চরিত্রঃ
রমা (২৫ বছর)
সৌমেন (৪০ বছর)
দিপ্তী (বালিকা ৫ বছর)
আবৃত্তিকার (কন্ঠ শুধু)
প্রথম দৃশ্য
অলস দুপুর । চারিধিক নিস্তব্ধ । কড়া রোদ বাইরে। টানা বারান্দা। সময় দুপুর ২টা বা ৩ টা। বারান্দার কোণে একটা হেলান দেয়া বেতের চেয়ার। আরেকটি ছোট আকারের ডাবল্ সোফা। সোফার পাশে ছোট টেবিল। পত্রিকা রাখা ওতে। একটা সেন্টার টেবিল। ফুলদানিতে ফুল সাজানো। হাতের এমব্রয়ড্রিবা ক্রুশের কাজের ম্যাট রাখা ফুলদানীর নিচে।
দ্বিতীয় দৃশ্য
একটি ঘর থেকে দেখা যাচ্ছে রমা বসে আছে বারান্দায়। সেলাই করছে। কি সেলাই করছে না। কিন্তু বেশ মনযোগের সাথে সেলাই করছে। ঘরটি একটি স্টাডি রুম। বইয়ের শেলফ্ গোটা তিনেক। বই ভরা। পড়ার টেবিলে কম্পিউটার মনিটর আছে । ঘরের দেয়ালে রবি ঠাকুরের মাঝারি আকারের পোর্ট্রেট ।
পোশাক
তাঁতের ইস্ত্রি করা শাড়ী পড়া, হাল্কা এক রঙের। মাঝারি পার । রমা মাঝারি উচ্চতার মেয়ে, লম্বা নয়। শাড়ীর পাড়ে ডিজাইন আছে। শাড়ী পার্ট করে পরা নয়, একটু অগোছালো করে পরা।
সাজ
চুল খোঁপা করা। খোঁপায় ফুলের মালা জড়ানো থাকতে পারে। ছোখে কাজল নয়, মাস্কারা থাকবে।
তৃতীয় দৃশ্য
সৌমেন এসে রমার কাছে দাঁড়ালো। রমাকে দেখছে। এবার রমাকে বিস্তারিত ভাবে দেখানো আর ধ্বনিত কন্ঠে আবৃত্তি ।
কন্ঠ (আবৃত্তি )
দুপুর বেল বসে নিজের ঘরে
ফাঁকা বাড়ী নির্জনতায় ভরা
শব্দ শুধু বাথরুমে ফোঁটা ঝরে'
তৃতীয় দৃশ্য (চলবে)
রমাকে বিস্তারিত দেখানো। নিচ থেকে শুরু। শাড়ীর কুঁচিগুলো একের পর এক সাজানো পায়ের কাছে। ধীরে ধীরে ক্যামেরা উঠবে উপরে। কোলের কাছে এসে ক্যামেরা থামবে। কোলে একটা শার্ট, সাদা রঙের। শার্টে বোতাম লাগাচ্ছে রমা।
সৌমেনের কন্ঠ শুধু : রমা
চমকে উঠলো রমা। তাকালো মুখ তুলে, তার সামনে দাঁড়ানো ব্যাক্তিটির দিকে। দর্শক, রমার চমকে এবং অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকার expression দেখল।
সৌমেনের কন্ঠ শুধু ঃ কি করছো রমা?
দৃশ্য - ৪
দর্শক এবার সৌমেনকে দেখবে সামনা সামনি।
রমার পাশ দিয়ে সাইড টেবিলের সামনে সৌমেন রমার দিক করে দাঁড়ানো। আপাদমস্তক সৌমেনকে দেখানো হবে প্রথমে । চল্লিশ বছরের মাঝারি স্বাস্থ্য, লম্বা, চোখে পুরু চশমা। গম্ভীর কিন্তু স্নেহময় কন্ঠের অধিকারী। রমার দিকে তার দৃষ্টিতে আবেগ। হঠাৎ এসে রমাকে চমকে দিয়ে বেশ মজা পাচ্ছে। হাত দুটো পিছনে, একটু ঝুঁকে দাঁড়ানো।
কন্ঠ রমাঃ কই, কিছু না তো।
কন্ঠ সৌমেনঃ কিছু না। (বিরতি) সত্যি ?
রমাঃ হ্যা (অবাক হবার সুরে)
সৌমেনঃ কিভাবে?
হঠাৎ করে হেসে ফেলল রমা। দৃশ্যটি খুব উপভোগ্য হতে হবে দর্শকদের কাছে। এখানে দর্শকদের ভালো লেগে যাবে রমাকে। এখন রমা আর সেলাই করছে না। শার্টটা কোলের উপর ফেলা।
কন্ঠ রমাঃ নাহ্ ! মানে কি আর করবো। একটু সেলাই (বিরিতি) তোমার শার্টটা । (বিরিতি) বোতামটা লাগাচ্ছিলাম।
কন্ঠ সৌমেনঃ আর?
রমাঃআর কিছু না।
সৌমেনঃকিছু ভাবছিলে না?
আবার রমার হাসির ঝলক।
রমাঃ(চিন্তিত স্বরে ) ম্... জানি না (মাথা অবনত, লাজুক বিনম্র )
সৌমেনঃ আমি জানি
রমা অবাক হয়ে মাথা তুলে তাকালো সৌমেনের দিকে।
রমাঃ(কন্ঠে বিস্ম য়) কি?
সৌমেনঃ যা ভাবছিলে তাই জানি।
রমাঃ কি বলতো?
সৌমেনঃ ভাবছিলে (বিরতি) আমি কখন ফিরব।
রমা সৌমেন দুজনেই হেসে ফেলল। (পাশ থেকে দেখান হবে দৃশ্যটি ) এক সাথে দুজনা দুজনের নাম ধরে ডেকে উঠলো। অবাকও হলো। তারপর দুজনে চুপ।
রমাঃকি বলছিলে, বল।
সৌমেনঃতুমি বল।
রমাঃসৌমেন তুমি বল।
শ্রোতা এবার প্রথম শুনবে সৌমেনের নামটি রমার কন্ঠে ।
সৌমেনঃ কিসের শব্দ ? টুপ টুপ
রমাঃ জল পড়ছে।
সৌমেন পাশে এসে বসলো রমাকে ঘেঁষে। হাত কোলের ওপর। রমার দিকে ঝুঁকে বলল,
সৌমেনঃ আর কোথাও জল পড়ছে না?
এ সবটুকু রমার দিক থেকে দেখান শেষ হলে সৌমেনের দিক থেকে রমাকে দেখানো হবে। রমা অবাক হয়ে সৌমেনের দিকে তাকাবে। রমার ক্ষণিক ক্ষণিক অবাক হয়ে যাওয়াটা দর্শকদের ভাল লাগাতে হবে।
রমাঃ নাহ্ তো। (বিরতি) আর কোথায় জল পড়বে?
সৌমেনঃ তোমার মনে। (কন্ঠে আবেগ)
রমা হেসে ফেলল, লজ্জা অবনত মুখ।
রমাঃ আমার মন?
সৌমেনঃ হ্যা তোমার মনে। আমি যে শুনতে পাচ্ছি। জল প্রপাতের শব্দ ।
রমার বিস্ময়ে সৌমেনের দিকে তাকিয়ে থাকা। যেন সৌমেন ঠিকই ধরে ফেলেছে। সৌমেনের মুখে হাসি।
দৃশ্য -৫
সময়টা সকাল ১১টা। রমা বসে আছে বারান্দায়। গালে হাত। চেয়ারের হাতলে ভর করে বসে আছে বেতের চেয়ারে। ভাবছে আনমনে। এটাও পাশ থেকে নেয়া।
পোশাক
হাল্কা এক রঙের তাঁতের শাড়ী। চুল খোলা।
কন্ঠ (বালিকা) ঃ মা
দৃশ্য -৬
রমা চোখ মেলে তাকালো পাঁচ বছরের মেয়েটির দিকে । রমার চোখ মেলে তাকানো দর্শক দেখবে। চোখের দৃষ্টি হতে হবে প্রশান্তিময় ও স্নেহভরা ।
সজ্জাঃ চোখের সজ্জা খুব সচেতন ভাবে করতে হবে। এবার কাজল থাকতে পারে, মাস্কারা অবশ্যই।
দৃশ্য -৭
রমা যার দিকে তাকালো এবার তাকে দেখান হবে। পাঁচ বছরের মেয়ে, ফ্রক পড়া । দুই বেণী বা দুই ঝুটি। এক বেণী বা এক ঝুটি নয়।
কন্ঠ (দিপ্তী ):মা (গলায় উৎসাহের ছোঁয়া), একটা জিনিস দেখবে ?
রমাঃ কি রে দিপ্তী
আঙ্গুল তুলে ঘরের কম্পিউটারের মনিটর দেখাল।
দিপ্তীঃ আমার আঁকা ছবি।
রমাঃ কখন আঁকলি রে মা, এ ছবি।
দিপ্তীঃ আজ সকালে, একটা গাছ। দূরে ঝলমলে রোদ্দুর ।
রমাঃ তোর্ ঘরজুড়েই যে রোদ্দুর ।
দৃশ্য -৮
রমা উঠে প্রবেশ করবে ঘরে। ঘর থাকে দেখান হবে। পাশে দিপ্তী । রমা কম্পিউটারের সামনে এসে দাঁড়াবে। দর্শকরা এবার স্ক্রিনে তার আঁকা ছবিটা দেখবে।
দৃশ্য - ৯
রমা মাথা ঘুরিয়ে জনালার দিকে তাকাবে। জানালা ঠিকরে পড়ছে রোদের আলো, সমটা সকাল। রমা জানালার কাছে এসে দাঁড়াবে। পাশ থেকে রমাকে পুরো দেখিয়ে মুখটা দেখান হবে। রমা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। আবৃত্তিকারের কন্ঠে ধ্বনিত হবে
কন্ঠ (আবৃত্তিকার)
জেগে উঠলো হাসি তোমার ঠোঁটে
গোটা ঘর জুড়ে রোদ্দুর ঝলমলে
দূর থেকে ছোঁড়া উষ্ণতা ফুটে উঠে'
দৃশ্য - ১০
সৌমেন এসে রমার কাছ ঘেঁষে রমার পিছনে এসে দাঁড়াবে। দর্শ ক তা দেখবে। সৌমেনের হাত প্যান্টের পকেটে।
দৃশ্য - ১১
রমার কানের কাছে মুখ নেবে সৌমেন, যা দর্শক দেখবে রমার সামনের কোণ থেকে। দর্শক দেখেবে সৌমেনের মুখ, রমার কানের কাছে।
সৌমেনঃ জানালাটা খুলে দিই।
দৃশ্য - ১২
রমা কাঁধ ফিরে সৌমেনকে দেখবে যা রমা সৌমেনের পাশ থেকে দেখান হবে।
সৌমেনঃ অরণ্য জুড়ে ফাগুনের আঁকা আঁকি (বিরতি)। মন কি বলছে জানো?
রমাঃ কি?
সৌমেনঃ সারা গায়ে আজ ঝলমলে রোদ মাখি
দৃশ্য - ১৩
রমা ঘুরে দাঁড়ালো সৌমেনের দিকে। মাথা অবনত।
দৃশ্য -১৪
দর্শক দেখবে সৌমেন তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রমার দিকে। প্রচন্ড আলোর ছটা দৃশ্যমান হবে। সৌমেন রমা আলোর ছটায় ধীরে ধীরে অদৃশ্য হতে থাকবে। আবৃত্তিকারের কন্ঠ ধ্বনিত হবে।
কন্ঠ (আবৃত্তিকারের )
অরণ্য জুড়ে ফাগুনের আকাআকি
মন কি বলছে জানালাটা খুলে দিয়ে
সারা গায়ে আজ (বিরিতি) ঝলমলে রোদ মাখি।'
মূল কবিতার শেষের লাইনটিতে প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে। ওভাবে নয় বরং প্রশান্তির ছোঁয়ায় শেষ লাইনটি উচ্চারিত হবে।
সমাপ্ত
............
মূল কবিতা
রোদ্দুর মাখি /রানা পাল
দুপুরবেলা বসে নিজের ঘরে
ফাঁকা বাড়ি নির্জনতায় ভরা
শব্দ শুধু বাথরুমে ফোঁটা ঝরে
দূর থেকে ছোঁড়া উষ্ণতা ফুটে ওঠে
হয়ত হঠাৎ পাশের ঘরে উঁকি
জেগে উঠল হাসি তোমার ঠোঁটে
গোটা ঘর জুড়ে রোদ্দুরে একাকার
অরণ্য জুড়ে ফাগুনের আঁকাআঁকি
মন কি বলছে, জানলাটা খুলে দিয়ে
সারা গায়ে আজ ঝলমলে রোদ মাখি?

No comments:
Post a Comment