কথোপকথন - ২

পূর্বকথাঃ

সাজু আর আমি ক্লাসরুমের সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে। গত কালের নৃত্যগীত  সন্ধ্যার আয়োজন নিয়ে কথা বলছিলাম।কথোপকথনের মূল বিষয়  নৃত্যগীতের আয়োজন নিয়ে নয়, বরং নৃত্য পরিবেশনকারী 'সুদর্শন পুরুষ' মালবিকা – কে নিয়ে। 

কথোপকথনঃ

-অসহ্য

-কি অসহ্য?

-ওর অঙ্গভঙ্গী।

-অঙ্গভঙ্গী বলছো কেন? এটা তো  নাচ।

- এটা কোন নাচ হলো? হাত পা ছুঁড়লেই নাচ হয়?

-আজকাল হয়। শুধু নাচই হয় না। উচ্চাংগ নৃত্যও হয়।মালবিকার সজাগোজ দেখ না? দরবারে নৃত্য পরিবেশনের সময়ে বাঈজীরা এমন পোশাকেই আসতো। 

-এখানে কোন দরবার হচ্ছে না কি?

- না তা হচ্ছে না। তবে নৃত্য পরিবেশনকারী মনে হয় তোমার মন ছুঁতে পারেনি। তোমার চোখে ওকে সুন্দরী  রমনী মনে হয়নি তাই না?

- রমনী? এই ছেলে কিভাবে রমনী হবে?

- আমার চোখে অবশ্য সে সুদর্শন পুরুষ।তাই আমার ভাল লেগেছে। তোমার ভাল লাগেনি কারণ তোমার দৃষ্টিতে সে 'সুদর্শনা' মানে সুদর্শন রমনী হতে পারে নি।

- একটা মানুষ একজনের চোখে পুরুষ আরেকজনের চোখে রমনী হবে কিভাবে?

- কিন্নর যারা, তার হো তাই-ই।নারী পুরুষ উভয় সত্তার বাস এক দেহে। যেমন মালবিকা।আমি তাকে পুরুষ রূপে দেখেছি তাতেই ভাল লেগে গেছে। তুমি তাকে নারী রূপে দেখতে পেলে বাদ বাকী কিছু খেয়ালেই আসতো না। তার অংগভঙ্গীকে কেরিকাচার মনে হতো না। নৃত্যে পরিবেশনকে ছন্দের তালে তালে শৈল্পিক উপস্থাপন  মনে হতো। আমার  কি মনে  হয় জানো? 

-কি মনে হয়?

-মালবিকা শতভাগ কিন্নর হয়ে উঠতে পারে নি। এখনো পুরুষালী ভাবটা অর্ধেকের বেশী রয়ে গেছে। সমান সমান নারী, পুরুষ হলে তোমার আর আমার কাছে সে 50/50 ব্যালেন্স হয়ে যেত।

- কিন্নররা তো প্রাচীন পুরাণ অনুসারে অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক দেবতা । তাই নয় কি? সেখানে তারা দেবতাদের জন্য সংগীত পরিবেশন করে। আমাদের ডাইমেনশানে এসে সেই মানুষেরও দুই ভাগ আছে - নারী ও পুরুষ। বেশ জটিল ক্রোমোজম-বিভাজন এবং এর সজ্জা। আর দেবতাদের  ক্রোমোজমের সজ্জা তো জানি-ই না। ঐটুকু তো একদম অজানা। 

-হ্যা, বেশ জটিল ক্রোমজোমের সজ্জা। আমি একজন চ্যনেলারের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছি যে, 7D -র সত্তারা অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক অ্যাঞ্জেলিক। সুতরাং ভেবে দেখ, তাদের কি জটিল ক্রোমজোমের বিন্যাস! তাদের গুণাবলী আমাদের ধারণারও উর্ধ্বে। এখন কিন্নরদের কথা ভাব। যদি তারা  5D এরও উর্ধ্বের সৃষ্টি হয়, এবং সেখান হতে 3D তে এসেছে সুর, বাদ্য আর নৃত্যের ঝংকারে অনুরণন ঘটাতে, কিন্তু প্রাপ্ত সম্মান না পেয়ে, প্রাপ্ত অধিকারের অভাবে তারা ভিক্ষা করে , ভাঁড়গিরি করে জীবন যাপন করছে।  কি কঠিন দুঃসহ তাদের জীবন। এই ইঙ্কারনেশানে পথ চলা তাদের জন্য কতটাই না দুর্বিষহ। সবকিছুতে শুধু বাধা আর তুচ্ছ তাচ্ছিল্য। 

-নিশ্চয়ই । এরা আমাদের কাছে, না পুরুষ না নারী । কিন্তু গোড়ায় যেখানে এরা সৃষ্ট হয়েছে, সেখানে কিন্নরদের-ও  স্ত্রী জাত আছে। তাদের বলে ‘কিন্নরী’। পুরাণ মতে, কিন্নররা সাধারণত হিমালয়ের কল্পিত গন্ধর্বপুর বা কুবেরের আলকা নগরীতে বাস করত। তাদের বাসস্থান ছিল দেবতাদের স্বর্গীয় রাজ্যে, বিশেষত হিমালয় পর্বতমালায়—গন্ধমাদন, কৈলাস, এবং মেরু পর্বতের আশেপাশে। এখনো বসবাস করে ।কিন্তু সেই উচ্চ ডাইমেনশান তো আমরা দেখতে পাই না। তাই না?  পুরাণে বলা আছে, দেবতারা যখন আনন্দ করেন, তখন কিন্নররা তাদের জন্য গান ও নাচ পরিবেশন করেন। গন্ধর্ব ও কিন্নর উভয়েই স্বর্গীয় সংগীতজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।

-ঠিকই ধরেছ। এদের ক্রোমোজম বিন্যাস, পুরাণ অনুসারে যদি ১০০+ হয় তাহলে বেশীর ভাগ বিন্যাসই তো আমাদের অজানা এবং misunderstood. খেয়াল করো, ব্রহ্মার সাত জন মনোজাত পুত্র ছিল।

-মনোজাত মানে? 

- জানি না, তবে আমার মনে হয় মনোজাত মানে manifested হওয়া, অভিব্যক্ত হওয়া। ব্রহ্মার সেই সাত মানসপুত্ররা হলো- ভৃগু, মরীচি, অত্রি, অঙ্গিরা, ক্রতু, পুলহ, পুলস্ত্য। মরীচি ও ক্রতুর কন্যা- অরুন্ধতীর মিলনে বিশ্ব সৃষ্টিতে বিভিনন্ন ধারায়  বংশের  উতপত্তি হয়। ভেবে নিলাম বংশ মানে প্রজাতি। এসব বংশের মাঝে রয়েছে দেবতা, অসুর, নাগ,অপ্সরা, প্রাণীকুল, ১০০+গন্ধর্ব/ কিন্নর, চিত্রসেন (যারা গায়ক জাতি)। এরা ক্রমান্বয়ে বিস্তৃতি লাভ করে সৃষ্টি জগতকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে। অর্থাৎ বহু রকমের  DNA সৃষ্টি হয়ে গেল ।তার মাঝে কিন্নর একটি প্রজাতি হিসেবে সৃষ্টি হলো। এরা ‘আধা-মানব, আধা-দেবতা’-র DNA এর সংমিশ্রণ।  পৌরাণিক ধারণায়, কিন্নররা স্বর্গীয় সংগীতজ্ঞ । এদের শরীরে মানুষ ও পাখির বৈশিষ্ট্য থাকে। কিন্নররা স্বর্গীয় রক্ষক (খোজা।) এরা সঙ্গীত, নৃত্য,সুর, সভা গায়কদের সাথে সম্পর্কযুক্ত কাজে পারদর্শী।

আবার অন্য দিক দিয়ে ভেবে দেখ, আমাদের প্ল্যানেট যখন উচ্চ ডাইমেনশানের দিকে এগুবে তখন পৃথিবী উৎস বা সোর্সের কাছাকাছি চলে আসবে। মানুষরা আর 3D  তে আবদ্ধ থাকবে না। তাদের মস্তিষ্কের left hemisphere, right hemisphere একই সাথে কার্যশীল হবে। তখন মানুষের মাঝে দুই সত্তা মানে নারী সত্তা, পুরুষ সত্তার উপরিপাতন হবে।  একই দেহে  দুটি সত্তা প্রকাশিত হয়ে, একই সঙ্গে কার্যশীল হবে।  ক্রোমজোমের গঠন নির্ঘাৎ এক থাকবে না। 

-এক থাকবে না। তাহলে কি 5D তে সব মানুষেরা ভাবেসাবে  কিন্নরদের মত হবে?

- হ্যা। এবং খেয়াল কর, সেই স্বর্গলোকের কিন্নর -এর প্রতিভূ এই ডাইমেনশানের কিন্নর। যদি দেবতাদের (ধরে নিলাম কোন একপ্রকার ET – দের ) ক্রোমজোম ওদের মাঝে থেকে তাহলে তাদের জটিল এই ক্রোমজমের বিন্যাসে দেবতাদের মতন সেই গুণটাও নিশ্চয়ই আছে?

- কোন গুণটা? সেই অভিশাপ দেয়ার ব্যাপার?

-হ্যা । সেই গুণ - তারা যদি কষ্ট পেয়ে মন থেকে শাপ দেয় তাহলে তা ফলে যায়।

-কি সাংঘাতিক!

-এই ডাইমেনশানে  DNA লক্ (অকার্যকর) থাকলে এই গুণ সুপ্ত থাকতে পারে। কিন্তু ১০০+ গন্ধর্ব/কিন্নর এর সৃষ্টি দেখে মনে হয় কমপক্ষে ১০০ প্রকার ক্রমোজম সজ্জা তৈরী হয়ে আছে LGBQT স্পেকট্রামে, যা আমরা জানি না। তবে আমরা যত উচ্চ ডাইমেনশানে উন্নীত হবো, ততই উৎসের দিকে ফিরে যেতে যেতে বহু ধরণের ক্রোমজোমের সজ্জা আমাদের কাছে প্রতীয়মান হবে।মানে প্রকৃতিতে অবস্থিত বহুধরণের সৃষ্টি অবলোকন করতে পারবো। উপরের দিকে পৌঁছুতে পৌঁছুতে  ব্রহ্মার সাত মানসপুত্রের দেখা পাব। তাদের বংশের সকল ধারা দেখতে পাব। কিন্নরদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্যসমূহ,গুণ, ক্ষমতা সম্বন্ধে জানতে পারবো। তারা আর আমাদের কাছে তাচ্ছিল্যের পাত্র হবে না ।এই 3-ডাইমেনশানে তাদের ভাঁড়ামি করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে না। তারা নিজেরাও জানবে তারা কোথা থেকে আগত। তারা জানবে যে তারা কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়া পথচ্যুত উল্কা পিন্ড নয়। তাদের এইরূপ অস্বাভাবিক দৈহিক গঠন নিয়ে পৃথিবীতে আসার কি কারণ তা জানতে পারলে কেউ –ই তাদেরকে তাদের প্রাপ্ত সম্মান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না।তারা আর হাসি ঠাট্টার পাত্র  হবে না। তাদেরকে তামাশা করে, মানবেতর জীবন যাপন করে বাঁচতে হবে না।

.....।.।

১৩/০৭/২০২৬ 

2 comments:

  1. ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:২৭০

    স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: "এখন এক অদম্য উন্মাদনা চলছে!
    আমি আর সহ্য করতে পারছি না,
    আমার জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পেয়েছে,
    এই ভয়ঙ্কর ভঙ্গিতে আমার আত্মা স্তম্ভিত!
    "রাজা সুগ্রীব হেসে বললেন, “একে ভঙ্গি বলছ কেন?
    ভালো করে দেখ, বন্ধু, এটা স্পষ্টতই একটা নাচ!”
    কিন্তু জাম্ববান প্রচণ্ড রাগে গর্জে উঠে বললেন,
    “তুমি এটাকে ব্যালে বলছ? তুমি এটাকে প্রেমলীলা বলছ?
    এটা কোনো নাচ নয়—এটা বানরের লাফালাফি!”
    !

    ReplyDelete
    Replies
    1. ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২০০
      লেখক বলেছেন: কার উক্তি?
      সুন্দর তো

      Delete

শায়েরী

 ফুল যখন ফুটলো তখন সুবাস নেবার কেউ নেই। ** জীবনের ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো থেকে জীবন বঞ্চিত করেছে কিন্তু