর্যবেক্ষণ করা যায়। ২০০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে যখন এ দুটো গ্যালাক্সি পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল তখন সমুদ্রের জোয়ারের মতন মহাকাশেও জোয়ারের সৃষ্টি হয়েছিল যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলে টাইডাল ওয়েভ। সমুদ্রের বিন্দু বিন্দু জলের সমাহার যেমন জোয়ার সৃষ্টি করে অতটা তেমন নয় বরং দুটি গ্যালাক্সির অসংখ্য বিন্দু বন্দু নক্ষত্র তাদের একত্রীকরনের সময় সৃষ্টি করেছিল টাইডাল ওয়েভের যা পরবর্তীতে অ্যান্টেনা গ্যালাক্সীর টাইডাল টেইল (tidal tail) তৈরিতে সাহায্য করে।
আমাদের ছায়াপথ অর্থাত আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি যখন আমাদের প্রতিবেশী গ্যালাক্সি অ্যান্ড্রমিডার সাথে কয়েক বিলিয়ন বর্ষ পর মিশে এক হয়ে যাবে তখন কিভাবে এদুটি ছায়াপথের নক্ষত্রে নক্ষত্রে ইন্টাঅ্যাকশানে টাইডাল টেইল তৈরি হবে তার ধারণা বিজ্ঞানীরা এ ছবি থেকে পাবেন।
তথ্য সূত্র নাসা
এখনি সময়
তোমাকে যেতে হবে। এখনই। চমকে তাকালো ঊর্জা সামনের দিকে। গভীর মনোযোগ দিয়ে কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল। গুরু গম্ভীর এ আদেশ যেন ...
-
ধূসর সাহারা মরুভূমির পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত একটি দেশ নাইজার। নাইজারের দক্ষিণে মালি নামক এক মালভূমিতে বাস করে ডোগন (Dogon) নামক এক জাতিগোষ্ঠী...
-
সৃষ্টিই ছন্দ। সৃষ্টিই চেতনা । চেতনার রূপান্তরেই সৃষ্টি । সৃষ্টি চেতনার রূপান্তর মাত্র । ‘সৃষ্টি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়; বরং এক নিরবচ্ছিন্ন র...





