আলোকিত কন্ঠহার


 চিত্রটি হাব্‌ল স্পেস টেলিস্কোপ থেকে সংগৃহীত নভোমন্ডলের উজ্জ্বলতম নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণের চিত্র। যদি কিনা ১০০ মিলিয়ন সূর্য কয়েকমাস ধরে বিস্ফারিত হতে থাকে তাহলে যে প্রচন্ড আলোক আভা উৎপন্ন হবে তারই চিত্র হাব্‌ল স্পেস টেলিস্কোপ প্রথম ধারণ করেছিল ১৯৮৭ সালে। এর নামকরণ হয়েছিল  SN1987A , যা বিশ্লেষণ করলে সহজেই বুঝা যায়,  SN = supernova, 1987 A, A = first.

গত চারশত বছরের মাঝে এ ধরণের উজ্জ্বল বিস্ফারণ আর দেখা যায়নি। নক্ষত্রটি ১৬৩,০০০ আলোকবর্ষ দূরে Large Magellanic Cloud নামক ছায়াপথে অবস্থিত। হিসাব করলে দেখা যায়,  খ্রিস্টপূর্ব ১৬১,০০০ বছর পূর্বে এই নক্ষত্রটির বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যার আলোক রশ্মি এতটা পথ বেয়ে হাব্‌ল স্পেস টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে। কোন অতিকায় নব নক্ষত্র বা সুপারনোভা, বিস্ফোরণের পর মহাকাশে ছড়িয়ে দেয় আয়রন ও কার্বনের উপাদানসমূহ, যা দিয়ে পরবর্তীতে তৈরি হতে পারে নতুন নতুন নক্ষত্র,নতুন কোন ছায়াপথ এমনকি মানব প্রজাতির রক্তকণিকার উপাদান সমূহ। SN1987A  নব নক্ষত্রটি বিস্ফোরণের সময় ২০ হাজার পৃথিবীর ভরের সমান ভর সম্পন্ন আয়রন উপাদান মহাকাশে নিক্ষিপ্ত করেছিল। নক্ষত্রের ছিন্ন অংশগুলো তাদের কেন্দ্রস্থ তেজস্ক্রিয় Titanium এর কারণে এখনও আলো ও তাপ বিকিরণ করে যাচ্ছে।

হাবল্‌ চিত্র পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা সুপারনোভা সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরেছেন। চিত্রে দেখা গেছে সুপারনোভার পাশে প্রায় এক আলোকবর্ষ ব্যাসের রক্তিমাভ বলয়, যা কিনা বিস্ফোরণের বিশ হাজার বছর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। এক্স রে রশ্মির বিকিরণ, বলয়টির অভ্যন্তরস্থ গ্যাসীয় উপাদানসমূহকে আরো শক্তিশালী করেছে। কেন্দ্রের গঠন অনেকটা ডাম্বেল আকারের, দৈর্ঘ্যে এক আলোকবর্ষের এক দশমাংশ। কেন্দ্রের গোলাকার পিন্ডসদৃশ বস্তু একে অপর হতে ছুটে বেড়াচ্ছে ঘন্টায় বিশ মিলিয়ন মাইল বেগে।

রক্তিমাভ বলয় নভোমন্ডলে তৈরী করেছে মুক্তা সদৃশ কন্ঠহার। হার্ভার্ড স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাসট্রোফিজিক্স ইন ক্যামব্রিজ, ম্যাসাচুসেটসে গবেষণারত বিজ্ঞানী Robert Krishner এর মতে আলোক আভায় সজ্জিত বলয় নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণের ইঙ্গিত বহন করে, যার দীপ্তি মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে পাড়ি দিয়েছে অনেক পথ। লক্ষ আলোকবর্ষ দূর হতে ধাবমান এই আলোকময় বিচ্ছুরণ ধরা পড়েছে আমাদের স্পেস টেলিস্কোপের পর্দায়। দৃশ্যমান হয়েছে আলোকিত কন্ঠহার রূপে।

ইউটিউব লিঙ্ক http://www.youtube.com/watch?v=yTTGVzqbypI 

সূত্রঃ হাবল্‌ স্পেস টেলিস্কোপ, নাসা

25 comments:

  1. ২২শে মে ২০০৮ মুহিব বলেছেন: বিজ্ঞেনে গ্রেস দিয়ে পাশ করছিলাম

    ReplyDelete
    Replies
    1. ২৩শে মে ২০০৮ কেন ? অসুস্থ ছিলেন?

      Delete
  2. ২২শে মে ২০০৮ মদন বলেছেন: দারুন তথ্য
    খুবই ভাল লাগলো

    ReplyDelete
    Replies
    1. ২৩ শে মে ২০০৮ ধন্যবাদ।

      Delete
  3. ২২শে মে ২০০৮ সাঈফ শেরিফ বলেছেন: অনেক আগ্রহ নিয়ে শুরু করেছিলাম এস্ট্রোনমি এন্ড অ্যাসট্রোফিজিক্স এর অধ্যয়ন। বাংলাদেশ এস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের মহাকাশ বার্তার গ্রাহক ছিলাম। ইউ এস এর প্ল্যানেটারী সোসাইটির ম্যাগাজিনও পেতাম।রাত জেগে নক্ষত্র দর্শন ও খোজা।
    পরে দেখলাম ওটা শুধুই বড়লোকের বিলাসিতা। ক্ষুধা আর কষ্ট জর্জর মাটিতে দাড়িয়ে উপরে তাকানোর সুযোগ হয়না এখন।

    ReplyDelete
  4. ২৩শে মে ২০০৮ ধন্যবাদ সাঈফ।
    রিসার্চের মূলে দরকার টাকা । তা আমাদের নেই বলেই রিসার্চ নেই... শুধুই থেমে থাকা।

    ReplyDelete
  5. ২২শে মে ২০০৮ মহাজাগতিক বলেছেন: চমৎকৃত হলাম। তথ্যের সাথে শিল্পসুষমামন্ডিত সুপারনোভার টেলিস্কোপচিত্রটি দেখে। হাজার তারার মৃত্যু কেমন করে গড়ে তুলেছে একটি 'আলোকিত কন্ঠাহার'। 'নেকলেস অব লাইট' নাকি?
    -------
    অতিকায় নব নক্ষত্র বা সুপারনোভা, বিস্ফোরপণের পর মাহাকাশে ছড়িয়ে দেয় আয়রন, কার্বন উপাদানসমূহ যা দিয়ে তৈরি হয় নতুন নতুন নক্ষত্র, নতুন কোন ছায়াপথ এমনকি মানব প্রজাতির রক্তকণিকার উপাদান সমূহ।
    --------
    এসব ভাবলে তো মনে হয় মহাজগতের চলার পথটি যেন কোনো এক পরমার্থিক লক্ষ্যমুখী।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ২৩শে মে ২০০৮ আপনার লেখা খুব সুন্দর।

      Delete
  6. ২২শে মে ২০০৮ নেমেসিস বলেছেন: পোস্টে ছবি সুত্র দিলে আমরা হয়ত আরও বেশ কিছু ছবি দেখার সুযোগ পেতাম । নয়ত আপনি নিজেও বেশী বেশী ছবি উপস্থাপন করতে পারেন । বিষয়বস্তু আকর্ষনীয় হওয়ার ফলে ছবির চাহিদা বেড়ে যায় অটোমেটিক ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ২৩শে মে ২০০৮ নাসার ফ্রণ্ট পেইজের খবরগুলো সবসময় আপডেট হয় এবং ওরা লিংক সরক্ষণ করে না। তাই পুরনো টপিক ফ্রন্ট পেইজ থেকে চলে গেলে তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য তথ্যসূত্র হিসেবে নাসা উলেখ করি। আমি নাসা ছাড়া অন্য একটি লিংক পেলাম। দেখবেন প্লিজ । আমি আরো ছবি সংযুক্ত করে দিয়েছি। ধন্যবাদ আপনাকে।

      Delete
  7. ২২শে মে ২০০৮ তারিক টুকু বলেছেন: আজই আপনাকে ব্লগে দেখলাম। ব্লগে স্বাগতম।
    কেমন আছেন?

    ReplyDelete
    Replies
    1. ২৩শে মে ২০০৮ ধন্যবাদ তারিক ভাই।
      ভাল আছি। কিছুদিন আগে প্রথম আলোতে আপনার একটি লেখা দেখেছি। লেখাটি আপনার ব্লগে দিলে আমি নিতে পারতাম।

      Delete
  8. ২২শে মে ২০০৮ প্রণব আচার্য্য বলেছেন: ভালা পোষ্ট;
    আমারা ব্লগে আপনার কমেন্ট দেখে আসলাম;
    আপনার তথ্যপূর্ণ পোষ্টটি ভালো লাগলো..
    আশা করি ভবিষ্যতেও এরকম পোষ্ট পাবো:
    আপনার ম্যাগাজিনটি দেখলাম: জন্য অনুমতি নামক বিষয়টি দেওয়া গেলো।
    ভালো থাকবেন।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ২৩শে মে ২০০৮ ধন্যবাদ প্রণবদা। আমি পাবলিশ করে আপনাকে লিংক পাঠিয়ে দেব। আপনার ব্লগে আপনার ইমেইল ঠিকানাটা কি রাখা যায়?

      Delete
    2. ২৫শে মে ২০০৮ প্রণব আচার্য্য বলেছেন: যায়;

      Delete
  9. ২৩শে মে ২০০৮ ফাহমিদুল হক বলেছেন: ব্লগে স্বাগতম। ভালো আছেন?

    ReplyDelete
    Replies
    1. ২৫শে মে ২০০৮ ধন্যবাদ ফাহমিদ ভাই। ভাল আছি।
      আমার ম্যাগাজিনে(Click This Link) আপনার লেখা --ভাষার আগুনে কয়েক ফোটা ঘি-- রচনাটি তে এ পর্যন্ত হিট পড়েছে ৯৮৬ বার। আপনাকে অভিনন্দন।

      Delete
  10. ২৪শে মে ২০০৮ কালপুরুষ বলেছেন: ভাল লাগলো।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ২৫শে মে ২০০৮ ধন্যবাদ আপনাকে।

      Delete
  11. ২৪ শে মে ২০০৮ মরিযাদ হারুন বলেছেন: ভালো লাগলো। আশা করি আরো পাবো।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ২৫শে মে ২০০৮ ধন্যবাদ আপনাকে।

      Delete
  12. ২৬শে মে ২০০৮ অভিক শাওন বলেছেন: ওবাই মংগলে কি নাকি গেছে-ওইটা নিয়া লেকেন না কিচু।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ৮ই জুলাই ২০১২ লিখেছি কিন্তু।

      Delete
  13. ২৭শে মে ২০০৮ মোহাইমেন বলেছেন: মদন বলেছেন: দারুন তথ্য
    খুবই ভাল লাগলো

    ReplyDelete
    Replies
    1. ৮ই জুলাই ২০১২ অনেক ধন্যবাদ।

      Delete

Reincarnation Cycle - Hindu and Buddhist samsara models

🌀 1. The Whole Diagram → Samsara (Cycle of Existence) The circular, repeating structure directly corresponds to Samsara : Continuous cycle ...