একবার ধরতে পারলে


কলার বোনটা যখন ব্লাউজের ফাঁক দিয়ে প্রমিনেন্ট হতো, লিজার্ড আঁতকে উঠে উল্টো দিকে কাত হয়ে পড়ে যেত।

 এই মরোক্কর বেদুইন সুন্দরী তার সামনে এলো কোথা থেকে ?

ভাগ্যে তো জুটে শুটকি মাছ। পচী।

 নিজে যেমন পচা শুটকি, তেমনি একটা দুর্গন্ধময় শুটকিকে নিয়ে তার ইটিশ পিটিশ। ঘর করে না ওর সাথে। নাকি করে কে জানে? ঘরে তো কেউ থাকতেই চায় না তার সাথে। কিন্তু এক ঘন্টার জন্য কি মৌটুসীকে ডেকে তার ঘরে নিয়ে যাওয়া যাবে না? কায়দা করতে হবে । বুদ্ধি আঁটতে হবে। অবশ্য বুদ্ধিতে তার থেকে পারদর্শী আর কে আছে?

 আজ যদিও পচী, শুটকিকে বলেছে তাকে নিয়ে যেতে হবে কলেজে । প্রফেসর অজিত রয় চৌধুরীর সাথে দেখা করবে। এম.ফিলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায় কিনা সেটা আলাপ করবে। এবার বলে প্রচুর ছেলেমেয়ে এম.ফিলে ভর্তি হয়েছে। রেকর্ড নাম্বার। তার মাঝে অম্বার ভাইয়ের যে বউটা আছে না রত্না, সেও ভর্তি হয়েছে। প্রফেসর লিজার্ড কলেজে যাওয়ার পথে পচীকে নিয়েই কলেজে যাবে। প্রফেসর অজিতের অফিস তো তার কক্ষের পাশেই। বেশি দূরে না। সুতরাং অসুবিধা কি? 

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখে পাউডার মাখতে মাখতে পিছনে ফিরে তাকাল পচী। ধোঁয়ায় টান দিতে দিতে আনমোনা হয়ে পচীর দিকে তাকিয়ে  লিজার্ড তাকে দেখছে আর  ভাবছে, ‘এ কেমন জিনিস জুটে আমার ভাগ্যে? পচীর বুকটা তো একেবারেই সমান। খায় না ? নাকি অপুষ্টিতে ভুগে  এই অবস্থা হয়েছে তার, কে জানে! তবে তাকে স্লিম বলা যায় না। শুটকি মানে তো শুটকি।‘

 এসব ভাবতে ভাবতেই পচী তার দিকে তাকালো। বলে উঠলো, ‘কি ভাবছো আনমোনা হয়ে?

 লিজার্ডের একটাই উত্তর, ‘রেডি হয়ে থাকলে চলো।‘ 

দুজনে রিক্সা করে ঘটর মটর করে কলেজে এসে হাজির হতেই প্রিন্সিপালের ল্যাবে  লিজার্ডের ডাক পড়ল। প্রিন্সিপালের ল্যাবেই অম্বার ভাইয়ের ওই বউটি আছে না রত্না, সে সম্প্রতি কাজ নিয়েছে। ল্যাবের সামনেই দাঁড়ানো সে। লিজার্ড পচীর কানে কি যেন বলল। রত্না বুঝতে পারলো না। ল্যাবে ঢুকে  লিজার্ড মহাশয় অধ্যক্ষের সাথে কথা বলতে শুরু করল। তাই  ল্যাবের একটু বাইরের দিকে দাঁড়িয়ে আছে রত্না। পচীর দিকে তাকিয়ে রত্না ভাবতে শুরু করল, ‘এটাই কি প্রফেসর লিজার্ডের স্ত্রী? কিন্তু ঐ মহিলা বলে তাকে ছেড়ে গেছে। চলে যাবার সময়ে কলেজে এসে সব শিক্ষকদের বলে গেছে তার স্বামীর কথা। স্বামী প্রবর সারাক্ষণ সিগারেটের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। তাই  তার স্ত্রীর প্রতি কোন আকর্ষণ অনুভব করেনা।'  

এমন কিছুই তো শুনেছিল রত্না। তাহলে এই সাত সকালে প্রফেসরের সাথে কলেজে আসা এই পচা শুটকি  মার্কা মহিলাটা কে? 

ওরে বাবা! 

কেমন যেন ডাইনির মত করে রত্নাকে দেখছে। 

রত্নাকে চেনে নাকি? নাকি লিজার্ড মহাশয়  ল্যাবে প্রবেশ করার প্রাক্কালে পচীকে বলে গেছে,  ‘এটাই সেই মেয়ে। অম্বার ভাইয়ের বউ - রত্না।‘

অম্বা তাদের  পারিবারিক পর্যায়ের প্রিয় এক বন্ধু। লিজার্ডের স্ত্রী আর অম্বা মিলে রত্নার গল্প করে লিজার্ডের কান ঝালাপালা করে দিয়েছিল একবার। রত্না  তো লিজার্ডের কলেজেরই  ছাত্রী। মানে তারই তো ছাত্রী। সুতরাং  এই ছাত্রীর ঘাড়টা মটকানো এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া লিজার্ডের জন্য কোন ব্যাপারই না। তার বদলে কি পাবে প্রফেসর?  অম্বার বাবা লিজার্ডকে লক্ষ লক্ষ টাকা দিবে। 

অম্বার বাবার এতে আগ্রহ কেন? 

কারণ অম্বার বাবা বহু আগ্রহ করে তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে বিয়ে দিয়েছিল রত্নার সাথে। ছেলের বউ বলে কথা। চাকরের মত থাকবে, মুখে একটা টু শব্দ করবে না- তা না- বউখানা কিনা ভেগে গেল? তার শ্বশুরের সকল প্ল্যান ভেস্তে দিয়ে ভেগে গেল! চেয়েছিল, ছেলে যেহেতু  লায়েক না, সে নিজে ছেলের বউকে ঘরে আটকে একদিন খেয়ে দিলেই তো সব কাজ সারা হয়ে যাবে। পেটে বাচ্চা এনে দিলে ছেকের বউ কি আর মুখ খুলবে? তার প্রতিবন্ধী ছেলেটার না হয়ে এই ফাঁকে কপাল খুলে যাবে। 

কিন্ত্য রত্না হাত থেকে ফস্কে গেলে প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত  শ্বশুর লিজার্ডের সহায়তা চেয়েছিল।  এসব প্ল্যানে প্রফেসর লিজার্ড বেশ সাহায্য করেছে শ্বশুরকে।  এক সাবজেক্টে গোল্লাও পাইয়ে দিয়েছে রত্নাকে। পচী সব জানে। তাই রত্নাকে কলেজের এই অন্ধকার করিডোরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে একভাবে  দেখছে আর ভাবছেঃ কত কথাই না  শুনেছি এতদিন। আমরা সবাই মিলে কর্মও করেছি।  আর আজ সেই মেয়েটিকে দেখার সুযোগ হলো! বাবারে বাবা! মেয়েটার কি মাংস গা ভর্তি। কোন চাউলের ভাত খায় মেয়েটা? আমার গায়ে এত মাংস নাই কেন? মাংস থাকলে আজ লিজার্ড মহাশয়কে তো মুখে ভরে দিতে পারতাম সব। সুখেও ভরে দিতে পারতাম । 

পচীর  রানওয়ের মতো সমান বুকটা তখন কিছুটা না হয় উঁচু থাকতো। তার শুটকি মাছের মতন হাত –পাগুলোর  চামড়া টানটান থাকতো। গালে মুখে চর্বি থাকতো। ফেস পাউডার মাখলে তা সার্থক হতো। 

কিন্তু পচীর  কিছুই তো হলো না। এর মাঝেই অধ্যক্ষের ল্যাব থেকে প্রফেসর লিজার্ড বের হলেন। তার কথা শেষ। পচীকে নিয়ে এবার তিনি তার কক্ষে চলে যাবেন।  রত্নাকে চিনিয়ে দেবার জন্য  পচীকে নিয়ে  হাঁটতে হাঁটতে পিছন ফিরে তাকালেন। কিছু একটা বললেন। রত্না তাদের এসব কর্মকাণ্ড দেখে শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। কলেজের ক্লাসরুমের সামনে এক প্রফেসর তার বগল-দাবা করে আনা,  তার হাঁটু অব্দি  লম্বা কোন মহিলার কানের কাছে মুখ নিয়ে  ফিসফিস করে কথা বলে  চলছে , আর তাদের  সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছাত্রীকে দেখিয়ে দিচ্ছে। এই কর্মকান্ডগুলো যে তারা ঘটাচ্ছে তা  কেমন দেখায়, এ বিষয়ে তাদের হুঁশ কি কাজ করছে না? 

সব হুঁশ তারা নিমেষে যেন হারিয়ে ফেলছে। রত্না তাহলে সাধারণ ছাত্রী নয়!  রত্না হয়তো বা তাদের কোন এক গোপন গল্পের নায়িকা। 

এই ভাবনায় রত্নার বেশ আফসোস লাগলো। লিজার্ড সাপের মত পেঁচানো ভীষণ ছিপছিপে লম্বা একজন ব্যক্তি। কলেজে সে ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তি। মুখে সবসময় নায়ক সুলভ সিগারেটের ধোঁয়া উড়েই চলছে। অমায়িক ব্যবহার । টের পাবার কোন উপায় নেই তার সাপের মতন লিকলিকে মানসিকতা। পাশে তার বগল দাবা করা আরো একটা তারই মতন শুটকি মাছ। শুটকির ভাগ্যে শুটকিই জুটে। যা তার ভাল লাগে না। তাই বিভাগের সুন্দরী ছাত্রী মরোক্কান সেই বেদুইন সুন্দরীর  কলার বোন, কোমরের বাঁক, শাড়ি পড়ার দিনে তার আঁচলের ফাঁক দিয়ে পেটের মসৃণ চামড়ার  নিচে নাভির  এক ঝলক  দেখে ফেলা , তার ভেতরের ফণাটাকে  হিসহিস করে  তোলে।  তখন লিজার্ডের শুধু ওই একটা কথাই মনে পড়ে - পচীর  সামনে পিছনের সমান শরীরখানা। আজকাল যত বয়স বাড়ছে তত  আর কেন জানি তার এসব ভালো লাগছে না। এমনকি মৌটুসীকে বাস্তবে হাতাতে না পারলেও, তাকে কল্পনা করে যে শুটকিকে ছুঁবে সে রুচিও  আর হচ্ছে না। প্রাক্তন স্ত্রী কলেজের  সবাইকে বলে গেছে  লিজার্ড  মহাশয় অক্ষম। একেবারেই অক্ষম। কিন্তু লিজার্ড  নিজে জানে সে কতটা সক্ষম। যদি মৌটুসীকে কায়দা করে একবার, তার কিলবিলে শরীর দিয়ে জাপটে ধরতে পারে, তাহলে তাকে পাটিসাপ্টার মতন করে এমন চাপ্টা করে দেবে, যে কেউ বলতে পারবে না  সে, অক্ষম।


No comments:

Post a Comment

ব্লগে আমার ১৮ বছর পূর্তি

এমনি একদিন  ২০০৭ । অনলাইন   একটি ই- ম্যাগাজিন সম্পাদনার কাজ করি। অবনী অনার্য  পাকা লেখক। তার থেকে লেখা নিয়ে আমার ই- ম্যাগাজিন সমৃদ্ধ। যার  হ...