ব্রাউন ডোয়ার্ফের সহচর

 

আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর মত সকল গ্রহই যে উজ্জ্বল একটি নক্ষত্রের চারিদিক প্রদক্ষিণ করে সৌরজগত তৈরী করবে সে রকম ধারণাকে বাতিল করে দিয়েছে ব্রাউন ডোয়ার্ফ 2M1207 ও তার নিত্য সহচর 2M1207b যে কিনা ব্রাউন ডোয়ার্ফটিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে ।

ব্রাউন ডোয়ার্ফ বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে আকাশের অনুজ্জ্বল একটি জ্যোতিষ্ক যা ইনফ্রারেড তরঙ্গই বিকিরণ করে। এদের ভর সূর্যের চেয়ে কম অথচ বৃহস্পতির চেয়ে বেশী হয়ে থাকে। আলোচ্য ব্রাউন ডোয়ার্ফ 2M1207 এর ভর হিসাব করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এটি ৪২গুন কম ভর সম্পন্ন আমাদের সূর্যের তুলনায় এবং ৫ গুন বেশী বৃহস্পতির তুলনায়। বয়সের দিক দিয়ে এ ৮ মিলিয়ন বছরের অধিক হবে না। তাপমাত্রা ১০০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। ২৩০ আলোকবর্ষ দূর দিয়ে এই বামন সদৃশ জ্যোতিষ্কটি দিব্যি অবস্থান করছে তার একটি সহচর নিয়ে যাকে বিজ্ঞানীরা গ্রহ বই অন্য কিছু বলতে নারাজ। আমাদের পৃথিবী আর সূর্য যতটুকু দূরে তার থেকে ৫৫ গুন দূরত্ব বজায় রেখে এই সহচরটি সদা প্রদক্ষিণ করে যাচ্ছে ব্রাউন ডোয়ার্ফ 2M1207 কে । আর তাই গ্রহটির কক্ষপথ আবর্তন কাল ২৪৫০ বছর।

আকাশের উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের জ্যোতিষ্কসমূহের তালিকা তৈরী করবার প্রয়াসে অ্যারিজোনার মাউন্ট হপকিন্সে এবং চিলিতে স্থাপন করা হয় ইনফ্রারেড ক্যামেরা সম্পন্ন দুটি দূরবীন। ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটস এর তত্ত্বাবধানে প্রজেক্টের কাজ চলে ১৯৯৭ জুন থেকে ২০০১ ফেব্রুয়ারি ১৫ পর্যন্ত। খরচ যদিও বহন করেছে নাসা। এই জরিপ ব্যবস্থার নাম দেয়া হয় Two Micron All Sky Working database বা ( 2MASSW) । এ জরিপে আকাশের ম্যাপ তৈরি করতে যে সকল জ্যোতিষ্কসমূহ তালিকা লিপিবদ্ধ করা হয় তাদের নামকরণের শুরুতে 2M এবং শেষের চারটি সংখ্যা, আকাশে জ্যোতিষ্কটির স্থানাংক নিরূপক -রাইট অ্যাসেন্সান এর ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। আলোচ্য ব্রাউন ডোয়ার্ফটির রাইট অ্যাসেন্সান ১২ ঘন্টা ৭ মিনিট ৩৩.৪ সেকেন্ড। এর ডিক্লাইনেশন ৩৯ ডিগ্রি ৩২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড। সে অনুসারে পুরো নাম দাঁড়ায় 2MASSW 1207334-393254 বা সংক্ষেপে 2M1207.

আমাদের সৌরজগতের বাইরের আরেকটি সৌরমন্ডলীয় গ্রহ হিসেবে এই জ্যোতিষ্কটির সহচর 2M1207b কে প্রথম আবিষ্কৃত এক্সোপ্ল্যানেট হিসেবে ধরা হয়।

আকাশের দক্ষিণ গোলার্ধের সেন্টাওরাস নক্ষত্রমন্ডলীতে অবস্থিত রক্তিমাভ জ্যোতিষ্কটি চিত্রে প্রতীয়মান হচ্ছে নীলাভ সাদা ব্রাউন ডোয়ার্ফের পাশে।

সূত্রঃ ইন্টারনেট, স্পেস ডট কম

২৯৩ বার পঠিত

ফাইল ট্রান্সফারঃ ১৭ই মার্চ, ২০২৬

10 comments:

  1. ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৩০

    আজম বলেছেন: ভালো লাগল.....আরেকটু বিস্তারিত লিখলে ভাল হত।

    ReplyDelete
  2. ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৪৮০

    শিবলী বলেছেন: সুন্দর তবে পরে মনে হয় ডিটেইলস আসবে

    ReplyDelete
  3. ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:২৮০

    হুমায়রা হারুন বলেছেন: তথ্য তেমন কিছু পেলাম না যদিও দু একটি লাইন সংযোজন করলাম।

    ReplyDelete
  4. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৮০

    শেরজা তপন বলেছেন: আমার প্রিয় একটা বিষয় নিয়ে লিখছেন আপনি- দারুন লিখে যান। সময় করে পড়ে মন্তব্য করব-

    ReplyDelete
  5. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:১০০

    সজল শর্মা বলেছেন: ধন্যবাদ। আবারও নতুন লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:২০১

      সজল শর্মা বলেছেন: Click This Link

      Delete
  6. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:৫০০

    ম্যাভেরিক বলেছেন: ভালো লাগল মহাকাশ ভ্রমণ, বরাবরের মতো।

    ReplyDelete
  7. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:১৪০

    প্রণব আচার্য্য বলেছেন: দুর্দান্ত...

    ReplyDelete
    Replies
    1. ২০ শে জুলাই, ২০১৭ ভোর ৪:০৪০

      লেখক বলেছেন: সবসময়ই (আপনার কাছে)

      Delete
  8. ৮. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:১৬০

    আহমদ ময়েজ বলেছেনঃ গাণিতিক বিষয়ে আমি নিজেকে খুবই অনুপযুক্ত ভাবি। তবু কেউ যখন এসব বিষয়ে শ্রম ব্যয় করেন তাদের প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে।

    রহস্যাবৃত পৃথিবীর সব কিছু উন্মুক্ত হলে কার না ভালো লাগে।

    ধন্যবাদ।

    ReplyDelete

Reincarnation Cycle - Hindu and Buddhist samsara models

🌀 1. The Whole Diagram → Samsara (Cycle of Existence) The circular, repeating structure directly corresponds to Samsara : Continuous cycle ...