সময়টা ১৭৭৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর। জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোহান বোড সন্ধান পেলেন বিবর্ণ ফ্যাকাশে দীর্ঘকায় এক ছায়াপথের। এ যেন নেবুলার প্রলেপ বুলানো। নাম M82. অন্যান্য ছায়াপথের তুলনায় এখানে নক্ষত্র তৈরীর হার বর্তমানে কয়েকশত গুণ বেশী। এবং আরো দশ মিলিয়ন বছর ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে থাকবে বলে তারা ধারণা করেন। যেহেতু এখানে সব সময়ে জন্ম নিচ্ছে নতুন নতুন নক্ষত্র, তাই এই ছায়াপথের অপর নাম স্টারবার্স্ট গ্যালাক্সী। ইতিমধ্যে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এই ছায়াপথে তৈরী হওয়া ১০০ টি গ্লোবিউলার ক্লাস্টারের সন্ধান দিয়েছে যারা বয়সের দিক দিয়ে একেবারেই নবীন।নক্ষত্র উৎপাদনের অবিরাম কারখানা বলে খ্যাত এই ছায়াপথটি মহাশূন্যে সবচেয়ে উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক। ইনফ্রা রেড আলোক তরঙ্গও এই ছায়াপথটিকে সবচেয়ে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক বলে সন্ধান করেছে। তাই M82 গবেষণার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণেও সক্ষম হয়েছে সবচেয়ে বেশী।
আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সীর পর এই ছায়াপথটি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়েছে সর্বাধিক। ছায়াপথটি আমাদের থেকে ১২ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়েও একটু স্বতন্ত্র। সিগার বা চুরুট আকারের বলে এর অপর নাম সিগার গ্যালাক্সী। অনিয়তাকার এ ছায়াপথে সর্পিলাকার বাহু প্রায় অনুপস্থিত। ২০০৫ সালে ইনফ্রারেড চিত্র হতে মাত্র দুটো সর্পিলাকার বাহুর ন্যায় গঠন প্রতীয়মান হয়েছে যা ছায়াপথের মূল চাকতি হতে অধিক নীলাভ। জোরালো রেডিও তরঙ্গের উত্স হিসেবে এই ছায়াপথটি যেমন অনন্য তেমনি পোলারাইজড রশ্মি নির্গমনের দিক দিয়েও তুলনাহীন। তাই নিঃসন্দেহে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এখানে বিদ্যমান। ছবিতে আরো দেখা যাচ্ছে কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রী উষ্ণ গ্যাসীয় পুঞ্জ আর প্রজ্জ্বলিত শিখার উত্তসরণ যা কিনা কেন্দ্র হতে অব্যাহতভাবে নিঃসৃত হচ্ছে অক্ষের অভিলম্ব বরাবর।
সূত্রঃ ইন্টারনেট



